হাম (Measles)-এর লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা, Measles Vaccine ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করলেও টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। হামকে সাধারণ জ্বর বা র্যাশের রোগ ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়, কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের সংক্রমণ (Encephalitis), অপুষ্টি এবং এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
বর্তমানে হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো Measles Vaccine গ্রহণ। টিকাদানের মাধ্যমে হামের প্রকোপ ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
এই ভিডিওতে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ সৈয়দ মোঃ ফজলে মুনিম সাহাল হাম রোগের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা, কখন হাসপাতালে যেতে হবে, টিকার গুরুত্ব এবং হাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
হাম একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা Measles Virus দ্বারা হয়।
সংক্রমিত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা কথা বলার সময় যে ক্ষুদ্র শ্বাসকণিকা (Respiratory Droplets) ছড়ায়, তার মাধ্যমে ভাইরাস একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
হাম বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। টিকা না নেওয়া ব্যক্তিরা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
প্রথম দিকে সাধারণত উচ্চ জ্বর দেখা দেয়।
হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে:
শুকনো কাশি
নাক দিয়ে পানি পড়া
চোখ লাল হওয়া
আলোতে অস্বস্তি
জ্বর শুরু হওয়ার কয়েক দিন পর সাধারণত মুখ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সারা শরীরে লাল র্যাশ ছড়িয়ে পড়ে।
মুখের ভেতরে গালের পাশে ছোট সাদা দানার মতো দাগ (Koplik Spots) হামের একটি বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ, যা র্যাশ বের হওয়ার আগেই দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ঝুঁকি বেশি।
যারা Measles Vaccine নেননি, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি।
অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে হামের জটিলতা বেশি হতে পারে।
এছাড়াও ঝুঁকিতে থাকেন:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি
গর্ভবতী নারী
ভিটামিন এ-এর ঘাটতিতে ভোগা শিশু
অনেক ক্ষেত্রে রোগীর উপসর্গ, র্যাশ এবং শারীরিক পরীক্ষার ভিত্তিতেই চিকিৎসক হাম নির্ণয় করতে পারেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী বা জনস্বাস্থ্যগত কারণে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য ল্যাব পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা সাধারণত নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো উপসর্গ কমানো এবং জটিলতা প্রতিরোধ করা।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত পানি বা তরল পান করা গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বর কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Vitamin A সাপ্লিমেন্ট কিছু জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই অ্যান্টিবায়োটিক হামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না। তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত অতিরিক্ত সংক্রমণ হলে চিকিৎসক প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা দ্রুত শ্বাস চললে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
হামের সঙ্গে খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
শিশু অত্যন্ত নিস্তেজ হয়ে গেলে বা জাগানো কঠিন হলে দেরি করবেন না।
পানি বা খাবার খেতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এছাড়াও দ্রুত হাসপাতালে যান যদি:
জ্বর দীর্ঘদিন থাকে
বারবার বমি হয়
অচেতনতা দেখা দেয়
কানের তীব্র ব্যথা বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায় হলো সময়মতো Measles-containing Vaccine গ্রহণ।
বাংলাদেশের Expanded Programme on Immunization (EPI) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে হাম-সংবলিত টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। সর্বশেষ জাতীয় টিকাদান সূচি অনুযায়ী শিশুর টিকা নিশ্চিত করতে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
টিকা না নিলে:
হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়
গুরুতর জটিলতা হতে পারে
অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে
না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।
এটি একটি ভুল ধারণা। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর অবস্থা অনুযায়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও গোসল সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
না। হাম ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না।
সাধারণভাবে একবার হাম হলে আজীবনের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে ব্যক্তিভেদে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রযোজ্য।
হ্যাঁ। এটি অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ।
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Vitamin A দেওয়া হয়। নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।
শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াজনিত অতিরিক্ত সংক্রমণ হলে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
টিকা অত্যন্ত কার্যকর হলেও কোনো টিকাই শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। তবে টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা ও জটিলতার ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তাই নির্ধারিত সময়ে শিশুর টিকাদান সম্পন্ন করা, অসুস্থ শিশুকে আলাদা রাখা এবং জ্বর, র্যাশ বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদানের মাধ্যমে হামের গুরুতর জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ সৈয়দ মোঃ ফজলে মুনিম সাহাল, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ, এমবিবিএস (ডিইউ), এমআরসিপিসিএইচ (পার্ট-১, লন্ডন), পিজিটি (শিশু), ইএনএস (জার্মানি), সিসিডি (বারডেম), রেজিস্ট্রার (শিশু), আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 13 July 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced child specialist near you for consultation and treatment.