Kidney Function Test (KFT): কেন করা হয়, কী কী পরীক্ষা থাকে, রিপোর্টের সাধারণ ধারণা ও নরমাল মান

Doctors24 Editorial TeamAugust 5, 2026
kidney-function-test-kft-infographic
Key Overview

"Kidney Function Test (KFT) হলো একগুচ্ছ রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা, যার মাধ্যমে কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত পরিশোধন করছে, শরীরের বর্জ্য অপসারণ করছে এবং ইলেক্ট্রোলাইট..."

Kidney Function Test (KFT) হলো একগুচ্ছ রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা, যার মাধ্যমে কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত পরিশোধন করছে, শরীরের বর্জ্য অপসারণ করছে এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখছে তা মূল্যায়ন করা হয়। কিডনি রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসার ফলাফল মূল্যায়নে KFT অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুত্বপূর্ণ: KFT কোনো একক পরীক্ষা নয়। এতে সাধারণত Serum Creatinine, eGFR, Blood Urea Nitrogen (BUN)/Urea, Electrolytes এবং প্রয়োজনে Urine Albumin-to-Creatinine Ratio (uACR)-এর মতো একাধিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে।


Kidney Function Test (KFT) কী?

KFT হলো কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত একাধিক পরীক্ষার সমষ্টি।

এই পরীক্ষাগুলো থেকে জানা যায়—

  • কিডনি ঠিকমতো রক্ত পরিশোধন করছে কি না

  • কিডনির ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কি না

  • শরীরে পানি ও লবণের ভারসাম্য ঠিক আছে কি না

  • দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (CKD) আছে কি না


সংক্ষেপে (Quick Facts)

বিষয়

তথ্য

পরীক্ষার নাম

Kidney Function Test (KFT)

নমুনা

রক্ত ও প্রয়োজনে প্রস্রাব

প্রধান উদ্দেশ্য

কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন

গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

Serum Creatinine, eGFR, Urea/BUN, Electrolytes, uACR

কোন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন

Nephrologist, Internal Medicine Specialist


Kidney Function Test কেন করা হয়?

চিকিৎসক KFT করার পরামর্শ দিতে পারেন যদি—

  • ডায়াবেটিস থাকে

  • উচ্চ রক্তচাপ থাকে

  • কিডনি রোগের লক্ষণ থাকে

  • প্রস্রাবে প্রোটিন বা রক্ত পাওয়া যায়

  • শরীর ফুলে যায়

  • প্রস্রাব কমে যায়

  • কিডনির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়

  • দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ফলো-আপ প্রয়োজন হয়


Kidney Function Test-এ কী কী পরীক্ষা থাকে?

১. Serum Creatinine

Creatinine হলো পেশির স্বাভাবিক বিপাকীয় বর্জ্য, যা কিডনি শরীর থেকে বের করে দেয়।

Creatinine বেড়ে গেলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।


২. Estimated Glomerular Filtration Rate (eGFR)

eGFR হলো কিডনি প্রতি মিনিটে কত মিলিলিটার রক্ত পরিশোধন করছে তার একটি আনুমানিক হিসাব।

সাধারণভাবে—

eGFR

সাধারণ ধারণা

≥ 90 mL/min/1.73m²

স্বাভাবিক বা প্রায় স্বাভাবিক (যদি কিডনি ক্ষতির অন্য প্রমাণ না থাকে)

60–89

সামান্য কম (প্রেক্ষাপট অনুযায়ী মূল্যায়ন প্রয়োজন)

<60 (৩ মাস বা তার বেশি সময় ধরে)

দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (CKD)-এর সম্ভাবনা

শুধুমাত্র eGFR নয়, Albuminuria (uACR)-ও একসঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়।


৩. Blood Urea Nitrogen (BUN) বা Blood Urea

Urea হলো প্রোটিন বিপাকের একটি বর্জ্য পদার্থ।

এটি বাড়তে পারে—

  • কিডনি রোগে

  • পানিশূন্যতায়

  • অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে

  • কিছু ওষুধের কারণে

শুধুমাত্র Urea দেখে কিডনি রোগ নির্ণয় করা যায় না।


৪. Electrolytes

সাধারণত পরীক্ষা করা হয়—

  • Sodium (Na⁺)

  • Potassium (K⁺)

  • Chloride (Cl⁻)

  • Bicarbonate (HCO₃⁻)

কিডনির রোগে এসবের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে।


৫. Urine Albumin-to-Creatinine Ratio (uACR)

এটি প্রস্রাবে অল্প পরিমাণ Albumin শনাক্ত করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে uACR অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


KFT রিপোর্টের সাধারণ ধারণা

Serum Creatinine বেশি হলে

সম্ভাব্য কারণ—

  • Acute Kidney Injury (AKI)

  • Chronic Kidney Disease (CKD)

  • পানিশূন্যতা

  • কিছু ওষুধ


eGFR কম হলে

সম্ভাব্য কারণ—

  • কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া

  • দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ

  • বয়সজনিত পরিবর্তন (কিছু ক্ষেত্রে)


Urea বেশি হলে

সম্ভাব্য কারণ—

  • পানিশূন্যতা

  • কিডনি রোগ

  • অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ

  • অন্ত্র থেকে রক্তপাত (কিছু ক্ষেত্রে)


Potassium বেশি হলে

এটি গুরুতর হতে পারে, কারণ হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দে সমস্যা তৈরি করতে পারে।


Kidney Function Test-এর নরমাল মান

রেফারেন্স মান ল্যাবভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

সাধারণভাবে—

পরীক্ষা

সাধারণ রেফারেন্স রেঞ্জ*

Serum Creatinine

পুরুষ: ০.৭–১.৩ mg/dL, নারী: ০.৬–১.১ mg/dL

eGFR

≥ 90 mL/min/1.73m² (স্বাভাবিক, যদি অন্য কিডনি ক্ষতির প্রমাণ না থাকে)

Blood Urea

ল্যাবভেদে ভিন্ন

Sodium

১৩৫–১৪৫ mmol/L

Potassium

৩.৫–৫.০ mmol/L

* গুরুত্বপূর্ণ: সবসময় আপনার রিপোর্টে দেওয়া Reference Range-কে অগ্রাধিকার দিন।


KFT-এর সঙ্গে আর কী পরীক্ষা করা হতে পারে?

