/
দাম্পত্য সম্পর্কে পরকীয়া কেন হয়, এর মানসিক কারণ কী, কীভাবে লক্ষণ বোঝা যায় এবং পরকীয়া সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলে—জেনে নিন।

পরকীয়া বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক একটি দাম্পত্য সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাসের সংকট নয়, মানসিক চাপ, সম্পর্কের দ্বন্দ্ব এবং পরিবারের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
কিন্তু পরকীয়া কেন হয়? এর উত্তর শুধু “ভালোবাসার অভাব” বা “যৌন অসন্তুষ্টি” দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। দাম্পত্য সম্পর্কে আবেগিক দূরত্ব, মনোযোগ ও স্বীকৃতির চাহিদা, নতুনত্বের আকর্ষণ, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সমস্যা, সুযোগ এবং ব্যক্তিগত boundary—বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে দাম্পত্য সমস্যাকে পরকীয়ার একমাত্র কারণ বা অজুহাত বলা ঠিক নয়। সম্পর্কের সমস্যা একটি contributing factor হতে পারে, কিন্তু অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও সীমারেখার বিষয়।
সাধারণভাবে বিবাহিত বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে এমন আবেগিক, রোমান্টিক বা যৌন সম্পর্ক তৈরি করাকে পরকীয়া বলা হয়, যা বর্তমান সম্পর্কের পারস্পরিক প্রত্যাশা বা সীমারেখার বাইরে যায়।
তবে কোন আচরণকে “পরকীয়া” হিসেবে দেখা হবে, তা দম্পতির নির্ধারিত relationship boundary-এর ওপরও নির্ভর করতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে দুটি শব্দ একই অর্থে ব্যবহার করা হয়। তবে “বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক” শব্দটি তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত।
পরকীয়া বলতে সাধারণত বিবাহিত ব্যক্তির অন্য কারও সঙ্গে রোমান্টিক বা যৌন সম্পর্ক বোঝানো হয়।
না।
কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্ক না থাকলেও অন্য ব্যক্তির সঙ্গে গভীর গোপন আবেগিক সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। এটিকে Emotional Affair বলা হয়।
তাই পরকীয়ার বিষয়টি শুধু যৌনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বিশ্বাস, গোপনীয়তা, আবেগিক ঘনিষ্ঠতা এবং relationship boundary-ও গুরুত্বপূর্ণ।
পরকীয়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তবে কোনো একটি কারণকে সব মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না।
দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা কথা বলা, অনুভূতি শেয়ার করা বা একে অপরের প্রতি মনোযোগ কমে গেলে আবেগিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
এই দূরত্বের মধ্যে কেউ অন্য একজনের কাছ থেকে বোঝাপড়া, মনোযোগ বা emotional support পেলে সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
হতে পারে, তবে এটি একমাত্র কারণ নয়।
যৌন সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তুষ্টি, চাহিদার অমিল বা যৌনজীবন নিয়ে কথা বলতে না পারা কিছু সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যত্র ঘনিষ্ঠতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে যৌন অসন্তুষ্টি থাকলেই পরকীয়া হবে—এমন কোনো সরল সম্পর্ক নেই।
নিজের সঙ্গীর কাছ থেকে ভালোবাসা, প্রশংসা, মনোযোগ বা বোঝাপড়া না পাওয়ার অনুভূতি কিছু মানুষের মধ্যে অন্য কারও কাছ থেকে emotional connection খোঁজার প্রবণতা তৈরি করতে পারে।
তবে এখানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও relationship boundary অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে দৈনন্দিন দায়িত্ব ও একই ধরনের রুটিনের কারণে কারও কারও কাছে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় উত্তেজনাপূর্ণ মনে হতে পারে।
নতুন সম্পর্কের novelty, attention এবং excitement কিছু মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
