শিশু কথা বলতে দেরি করছে কেন? Speech Delay, Autism, Hearing Problem ও Speech Therapy সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

অনেক বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চান, “আমার শিশুর বয়স ২ বা ৩ বছর, কিন্তু এখনও ঠিকমতো কথা বলে না—এটা কি স্বাভাবিক?” কিছু শিশু অন্যদের তুলনায় একটু দেরিতে কথা বলা শুরু করলেও, অনেক ক্ষেত্রে এটি Speech Delay (ভাষা বিকাশে বিলম্ব)-এর লক্ষণ হতে পারে।
শিশু যদি নাম ডাকলে সাড়া না দেয়, চোখে চোখ রেখে কথা না বলে, শব্দ অনুকরণ না করে বা সমবয়সীদের তুলনায় ভাষা শেখায় পিছিয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। কারণ Speech Delay-এর পেছনে কানের সমস্যা, Autism Spectrum Disorder (ASD), Developmental Delay, অতিরিক্ত Screen Time বা অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।
সঠিক সময়ে মূল্যায়ন ও চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ শিশুর ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার উন্নতি সম্ভব।
এই ভিডিওতে শিশু বিকাশ ও শিশু-কিশোর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ নাজমা পারভীন শাম্মী Speech Delay-এর লক্ষণ, কারণ, Speech Therapy এবং বাবা-মায়ের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
Speech Delay বলতে শিশুর বয়স অনুযায়ী প্রত্যাশিত ভাষা ও কথা বলার দক্ষতা বিকাশে বিলম্ব হওয়াকে বোঝায়।
অর্থাৎ, শিশুর সমবয়সী অন্য শিশুদের তুলনায়:
শব্দ বলা দেরিতে শুরু হয়
শব্দভাণ্ডার কম থাকে
বাক্য গঠন করতে সমস্যা হয়
যোগাযোগে অসুবিধা হয়
না।
প্রতিটি শিশুর বিকাশের গতি কিছুটা আলাদা হতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট মাইলস্টোন রয়েছে, যা বয়সভিত্তিক ভাষা বিকাশ মূল্যায়নে সাহায্য করে।
শব্দ শুনে প্রতিক্রিয়া দেয়
বাবলিং (Ba-ba, Ma-ma ধরনের শব্দ) শুরু করতে পারে
মা, বাবা বা সহজ কিছু শব্দ বলতে পারে
নাম ডাকলে সাড়া দেয়
কয়েকটি অর্থপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করতে পারে
অন্তত ৫০টির বেশি শব্দ জানা থাকতে পারে
দুই শব্দের ছোট বাক্য বলতে পারে
যেমন:
"মা পানি"
"বাবা আসো"
ছোট বাক্যে কথা বলতে পারে
নিজের চাহিদা প্রকাশ করতে পারে
পরিবারের সদস্যদের কথার অনেকটাই বুঝতে পারে
এটি মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
শিশু বারবার নাম ডাকলেও প্রতিক্রিয়া না দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চোখে চোখ না রাখা বা যোগাযোগ এড়িয়ে চলা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
সহজ নির্দেশনা অনুসরণ করতে না পারা।
সমবয়সীদের তুলনায় কম শব্দ ব্যবহার করা।
এটি Speech Delay-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
শিশু যদি ঠিকমতো শুনতে না পায়, তাহলে ভাষা শেখাও ব্যাহত হতে পারে।
তাই Speech Delay-এর মূল্যায়নে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে Speech Delay অটিজমের একটি লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষ করে যদি:
চোখে চোখ না রাখে
নাম ডাকলে সাড়া না দেয়
অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কম করে
তাহলে মূল্যায়ন জরুরি।
শিশুর সামগ্রিক বিকাশে বিলম্ব থাকলে ভাষা বিকাশেও প্রভাব পড়তে পারে।
মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্রের কিছু সমস্যার কারণেও Speech Delay হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে পরিবারে দেরিতে কথা বলার ইতিহাস থাকতে পারে।
অতিরিক্ত মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশনের ব্যবহার ভাষা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা শিশুদের ভাষা বিকাশে বিলম্বের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারণ:
শিশুর সঙ্গে বাস্তব কথোপকথন কমে যায়
সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ কমে
