কিডনিতে পাথর: লক্ষণ, কারণ, কী পরীক্ষা করবেন, চিকিৎসা ও কোন ডাক্তার দেখাবেন

Doctors24 Editorial TeamAugust 11, 2026
কিডনিতে পাথর: লক্ষণ, কারণ, কী পরীক্ষা করবেন, চিকিৎসা ও কোন ডাক্তার দেখাবেন
Key Overview

"কিডনিতে পাথর (Kidney Stone) একটি সাধারণ মূত্রনালির সমস্যা, যেখানে প্রস্রাবে থাকা কিছু খনিজ ও লবণ জমে কিডনি বা মূত্রনালিতে শক্ত পাথরের মতো পদার্থ তৈরি হয়। ছোট প..."

কিডনিতে পাথর (Kidney Stone) একটি সাধারণ মূত্রনালির সমস্যা, যেখানে প্রস্রাবে থাকা কিছু খনিজ ও লবণ জমে কিডনি বা মূত্রনালিতে শক্ত পাথরের মতো পদার্থ তৈরি হয়। ছোট পাথর অনেক সময় কোনো চিকিৎসা ছাড়াই প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। তবে বড় পাথর মূত্রনালিতে আটকে গেলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবের সমস্যা, রক্তপাত বা সংক্রমণ হতে পারে।

একবার কিডনিতে পাথর হলে ভবিষ্যতে আবার পাথর হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই শুধু পাথর অপসারণ নয়, কেন পাথর হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কিডনিতে পাথর কী?

প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড ও অন্যান্য খনিজের ঘনত্ব বেড়ে গেলে এগুলো ছোট ছোট ক্রিস্টাল তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে এসব ক্রিস্টাল একত্রিত হয়ে কিডনিতে পাথর তৈরি করতে পারে।

পাথর কিডনির ভেতরে থাকলে অনেক সময় কোনো উপসর্গ থাকে না। কিন্তু পাথর মূত্রনালিতে নেমে আটকে গেলে প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে তীব্র ব্যথা ও অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

কিডনিতে পাথর কেন হয়?

কিডনিতে পাথর তৈরির পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণ কারণগুলো হলো—

  • পর্যাপ্ত পানি না পান করা

  • অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ

  • বেশি প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়া

  • কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অক্সালেটযুক্ত খাবার গ্রহণ

  • স্থূলতা

  • পারিবারিক ইতিহাস

  • আগে কিডনিতে পাথর হওয়া

  • কিছু বিপাকীয় রোগ

  • বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ

  • হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম বা গাউটের মতো কিছু রোগ

  • কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার

  • গরম পরিবেশে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল না খাওয়া

তবে সব রোগীর পাথর তৈরির কারণ একই নয়। বারবার পাথর হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পাথরের ধরন ও ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষা করে কারণ শনাক্ত করতে পারেন।

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ

পাথরের আকার, অবস্থান এবং মূত্রনালিতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে কি না—এসবের ওপর লক্ষণ নির্ভর করে। ছোট পাথরে অনেক সময় কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে।

সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

  • কোমর বা পিঠের এক পাশে তীব্র ব্যথা

  • ব্যথা তলপেট বা কুঁচকিতে ছড়িয়ে পড়া

  • ব্যথা কিছুক্ষণ পরপর তীব্র হওয়া

  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া

  • প্রস্রাবে রক্ত

  • বারবার প্রস্রাবের বেগ

  • অল্প অল্প করে প্রস্রাব হওয়া

  • বমি বমি ভাব বা বমি

  • প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া

কিডনিতে পাথরের ব্যথা কেমন?