কেউ দাম্পত্য সম্পর্কে থেকেও নিজেকে একা, অবহেলিত বা অমূল্য মনে করতে পারেন।
অন্য কারও কাছ থেকে প্রশংসা, আগ্রহ বা স্বীকৃতি পেলে তার মাধ্যমে নিজের গুরুত্ব অনুভব করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘদিনের—
ঝগড়া
অসম্মান
যোগাযোগের সমস্যা
পারস্পরিক অবহেলা
অমীমাংসিত বিরোধ
সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারে।
তবে এগুলো পরকীয়ার “অজুহাত” নয়। সমস্যা থাকলে স্বাস্থ্যকর পথ হলো যোগাযোগ, সীমারেখা নির্ধারণ, কাউন্সেলিং বা প্রয়োজনে সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
কর্মক্ষেত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা পুরোনো পরিচিতদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
যদি কেউ নিজের সম্পর্কের সীমারেখা স্পষ্টভাবে বজায় না রাখেন, তাহলে একটি সাধারণ বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে অনুপযুক্ত ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হতে পারে।
একই দাম্পত্য সমস্যার মধ্যেও সবাই পরকীয়ায় জড়ান না।
কারও ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন, impulse control এবং relationship boundary বজায় রাখার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই “স্বামী/স্ত্রী আমাকে ভালোবাসেনি, তাই পরকীয়া করেছি”—এভাবে পুরো দায় অন্য ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া সঠিক নয়।
না। পরকীয়ার পেছনে যৌনতার পাশাপাশি আবেগিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণও থাকতে পারে।
যৌন চাহিদা নিয়ে দীর্ঘদিনের অমিল, যৌন সম্পর্কের সমস্যা বা এ বিষয়ে কথা বলতে না পারা কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়াতে পারে।
তবে এসব সমস্যা নিয়ে সঙ্গীর সঙ্গে নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে আলোচনা করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া স্বাস্থ্যকর পথ।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হতে পারে।
নিজের কথা শোনা, বোঝা, প্রশংসা পাওয়া বা আবেগ প্রকাশের সুযোগ না থাকলে অন্য কারও সঙ্গে emotional connection বিশেষ আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
অন্য কারও কাছ থেকে প্রশংসা, আগ্রহ বা স্বীকৃতি পাওয়া কিছু মানুষের আত্মমূল্যবোধকে সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ ধরনের validation-seeking কখনো কখনো সম্পর্কের boundary দুর্বল করে দিতে পারে।
একজনের সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত কথা বলা, নিয়মিত গোপনে যোগাযোগ এবং আবেগিক নির্ভরতা ধীরে ধীরে relationship boundary অতিক্রম করতে পারে।
তবে Emotional Affair থাকলেই সেটি অবশ্যই শারীরিক সম্পর্কে পরিণত হবে—এমন নয়।
পরকীয়াকে শুধু “যৌনতার সমস্যা” বা শুধু “ভালোবাসার সমস্যা”—দুইভাবে ব্যাখ্যা করাই অতিরিক্ত সরলীকরণ।
অনেক ক্ষেত্রে আবেগিক ঘনিষ্ঠতা, মনোযোগ, নতুনত্ব, যৌন আকর্ষণ এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত একসঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান সম্পর্কের বাইরে অন্য একজনের সঙ্গে এমন গভীর আবেগিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়া, যা নিজের সঙ্গীর কাছ থেকে গোপন রাখা হয় বা বর্তমান সম্পর্কের নির্ধারিত boundary অতিক্রম করে—তাকে Emotional Affair বলা হতে পারে।
বন্ধুত্ব নিজে কোনো সমস্যা নয়।
তবে যদি—
সম্পর্কটি গোপন রাখা হয়
ব্যক্তিগত বিষয় অতিরিক্ত শেয়ার করা হয়
নিজের সঙ্গীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির ওপর আবেগিকভাবে নির্ভরতা বাড়ে
যোগাযোগ নিয়ে মিথ্যা বলতে হয়
তাহলে relationship boundary নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নিজের দাম্পত্য সমস্যা, যৌনজীবন, ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা গভীর আবেগ নিয়মিত অন্য একজনের সঙ্গে শেয়ার করা আবেগিক ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে পারে।
