কিডনি ফাংশন টেস্ট (Creatinine, Urea): কখন করবেন, রিপোর্ট বুঝবেন কীভাবে

"কিডনি শরীরের রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে কিছু বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করতে পারে। এ কারণ..."
কিডনি শরীরের রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে রক্তে কিছু বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করতে পারে। এ কারণে কিডনির স্বাস্থ্য মূল্যায়নে Serum Creatinine, eGFR, Urea/BUN এবং Urine Albumin-to-Creatinine Ratio (UACR)-এর মতো পরীক্ষা করা হয়।
তবে শুধু Creatinine বা Urea-এর একটি রিপোর্ট দেখে কিডনি ভালো বা খারাপ—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (CKD) শনাক্ত করতে eGFR এবং প্রস্রাবে Albumin-এর তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি ফাংশন টেস্ট কী?
কিডনি কতটা ভালোভাবে রক্ত পরিশোধন করছে এবং কিডনির ক্ষতির কোনো লক্ষণ আছে কি না—তা মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়।
প্রধান পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
Serum Creatinine
eGFR
Urea বা BUN
Urine Routine Examination
Urine Albumin-to-Creatinine Ratio (UACR)
প্রয়োজনে Electrolytes
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে Kidney Ultrasound
এর মধ্যে Creatinine থেকে eGFR হিসাব করা হয়, আর UACR কিডনির ফিল্টারে ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
Serum Creatinine কী?
Creatinine হলো শরীরের পেশির স্বাভাবিক বিপাক থেকে তৈরি হওয়া একটি বর্জ্য পদার্থ। সুস্থ কিডনি রক্ত থেকে Creatinine ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।
কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে গেলে রক্তে Creatinine বেড়ে যেতে পারে। তবে Creatinine-এর মাত্রা শুধু কিডনির ওপর নির্ভর করে না; পেশির পরিমাণ, বয়স, খাদ্যাভ্যাস এবং অন্যান্য বিষয়ও এতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই Creatinine একা দেখে কিডনির কার্যকারিতা বিচার করা যথেষ্ট নয়।
eGFR কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
eGFR (estimated Glomerular Filtration Rate) হলো কিডনি প্রতি মিনিটে আনুমানিক কতটা রক্ত ফিল্টার করছে তার একটি হিসাব।
Serum Creatinine, বয়স ও অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে eGFR হিসাব করা হয়। বর্তমানে কিডনির কার্যকারিতা মূল্যায়নে eGFR একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
সাধারণভাবে রিপোর্টে—
eGFR | সাধারণ অর্থ |
|---|---|
90 বা তার বেশি | সাধারণত স্বাভাবিক বা ভালো ফিল্টারিং ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ |
60–89 | কিছু ক্ষেত্রে সামান্য কম; অন্য কোনো কিডনি ক্ষতির প্রমাণ আছে কি না দেখতে হয় |
30–59 | কিডনির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে থাকতে পারে |
15–29 | কিডনির কার্যকারিতা গুরুতরভাবে কমে গেছে |
15-এর নিচে | Kidney failure-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে |
তবে একটি eGFR রিপোর্ট দেখেই Chronic Kidney Disease (CKD) নিশ্চিত করা যায় না। সাধারণত eGFR কম থাকা বা কিডনি ক্ষতির অন্য প্রমাণ দীর্ঘ সময় ধরে থাকলে CKD বিবেচনা করা হয়।
Urea বা BUN কী?
