পাইলস (অর্শরোগ)-এর লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা, লেজার সার্জারি ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

পাইলস বা অর্শরোগ (Hemorrhoids) একটি খুবই সাধারণ সমস্যা, যেখানে মলদ্বার (Anal Canal) বা মলাশয়ের নিচের অংশের শিরাগুলো ফুলে যায়। অনেকেই মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া বা মাংসপিণ্ড বের হয়ে আসাকে পাইলস মনে করেন, কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা পাইলস নয়। ফিশার (Anal Fissure), ফিস্টুলা (Anal Fistula), এমনকি কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের মতো রোগেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তাই মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত বা দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকে অবহেলা না করে সঠিক রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ভিডিওতে কোলোরেক্টাল ও জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাঃ মোঃ রেজাউল আলম পাইলসের কারণ, লক্ষণ, বিভিন্ন গ্রেড, ফিশার ও ফিস্টুলার পার্থক্য, আধুনিক চিকিৎসা এবং কখন অপারেশনের প্রয়োজন হয়—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
পাইলস হলো মলদ্বারের ভেতরে বা বাইরে থাকা শিরা (Vein) অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া।
পাইলসের সুনির্দিষ্ট একটি কারণ নেই। তবে মলদ্বারের শিরার ওপর দীর্ঘদিন অতিরিক্ত চাপ পড়লে এটি হতে পারে।
পাইলসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে:
দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া
দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা
গর্ভাবস্থা
অতিরিক্ত ওজন
আঁশযুক্ত খাবারের অভাব
দীর্ঘসময় বসে থাকা
মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত পড়া পাইলসের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ।
বিশেষ করে বাহ্যিক পাইলস বা রক্ত জমাট বাঁধলে (Thrombosed Hemorrhoid) ব্যথা হতে পারে।
মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে।
মলত্যাগের সময় বা পরে মলদ্বার দিয়ে মাংসপিণ্ড বের হতে পারে, যা পরে নিজে থেকে বা হাতে ভেতরে ঢোকাতে হতে পারে।
পাইলসের তীব্রতার ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ (Internal) পাইলসকে সাধারণত চারটি গ্রেডে ভাগ করা হয়।
পাইলস ভেতরে থাকে এবং বাইরে বের হয় না। সাধারণত রক্তপাত হতে পারে।
মলত্যাগের সময় বাইরে বের হলেও পরে নিজে থেকেই ভেতরে চলে যায়।
বাইরে বের হলে হাতে ভেতরে ঢোকাতে হয়।
পাইলস সবসময় বাইরে থাকে এবং সহজে ভেতরে নেওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
পাইলস: সাধারণত রক্তপাত ও মাংসপিণ্ড বের হওয়ার সমস্যা বেশি দেখা যায়।
ফিশার: মলত্যাগের সময় তীব্র ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা এবং পরে দীর্ঘসময় জ্বালাপোড়া থাকতে পারে।
ফিস্টুলা: মলদ্বারের পাশে ছোট ছিদ্র দিয়ে বারবার পুঁজ বা তরল বের হতে পারে।
মলদ্বারের অনেক রোগের লক্ষণ একে অপরের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র উপসর্গ দেখে নিজে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়।
চিকিৎসক রোগের ইতিহাস ও মলদ্বার পরীক্ষা করে প্রাথমিক ধারণা নেন।
মলদ্বারের ভেতরের অংশ সরাসরি দেখার জন্য Proctoscopy করা হতে পারে।
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে Colonoscopy প্রয়োজন হতে পারে:
বয়স অনুযায়ী কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকলে
দীর্ঘদিন রক্তপাত হলে
ওজন কমে গেলে
রক্তশূন্যতা (Anemia) থাকলে
চিকিৎসকের সন্দেহ হলে
চিকিৎসা নির্ভর করে পাইলসের গ্রেড ও রোগীর উপসর্গের ওপর।
প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী:
ওষুধ
মল নরম করার ওষুধ
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ
দিতে পারেন।
নির্বাচিত Grade 1 ও Grade 2 Internal Hemorrhoids-এর ক্ষেত্রে Rubber Band Ligation কার্যকর হতে পারে।
নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে Laser প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার করা হতে পারে। তবে সব রোগীর জন্য এটি প্রয়োজন বা উপযুক্ত নয়।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে Stapled Hemorrhoidopexy (Longo Procedure) বিবেচনা করা হতে পারে। কোন পদ্ধতি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, তা সার্জন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করেন।
খাদ্যতালিকায় রাখুন:
শাকসবজি
ফলমূল
ডাল
পূর্ণ শস্য
আঁশসমৃদ্ধ খাবার
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে মল নরম রাখতে সাহায্য করে।
মল চেপে রাখবেন না।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
টয়লেটে অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসময় বসে থাকবেন না।
পর্যাপ্ত আঁশ ও পানি গ্রহণ করুন।
বারবার বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে দ্রুত সার্জনের পরামর্শ নিন।
তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
বারবার পাইলসের সমস্যা হলে অথবা সাধারণ চিকিৎসায় উপকার না পেলে বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এছাড়াও দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি:
মলদ্বার দিয়ে নিয়মিত রক্ত পড়ে
ওজন কমে যায়
রক্তশূন্যতা দেখা দেয়
মলত্যাগের অভ্যাস হঠাৎ পরিবর্তন হয়
প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও চিকিৎসার মাধ্যমে উপসর্গ কমতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে নিজে নিজে ভালো হয় না।
না। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ওষুধ বা ছোট প্রক্রিয়াগত চিকিৎসায় উপকার পাওয়া যায়। অপারেশন নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য প্রয়োজন হয়।
কিছু লক্ষণ যেমন মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত উভয় রোগেই হতে পারে। তাই রক্তপাতকে কখনোই শুধু পাইলস ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়।
না। রোগীর অবস্থা, পাইলসের গ্রেড এবং সার্জনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিকিৎসার পদ্ধতি নির্বাচন করা হয়।
অনেক ক্ষেত্রে আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়া মানেই পাইলস—এমন ধারণা সঠিক নয়। রক্তপাত, তীব্র ব্যথা বা মাংসপিণ্ড বের হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে লজ্জা বা ভয় না পেয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ নিন। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ মোঃ রেজাউল আলম, এমবিবিএস (আর ইউ), এফসিপিএস (সার্জারি), এনডো ল্যাপারোস্কপিক, কলোরেক্টাল, পায়ুপথ সার্জন, এন্ডোস্কপিক সার্জন, (কোলন্সকপি এন্ড ইআরসিপি), সার্জিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি বিভাগ), মহিলা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল, সেক্টর -১, উত্তরা, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 11 July 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced colorectal surgeon near you for consultation and treatment.
91 Doctors
34 Doctors
9 Doctors
16 Doctors
14 Doctors
4 Doctors