কোনো যোগাযোগ গোপন রাখার প্রয়োজন অনুভূত হলে সেটি সম্পর্কের boundary সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে।
তবে গোপন যোগাযোগ পাওয়া মানেই পরকীয়ার প্রমাণ নয়।
নিজের আনন্দ, দুঃখ, সমস্যা বা গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রথমে অন্য একজনকে জানানো এবং তার কাছ থেকেই emotional support পাওয়ার প্রবণতা সম্পর্কের আবেগিক দূরত্বের ইঙ্গিত হতে পারে।
না। Emotional Affair অনেক সময় আবেগিক পর্যায়েই থেকে যেতে পারে।
তবে boundary আরও দুর্বল হলে সম্পর্কটি রোমান্টিক বা শারীরিক পর্যায়ে যেতে পারে।
Social Media নিজে পরকীয়ার কারণ নয়। তবে এটি নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, পুরোনো সম্পর্ক পুনরায় শুরু এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ গোপন রাখাকে সহজ করে দিতে পারে।
Facebook, Messenger, Instagram এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে পুরোনো বন্ধু, সহকর্মী বা নতুন মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায়।
এই যোগাযোগ স্বাস্থ্যকর বন্ধুত্বও হতে পারে। সমস্যা তৈরি হয় যখন সম্পর্কের নির্ধারিত boundary অতিক্রম করা হয়।
বারবার মেসেজ করা, রাতের বেলা গোপনে কথা বলা, মেসেজ মুছে ফেলা বা সঙ্গীর কাছ থেকে যোগাযোগ লুকানোর মতো আচরণ relationship boundary নিয়ে আলোচনা করার কারণ হতে পারে।
তবে এগুলো একা পরকীয়ার প্রমাণ নয়।
পুরোনো পরিচিত বা প্রেমিক/প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ সবসময় সমস্যা নয়।
কিন্তু যোগাযোগটি যদি গোপন, আবেগিকভাবে ঘনিষ্ঠ বা বর্তমান সঙ্গীর সঙ্গে করা চুক্তি ও সীমারেখার বাইরে হয়, তাহলে তা সম্পর্কের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
যখন অনলাইন বন্ধুত্ব—
গোপন রাখতে হয়
আবেগিক নির্ভরতা তৈরি করে
বর্তমান সঙ্গীর কাছ থেকে লুকানো হয়
রোমান্টিক বা যৌন প্রকৃতি ধারণ করে
তখন সেটি নিয়ে সম্পর্কের boundary পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
বিবাহিত বা committed অবস্থায় Dating App ব্যবহার করা অনেক সম্পর্কের নির্ধারিত boundary-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
এখানেও মূল বিষয় হলো—দম্পতির মধ্যে কী ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য বলে সম্মত হয়েছে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে পরকীয়ার কারণ হিসেবে শুধু “যৌন চাহিদা”কে দায়ী করা ঠিক নয়।
সম্ভাব্য কারণের মধ্যে থাকতে পারে—
আবেগিক দূরত্ব
দাম্পত্য কলহ
যৌন সম্পর্কের সমস্যা
নতুনত্বের আকর্ষণ
Attention বা Validation-এর চাহিদা
অন্য ব্যক্তির সঙ্গে আবেগিক ঘনিষ্ঠতা
ব্যক্তিগত boundary দুর্বল হওয়া
ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও মূল্যবোধ
প্রতিটি ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদা।
নারীদের ক্ষেত্রেও একক কোনো কারণ নেই।
সম্ভাব্য কারণ হতে পারে—
দাম্পত্য সম্পর্কে আবেগিক দূরত্ব
মূল্যায়ন বা মনোযোগের অভাবের অনুভূতি
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অসন্তুষ্টি
অন্য ব্যক্তির সঙ্গে নতুন Emotional Connection
নতুনত্ব ও আকর্ষণ
ব্যক্তিগত boundary দুর্বল হওয়া
ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত
“পুরুষরা যৌনতার জন্য এবং নারীরা আবেগের জন্য পরকীয়া করে”—এ ধরনের সাধারণীকরণ নির্ভরযোগ্য নয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই আবেগিক, যৌন, সম্পর্কগত ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
নিচের আচরণগুলো কখনো কখনো relationship warning sign হতে পারে। তবে কোনোটিই একা পরকীয়ার প্রমাণ নয়।
হঠাৎ অতিরিক্ত গোপনীয়তা, দূরত্ব বা অস্বাভাবিক আচরণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।
ফোন সবসময় লুকিয়ে রাখা, মেসেজের ব্যাপারে অস্বাভাবিক গোপনীয়তা বা সঙ্গীর কাছ থেকে ফোন ব্যবহারের ধরন লুকানো সন্দেহের কারণ হতে পারে।