ভাষা শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়
শিশুর ভাষা বিকাশের জন্য মানুষে মানুষে যোগাযোগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সব Speech Delay-ই Autism নয়।
তবে নিম্নোক্ত লক্ষণ থাকলে Autism মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে:
নাম ডাকলে সাড়া না দেওয়া
চোখে চোখ না রাখা
একই আচরণ বারবার করা
সামাজিক যোগাযোগে অনাগ্রহ
ইশারা বা অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার না করা
নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে Speech Therapy-এর প্রয়োজন হতে পারে:
বয়সভিত্তিক ভাষা বিকাশে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব থাকলে
শব্দ উচ্চারণে সমস্যা হলে
যোগাযোগ দক্ষতা দুর্বল হলে
Autism বা Developmental Delay থাকলে
Speech Therapist শিশুর:
ভাষা বিকাশ
শব্দ উচ্চারণ
যোগাযোগ দক্ষতা
বোঝার ক্ষমতা
উন্নত করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেন।
দৈনন্দিন কাজের সময়ও শিশুর সঙ্গে কথা বলুন।
ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস ভাষা বিকাশে সাহায্য করে।
ভাষা শেখাকে আনন্দদায়ক করে তোলে।
মোবাইল বা ট্যাবের পরিবর্তে বাস্তব খেলাধুলা ও কথোপকথনে উৎসাহ দিন।
শিশু কিছু বলতে চাইলে তাকে উৎসাহ দিন।
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
১ বছরেও কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ না বললে
নাম ডাকলে সাড়া না দিলে
২ বছরেও দুই শব্দের বাক্য না বললে
আগে শেখা শব্দ ভুলে যেতে শুরু করলে
চোখে চোখ না রাখলে
সামাজিক যোগাযোগে আগ্রহ কম থাকলে
চিকিৎসক সাধারণত:
শিশুর বিকাশের ইতিহাস নেন
ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা মূল্যায়ন করেন
শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করতে পারেন
প্রয়োজনে Autism বা Developmental Assessment করতে পারেন
হ্যাঁ। মূল্যায়ন করা উচিত, বিশেষ করে যদি অন্য বিকাশগত লক্ষণও থাকে।
কিছু শিশুর উন্নতি হতে পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত মূল্যায়ন ও হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত Screen Time ভাষা বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এটি শিশুর সমস্যা ও অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে।
কিছু ক্ষেত্রে হতে পারে, তবে Speech Delay মানেই Autism নয়।
শিশু বিশেষজ্ঞ, শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ, শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা Speech Therapist-এর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
২-৩ বছর বয়সেও শিশু কথা না বললে বা ভাষা বিকাশে উল্লেখযোগ্য দেরি হলে সেটিকে "সময় হলে ঠিক হয়ে যাবে" ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। যত দ্রুত Speech Delay-এর কারণ শনাক্ত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় Speech Therapy বা অন্যান্য সহায়তা শুরু করা যায়, শিশুর ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। তাই শিশুর ভাষা বিকাশ নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার শিশুর ভাষা বিকাশ বা আচরণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভিডিওতে দেখুন: Speech Delay কী, শিশু কথা বলতে দেরি করলে কী করবেন, Autism ও Speech Delay-এর পার্থক্য, Screen Time-এর প্রভাব, Speech Therapy এবং বাবা-মায়ের করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ নাজমা পারভীন শাম্মী, এমবিবিএস (ডিইউ), এফসিপিএস (শিশু), সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ), উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 18 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced child specialist near you for consultation and treatment.