কিডনির পাথরের ব্যথাকে Renal Colic বলা হয়। সাধারণত কোমর বা পিঠের এক পাশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পাথর মূত্রনালির দিকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা তলপেট, কুঁচকি বা যৌনাঙ্গের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে।

ব্যথা অনেক সময় ঢেউয়ের মতো আসে এবং তীব্রতা ওঠানামা করতে পারে। রোগী অস্থির হয়ে পড়তে পারেন এবং আরামদায়ক অবস্থান খুঁজে পেতে বারবার নড়াচড়া করতে পারেন।

তবে শুধু ব্যথার ধরন দেখে নিশ্চিতভাবে কিডনিতে পাথর শনাক্ত করা যায় না। একই ধরনের ব্যথা অন্য রোগেও হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা জরুরি।

কখন কিডনির পাথর নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

কিডনিতে পাথরের সন্দেহ বা পরিচিত পাথরের সঙ্গে নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত—

  • জ্বর বা কাঁপুনি

  • তীব্র ও অসহনীয় ব্যথা

  • প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া

  • বারবার বমি হওয়া এবং পানি রাখতে না পারা

  • প্রস্রাবের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্ত যাওয়া

  • একটি মাত্র কিডনি থাকা এবং পাথরের লক্ষণ দেখা দেওয়া

  • আগে থেকেই কিডনির কার্যকারিতার সমস্যা থাকা

  • তীব্র ব্যথার সঙ্গে খুব দুর্বল বা অসুস্থ বোধ করা

বিশেষ করে মূত্রনালিতে বাধার সঙ্গে সংক্রমণ থাকলে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

কিডনিতে পাথর হলে কী করবেন?

কিডনিতে পাথরের সন্দেহ হলে—

  • চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • চিকিৎসক পানি সীমিত করতে না বললে পর্যাপ্ত তরল পান করুন।

  • ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিন।

  • প্রস্রাবের সঙ্গে পাথর বের হলে সম্ভব হলে সেটি সংরক্ষণ করে চিকিৎসককে দেখাতে পারেন।

  • খাবারে অতিরিক্ত লবণ কমান।

  • নিজে থেকে দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

  • বড় পাথর বা মূত্রনালিতে বাধা থাকলে শুধু পানি খেয়ে অপেক্ষা করবেন না।

  • জ্বর, কাঁপুনি বা প্রস্রাব বন্ধ হলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

কিডনিতে পাথর হলে কী কী পরীক্ষা করবেন?

রোগীর লক্ষণ, পাথরের সম্ভাব্য অবস্থান এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে পারেন।

প্রস্রাব পরীক্ষা

Urinalysis-এর মাধ্যমে প্রস্রাবে রক্ত, সংক্রমণের লক্ষণ, ক্রিস্টাল ও অন্যান্য অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।

প্রয়োজনে প্রস্রাবের সংক্রমণ শনাক্ত করতে Urine Culture-ও করা হতে পারে।

রক্ত পরীক্ষা

কিডনির কার্যকারিতা এবং পাথর তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু উপাদান মূল্যায়নের জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে। যেমন—

  • Creatinine

  • ক্যালসিয়াম

  • ইউরিক অ্যাসিড

  • অন্যান্য প্রয়োজনীয় রক্তের উপাদান

আল্ট্রাসনোগ্রাম

Ultrasound of KUB কিডনিতে পাথর, কিডনিতে প্রস্রাব জমে ফুলে যাওয়া বা Hydronephrosis এবং মূত্রনালিতে বাধার কিছু লক্ষণ শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয়।

CT KUB

Non-contrast CT KUB অনেক ক্ষেত্রে কিডনির পাথরের অবস্থান, আকার এবং মূত্রনালিতে বাধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে বা আল্ট্রাসনোগ্রামে পরিষ্কার তথ্য না পাওয়া গেলে চিকিৎসক CT বিবেচনা করতে পারেন।

X-ray KUB

কিছু ধরনের পাথর এক্স-রেতে দেখা যায়। তাই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পাথর শনাক্ত বা পরবর্তী ফলো-আপে X-ray KUB ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সব ধরনের কিডনি পাথর এক্স-রেতে দেখা যায় না।