Urea হলো প্রোটিন বিপাকের ফলে তৈরি হওয়া একটি বর্জ্য পদার্থ, যা মূলত কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়। কিছু ল্যাব BUN (Blood Urea Nitrogen) রিপোর্ট করে।
কিডনির কার্যকারিতা কমলে Urea/BUN বাড়তে পারে। তবে এটি শুধু কিডনির সমস্যার কারণে বাড়ে না। যেমন—
শরীরে পানি কমে যাওয়া
বেশি প্রোটিন গ্রহণ
কিছু ওষুধ
রক্তক্ষরণ
অন্যান্য শারীরিক সমস্যা
ইত্যাদির কারণেও Urea/BUN পরিবর্তিত হতে পারে।
তাই Urea বেশি মানেই কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে—এমন নয়।
Urea ও Creatinine-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
দুটিই রক্তে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ সম্পর্কে তথ্য দেয়, কিন্তু তাদের ব্যবহার এক নয়।
Creatinine কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা মূল্যায়নে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি থেকে eGFR হিসাব করা হয়।
Urea/BUN-ও কিডনির কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা দেয়, তবে এটি পানি শূন্যতা, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার দ্বারা বেশি প্রভাবিত হতে পারে।
তাই চিকিৎসক সাধারণত Creatinine + eGFR + Urea/BUN + অন্যান্য পরীক্ষা মিলিয়ে কিডনির অবস্থা মূল্যায়ন করেন।
Urine ACR বা UACR কী?
Urine Albumin-to-Creatinine Ratio (UACR) প্রস্রাবে Albumin নামের প্রোটিন কতটা বের হচ্ছে তা পরিমাপ করে।
সুস্থ কিডনির ফিল্টার সাধারণত রক্তের Albumin প্রস্রাবে যেতে দেয় না। কিডনির ফিল্টারে ক্ষতি হলে প্রস্রাবে Albumin বেড়ে যেতে পারে। তাই UACR কিডনি ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক সূচক।
সাধারণভাবে—
UACR ≤30 mg/g: স্বাভাবিক সীমার মধ্যে
UACR >30 mg/g: Albuminuria বা কিডনি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে
তবে একটি মাত্র অস্বাভাবিক রিপোর্ট দিয়ে CKD নিশ্চিত করা যায় না; প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা করে ফল নিশ্চিত করা হয়।
কিডনি ফাংশন টেস্ট কখন করবেন?
নিচের পরিস্থিতিতে কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—
ডায়াবেটিস থাকলে
ডায়াবেটিস কিডনি রোগের একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ। তাই নিয়মিত eGFR এবং UACR পরীক্ষা করে কিডনির ক্ষতি শুরু হয়েছে কি না দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিডনি পরীক্ষা করা উচিত।
প্রস্রাবে অস্বাভাবিকতা থাকলে
যেমন—
প্রস্রাবে রক্ত
প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা
প্রস্রাবের পরিমাণে পরিবর্তন
প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন
থাকলে কিডনি পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
শরীরে ফোলা হলে
বিশেষ করে চোখের চারপাশ, মুখ, পা বা গোড়ালি ফুলে গেলে কিডনির সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণ বিবেচনা করা হয়।
কিডনিতে পাথর বা বারবার ইউরিন ইনফেকশন হলে
কিডনির কার্যকারিতা এবং মূত্রনালির অবস্থা মূল্যায়নে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিতে পারেন।
কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে
পরিবারে কিডনি রোগ বা Kidney Failure-এর ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে স্ক্রিনিং করা যেতে পারে।
কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে
কিছু ওষুধ কিডনির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজনে Creatinine/eGFR পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
কিডনি ফাংশন টেস্টের আগে কী প্রস্তুতি লাগবে?
Creatinine, eGFR বা Urea পরীক্ষার জন্য সবসময় খালি পেটে থাকা প্রয়োজন হয় না। তবে একই সঙ্গে অন্য পরীক্ষা থাকলে চিকিৎসক বা ল্যাবের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
পরীক্ষার আগে—
স্বাভাবিকভাবে পানি পান করুন।
অতিরিক্ত ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
আপনি কী কী ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন তা চিকিৎসককে জানান।
Creatine supplement ব্যবহার করলে তা চিকিৎসককে জানান।
রিপোর্টের সঙ্গে আগের Creatinine/eGFR রিপোর্ট থাকলে তুলনা করুন।
বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিতে পারেন।
Creatinine বেশি হলে কী বোঝায়?