প্রয়োজনে চিকিৎসক করতে পারেন—

  • Complete Blood Count (CBC)

  • Urinalysis

  • Urine Protein বা uPCR

  • Kidney Ultrasound

  • Blood Sugar

  • HbA1c

  • Lipid Profile

  • Kidney Biopsy (নির্বাচিত ক্ষেত্রে)


পরীক্ষার আগে কী প্রস্তুতি লাগে?

সাধারণত—

  • অধিকাংশ KFT-এর জন্য খালি পেটে থাকার প্রয়োজন হয় না।

  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন (যদি চিকিৎসক ভিন্ন নির্দেশ না দেন)।

  • চলমান ওষুধ সম্পর্কে চিকিৎসককে জানান।

  • কিছু ক্ষেত্রে Creatinine পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া বা ভারী ব্যায়াম এড়াতে বলা হতে পারে।


কী করবেন না?

  • শুধুমাত্র Creatinine দেখে নিজে থেকে কিডনি রোগের সিদ্ধান্ত নেবেন না।

  • রিপোর্ট দেখে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া Painkiller (NSAIDs) দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না।

  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ অবহেলা করবেন না।


কখন Nephrologist-এর কাছে যাবেন?

অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন যদি—

  • Creatinine বারবার বেশি আসে

  • eGFR ৬০-এর নিচে থাকে (বিশেষ করে ৩ মাস বা তার বেশি সময়)

  • প্রস্রাবে প্রোটিন বা রক্ত থাকে

  • শরীর ফুলে যায়

  • প্রস্রাব কমে যায়

  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে KFT অস্বাভাবিক আসে


প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

KFT কি খালি পেটে করতে হয়?

সাধারণত না। তবে আপনার চিকিৎসক বা ল্যাব ভিন্ন নির্দেশ দিলে সেটি অনুসরণ করুন।

Creatinine বেশি মানেই কি কিডনি নষ্ট?

না। পানিশূন্যতা, কিছু ওষুধ বা সাময়িক অন্যান্য কারণেও Creatinine বাড়তে পারে। তাই eGFR ও অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।

eGFR কম মানেই কি ডায়ালাইসিস লাগবে?

না। eGFR কম হওয়ার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। অধিকাংশ রোগীর ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হয় না।

KFT ও LFT কি একই পরীক্ষা?

না। KFT কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করে, আর LFT (Liver Function Test) লিভারের কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের কতদিন পরপর KFT করা উচিত?

সাধারণভাবে বছরে অন্তত একবার Serum Creatinine, eGFR এবং uACR পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে রোগের অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক আরও ঘন ঘন পরীক্ষা করতে বলতে পারেন।


মূল বিষয়গুলো (Key Takeaways)

  • KFT কিডনির স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য একাধিক পরীক্ষার সমষ্টি।

  • Serum Creatinine, eGFR এবং uACR কিডনি রোগ নির্ণয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

  • KFT রিপোর্ট সবসময় রোগীর উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়।

  • ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের নিয়মিত KFT করা উচিত।

  • প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে এর অগ্রগতি ধীর করা সম্ভব।


তথ্যসূত্র

  • Kidney Disease: Improving Global Outcomes (KDIGO)

  • National Kidney Foundation (NKF)

  • American Society of Nephrology (ASN)

  • National Institute for Health and Care Excellence (NICE)

  • American Diabetes Association (ADA)

  • World Health Organization (WHO)


Medical Review

গুরুত্বপূর্ণ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যশিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার Kidney Function Test (KFT) রিপোর্ট অস্বাভাবিক, Serum Creatinine বেড়ে গেলে, eGFR কমে গেলে, প্রস্রাবে প্রোটিন পাওয়া গেলে বা কিডনি রোগের লক্ষণ থাকলে একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ (Nephrologist) অথবা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (Internal Medicine Specialist)-এর পরামর্শ নিন। চিকিৎসক Serum Creatinine, eGFR, Urea, Electrolytes এবং uACR-এর ফলাফল একসঙ্গে মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ফলো-আপ পরিকল্পনা করবেন।

এই নিবন্ধটি Kidney Disease: Improving Global Outcomes (KDIGO), National Kidney Foundation (NKF), American Society of Nephrology (ASN), National Institute for Health and Care Excellence (NICE), American Diabetes Association (ADA) এবং World Health Organization (WHO)-এর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল নির্দেশিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্ভুল, প্রমাণভিত্তিক ও হালনাগাদ চিকিৎসা তথ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।

Content prepared by: Doctors24 Editorial Team

Medical information is verified using registered doctor data and trusted healthcare sources

Information sources: Public records, hospital data, and provided credentials

Published At: August 5, 2026

Last updated: August 5, 2026 Read Editorial Policy →

Related Nephrologist Articles

View all →

Related Nephrologist Videos

View all →