২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষা

বারবার কিডনিতে পাথর হলে পাথর তৈরির ঝুঁকি মূল্যায়নে 24-hour urine test করা হতে পারে। এতে প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড, সাইট্রেটসহ বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা মূল্যায়ন করা যায়।

পাথর বিশ্লেষণ

পাথর প্রস্রাবের সঙ্গে বের হলে বা চিকিৎসার মাধ্যমে অপসারণ করা হলে এর রাসায়নিক গঠন পরীক্ষা করা যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে পাথর প্রতিরোধের জন্য খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসা পরিকল্পনা আরও নির্দিষ্ট করা যায়।

কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা

কিডনির পাথরের চিকিৎসা নির্ভর করে—

  • পাথরের আকার

  • পাথরের অবস্থান

  • পাথরের ধরন

  • উপসর্গের তীব্রতা

  • মূত্রনালিতে বাধা আছে কি না

  • সংক্রমণ আছে কি না

  • কিডনির কার্যকারিতা

ছোট পাথরের চিকিৎসা

ছোট পাথর অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে নিজে থেকেই প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং ফলো-আপের প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পাথর মূত্রনালি দিয়ে বের হতে সহায়তা করার জন্য চিকিৎসক নির্দিষ্ট ওষুধ দিতে পারেন।

ব্যথা নিয়ন্ত্রণ

কিডনির পাথরের ব্যথা কমাতে চিকিৎসক উপযুক্ত ব্যথানাশক দিতে পারেন। কোন ওষুধ ব্যবহার করা নিরাপদ হবে তা কিডনির কার্যকারিতা, বয়স, অন্যান্য রোগ এবং ব্যবহৃত ওষুধের ওপর নির্ভর করে।

শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি (SWL)

Shock Wave Lithotripsy (SWL)-এ শরীরের বাইরে থেকে শক ওয়েভ ব্যবহার করে পাথরকে ছোট টুকরায় ভেঙে দেওয়া হয়। পরে ছোট টুকরাগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে।

ইউরেটেরোস্কপি

Ureteroscopy-তে মূত্রনালির মাধ্যমে একটি সরু যন্ত্র প্রবেশ করিয়ে পাথর বের করা বা লেজার ব্যবহার করে পাথরকে ছোট টুকরায় ভেঙে দেওয়া হয়।

PCNL

Percutaneous Nephrolithotomy (PCNL) সাধারণত বড় বা জটিল কিডনি পাথরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এতে পিঠের দিকে ছোট একটি পথ তৈরি করে বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পাথর অপসারণ করা হয়।

কোন পদ্ধতি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা পাথরের আকার, অবস্থান, ধরন ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

কিডনিতে পাথর হলে কী কী খাবেন?

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন খাবার কতটা কমাতে হবে তা পাথরের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

সাধারণভাবে—

  • পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করুন।

  • খাবারে অতিরিক্ত লবণ কমান।

  • অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন সীমিত করুন।

  • অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত ও উচ্চ-সোডিয়াম খাবার কমান।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্দিষ্ট খাবার সম্পূর্ণ বাদ দেবেন না।

  • খাবার থেকে স্বাভাবিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ সাধারণত সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

বিশেষ করে ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার নিজে থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া উচিত নয়। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টও নেওয়া উচিত নয়।

বারবার পাথর হলে পাথরের ধরন এবং ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা দিতে পারেন।

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের উপায়

একবার কিডনিতে পাথর হওয়ার পর ভবিষ্যতে আবার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঝুঁকি কমাতে—

  • নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

  • অতিরিক্ত লবণ কমান।

  • স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন।

  • অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন এড়িয়ে চলুন।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।

  • পাথরের ধরন জানা থাকলে সেই অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করুন।

  • বারবার পাথর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষা করান।

কিডনিতে পাথর হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?