Creatinine স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে কিডনির ফিল্টারিং ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু এর আরও অনেক কারণ থাকতে পারে।
যেমন—
শরীরে পানি কমে যাওয়া
তীব্র অসুস্থতা
কিছু ওষুধ
বেশি পেশির পরিমাণ
অতিরিক্ত ব্যায়াম
কিডনির আকস্মিক ক্ষতি (AKI)
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ
তাই Creatinine বেশি দেখলেই CKD ধরে নেওয়া উচিত নয়।
চিকিৎসক সাধারণত Creatinine-এর সঙ্গে eGFR, আগের রিপোর্ট, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং রোগীর অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করেন।
Creatinine কম হলে কী বোঝায়?
কম Creatinine সাধারণত কিডনি ভালো থাকার প্রমাণ নয়। কম পেশির পরিমাণ, বয়স, অপুষ্টি বা অন্যান্য কারণে Creatinine কম হতে পারে।
তাই Creatinine-এর একটি সংখ্যা আলাদাভাবে ব্যাখ্যা না করে রোগীর সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করা হয়।
eGFR কম হলে কী করবেন?
eGFR কম পাওয়া গেলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশেষ করে দেখতে হবে—
eGFR কত
আগের তুলনায় কমেছে কি না
UACR কেমন
প্রস্রাব পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না
রক্তচাপ কেমন
ডায়াবেটিস আছে কি না
একটি রিপোর্টের চেয়ে সময়ের সঙ্গে eGFR-এর পরিবর্তন বা trend অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। eGFR একটি হিসাবভিত্তিক অনুমান, সরাসরি মাপা GFR নয়।
কিডনি ফাংশন কমে গেলে আর কী পরীক্ষা লাগতে পারে?
প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক—
Urine Routine Examination
UACR
Electrolytes
CBC
Blood Sugar/HbA1c
Calcium
Phosphorus
Albumin
Kidney Ultrasound
প্রয়োজনে Cystatin C
ইত্যাদি পরীক্ষা করতে পারেন। কিডনি সমস্যার সম্ভাব্য কারণ অনুযায়ী আরও নির্দিষ্ট পরীক্ষাও লাগতে পারে।
কিডনি ফাংশন রিপোর্টে কোন বিষয়গুলো দেখবেন?
রিপোর্ট হাতে পেলে শুধু Creatinine দেখবেন না। অন্তত এই বিষয়গুলো দেখুন—
1. Serum Creatinine
কিডনি থেকে Creatinine কতটা পরিষ্কার হচ্ছে তার প্রাথমিক ধারণা দেয়।
2. eGFR
কিডনির আনুমানিক ফিল্টারিং ক্ষমতা বোঝায়।
3. Urea/BUN
রক্তে Urea বা BUN-এর মাত্রা দেখায়।
4. UACR
প্রস্রাবে Albumin বের হচ্ছে কি না তা বোঝায়।
5. Urine Routine Examination
রক্ত, প্রোটিন বা অন্যান্য অস্বাভাবিকতা আছে কি না দেখা যায়।
কিডনির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে eGFR + UACR বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি ফাংশন ভালো রাখতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
অতিরিক্ত লবণ কমান।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যদি চিকিৎসক পানি সীমিত করতে না বলে থাকেন।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
ওজন স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রাখুন।
ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করুন।
কিডনি ফাংশন রিপোর্ট নিয়ে কোন ডাক্তার দেখাবেন?
কিডনি ফাংশন রিপোর্ট অস্বাভাবিক হলে প্রথমে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা নেফ্রোলজিস্ট (Kidney Specialist)-এর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে—
eGFR কম
Creatinine ক্রমাগত বাড়ছে
UACR বেশি
প্রস্রাবে রক্ত বা প্রোটিন
শরীরে ফোলা
কিডনি রোগের দীর্ঘমেয়াদি ইতিহাস
থাকলে নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
Creatinine কত হলে কিডনি খারাপ?