কিডনিতে পাথরের জন্য প্রধানত ইউরোলজিস্ট (Urologist)-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে পাথর মূত্রনালিতে আটকে গেলে, তীব্র ব্যথা হলে বা পাথর অপসারণের প্রয়োজন হলে ইউরোলজিস্ট চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন।

প্রয়োজনে আরও যেসব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ লাগতে পারে—

  • ইউরোলজিস্ট: পাথর, মূত্রনালির বাধা এবং পাথর অপসারণের চিকিৎসায় প্রধান বিশেষজ্ঞ।

  • নেফ্রোলজিস্ট: বারবার পাথর হওয়া, কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া বা জটিল কিডনি সমস্যায় পরামর্শ দিতে পারেন।

  • ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ: প্রাথমিক মূল্যায়ন ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে পারেন।

কিডনিতে পাথরের সন্দেহ হলে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই সাধারণত সবচেয়ে উপযুক্ত।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

কিডনিতে পাথর হলে কি সবসময় অপারেশন করতে হয়?

না। ছোট পাথর অনেক সময় নিজে থেকেই প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। তবে বড় পাথর, মূত্রনালিতে বাধা, সংক্রমণ, কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ থাকলে পাথর অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনিতে পাথরের ব্যথা কোথায় হয়?

সাধারণত কোমর বা পিঠের এক পাশে তীব্র ব্যথা হয়। পাথর মূত্রনালির দিকে নামলে ব্যথা তলপেট বা কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে।

কিডনিতে পাথর হলে কত পানি পান করতে হবে?

সবার জন্য একই পরিমাণ পানি প্রযোজ্য নয়। সাধারণভাবে পর্যাপ্ত তরল পান করে প্রস্রাব পাতলা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিডনি, হার্ট বা অন্য কোনো রোগের কারণে পানি সীমিত করার নির্দেশ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে হবে।

কিডনির পাথর কি নিজে থেকে বের হয়ে যায়?

ছোট পাথর অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে নিজে থেকেই বের হয়ে যেতে পারে। পাথরের আকার ও অবস্থানের ওপর এটি বের হওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।

কিডনিতে পাথর হলে কী খাবেন না?

অতিরিক্ত লবণ, অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন এবং উচ্চ-সোডিয়াম প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো উপকারী। পাথরের ধরন অনুযায়ী কিছু নির্দিষ্ট খাবারও সীমিত করতে হতে পারে।

কিডনিতে পাথর হলে দুধ বা ক্যালসিয়াম খাওয়া যাবে?

খাবার থেকে স্বাভাবিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম সাধারণত সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টও নেওয়া উচিত নয়।

কিডনিতে পাথর হলে কোন পরীক্ষা সবচেয়ে ভালো?

একটি পরীক্ষা সবার জন্য সবচেয়ে ভালো নয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পরীক্ষা নির্বাচন করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর Non-contrast CT KUB পাথরের অবস্থান, আকার এবং মূত্রনালিতে বাধা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারে।

কিডনিতে পাথর হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?

কিডনির পাথরের জন্য সাধারণত ইউরোলজিস্ট দেখানো সবচেয়ে উপযুক্ত। বারবার পাথর হওয়া বা কিডনির কার্যকারিতা নিয়ে সমস্যা থাকলে নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শও প্রয়োজন হতে পারে।

সঠিক বিশেষজ্ঞ খুঁজে নিন

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ থাকলে দেরি না করে একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। আপনার এলাকার উপযুক্ত বিশেষজ্ঞ খুঁজে পেতে Doctors24-এর Doctors Directory ব্যবহার করতে পারেন।

মেডিক্যাল ডিসক্লেইমার

এই নিবন্ধটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি এবং এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। কিডনিতে পাথরের সন্দেহ থাকলে ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তীব্র ব্যথা, জ্বর বা কাঁপুনি, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, বারবার বমি বা অন্য কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

Content prepared by: Doctors24 Editorial Team

Medical information is verified using registered doctor data and trusted healthcare sources

Information sources: Public records, hospital data, and provided credentials

Published At: August 11, 2026

Last updated: August 11, 2026 Read Editorial Policy →

Related Urologist Articles

View all →

Related Urologist Videos

View all →