Creatinine-এর জন্য সবার ক্ষেত্রে একই “স্বাভাবিক” সংখ্যা প্রযোজ্য নয়। বয়স, লিঙ্গ, পেশির পরিমাণ ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর এর মাত্রা নির্ভর করে। তাই Creatinine-এর সঙ্গে eGFR এবং আগের রিপোর্টের পরিবর্তন দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Urea বেশি হলে কি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে?
না। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে Urea বাড়তে পারে, তবে পানি কমে যাওয়া, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য কারণেও Urea বাড়তে পারে। তাই শুধু Urea দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
eGFR কত হলে কিডনি স্বাভাবিক?
সাধারণভাবে eGFR 60 বা তার বেশি স্বাভাবিক ফিল্টারিং ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে eGFR 60–89 থাকলেই কিডনি রোগ নিশ্চিত হয় না; অন্য কোনো কিডনি ক্ষতির প্রমাণ আছে কি না সেটিও দেখতে হয়।
eGFR 60-এর নিচে হলে কি কিডনি রোগ হয়েছে?
eGFR 60-এর নিচে থাকলে কিডনি রোগের সম্ভাবনা থাকে, তবে CKD নির্ণয়ের জন্য সাধারণত ফলের স্থায়িত্ব এবং অন্যান্য কিডনি ক্ষতির প্রমাণ বিবেচনা করা হয়।
কিডনি পরীক্ষায় UACR কেন করা হয়?
UACR প্রস্রাবে Albumin বের হচ্ছে কি না শনাক্ত করে। এটি কিডনি ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক সূচক।
কিডনি ফাংশন টেস্ট কতদিন পরপর করবেন?
সবার জন্য একই সময়সূচি নেই। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, CKD বা অন্যান্য ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক নিয়মিত পরীক্ষা করতে বলতে পারেন। পরীক্ষার সময়সূচি আপনার ঝুঁকি ও আগের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে।
কিডনি ফাংশন টেস্টের জন্য কি খালি পেটে থাকতে হয়?
শুধু Creatinine, eGFR বা Urea পরীক্ষার জন্য সাধারণত খালি পেটে থাকার প্রয়োজন হয় না। তবে একই সঙ্গে অন্য কোনো fasting test থাকলে ল্যাব বা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
কিডনি ফাংশন রিপোর্ট খারাপ হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?
নেফ্রোলজিস্ট (Kidney Specialist) কিডনির রোগের বিশেষজ্ঞ। রিপোর্টে Creatinine/eGFR/UACR অস্বাভাবিক হলে নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সঠিক সময়ে কিডনি পরীক্ষা করুন
কিডনি রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তাই বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু Creatinine বা Urea নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী eGFR এবং Urine ACR/UACR-সহ কিডনির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা উচিত।
আপনার এলাকার অভিজ্ঞ নেফ্রোলজিস্ট (Kidney Specialist) বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ খুঁজে পেতে Doctors24-এর ডাক্তার ডিরেক্টরি ব্যবহার করতে পারেন।
মেডিক্যাল ডিসক্লেইমার
এই নিবন্ধটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। কিডনি ফাংশন রিপোর্ট অস্বাভাবিক হলে নিজে থেকে ওষুধ পরিবর্তন না করে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রস্রাবের পরিমাণ হঠাৎ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, শরীর দ্রুত ফুলে যাওয়া, তীব্র দুর্বলতা বা গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
Content prepared by: Doctors24 Editorial Team
Medical information is verified using registered doctor data and trusted healthcare sources
Information sources: Public records, hospital data, and provided credentials
Published At: August 18, 2026
Last updated: August 18, 2026 • Read Editorial Policy →
Find Nephrologist in Your Area
Connect with experienced nephrologist near you for consultation and treatment.
Related Nephrologist Articles
View all →
হাত-পা ফুলে যাওয়া: কিডনি, হার্ট নাকি লিভারের সমস্যা? কারণ, পরীক্ষা ও কোন ডাক্তার দেখাবেন

কিডনির সমস্যা: লক্ষণ, কারণ, কী পরীক্ষা করবেন, চিকিৎসা ও কোন ডাক্তার দেখাবেন