Password পরিবর্তন নিজে পরকীয়ার প্রমাণ নয়। তবে হঠাৎ অতিরিক্ত গোপনীয়তা ও অন্যান্য পরিবর্তনের সঙ্গে এটি থাকলে সম্পর্কের মধ্যে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে।
একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে অস্বাভাবিক মাত্রায় যোগাযোগ, বিশেষ করে তা গোপন রাখা হলে boundary নিয়ে আলোচনা করা দরকার।
আগের তুলনায় কথা বলা, সময় দেওয়া বা আবেগ ভাগাভাগি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
যৌন আগ্রহের হঠাৎ পরিবর্তন সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যার কারণে হতে পারে। তাই এটিকে একা পরকীয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
কিছু ক্ষেত্রে সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া বা অকারণে বিরক্তি দেখা দিতে পারে। তবে মানসিক চাপ, কাজের সমস্যা বা অন্য ব্যক্তিগত কারণেও এমন হতে পারে।
পরকীয়া অনেক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
পরকীয়া প্রকাশ পাওয়ার পর প্রতারিত সঙ্গীর মধ্যে—
বিশ্বাস হারানো
সন্দেহ
রাগ
দুঃখ
নিরাপত্তাহীনতা
তৈরি হতে পারে।
বিশ্বাস পুনর্গঠনে সময় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হতে পারে।
পরকীয়ার পর ঘন ঘন ঝগড়া, যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
দাম্পত্য দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হলে সন্তানদের মানসিক ও পারিবারিক পরিবেশেও প্রভাব পড়তে পারে।
তাই সন্তানদের সামনে তীব্র ঝগড়া বা একে অপরকে অপমান করা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু দম্পতি পরকীয়ার পরও সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে পারেন।
এটি নির্ভর করতে পারে—
সম্পর্কটি শেষ করার বাস্তব সিদ্ধান্ত
সততা
বিশ্বাস পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা
যোগাযোগ
পারস্পরিক সম্মতি
Couples Counseling
এর ওপর।
তবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
দাম্পত্য জীবনে শুধু দৈনন্দিন কাজ নয়, অনুভূতি, চাহিদা, অসন্তুষ্টি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।
একসঙ্গে সময় কাটানো, একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং পারস্পরিক প্রশংসা সম্পর্কের আবেগিক বন্ধন শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।
যৌন চাহিদা, সমস্যা বা অসন্তুষ্টি নিয়ে লজ্জা বা দোষারোপ না করে সম্মানজনকভাবে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।
যৌন সমস্যা থাকলে প্রয়োজনে চিকিৎসক বা উপযুক্ত থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
কাদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ গ্রহণযোগ্য, পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে কী সীমারেখা থাকবে এবং কোন আচরণ গোপন রাখা উচিত নয়—এসব নিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা ভালো।
ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটানো এবং সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা, বিশ্বাসের সংকট বা সম্পর্কের দ্বন্দ্ব নিজেরা সমাধান করতে না পারলে Couples Counselor বা Therapist-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
পরকীয়া সম্পর্কে জানতে পারার পর তীব্র আবেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি সামলানো গুরুত্বপূর্ণ।
রাগের মুহূর্তে বিচ্ছেদ, প্রতিশোধ বা অন্য কোনো বড় সিদ্ধান্ত না নিয়ে কিছু সময় নিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা ভালো।
সম্ভব হলে শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলুন।
ফোন হ্যাক করা, Password চুরি করা, Tracking বা গোপনে নজরদারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
বরং সম্পর্কের boundary, সত্যতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি।
সম্পর্কটি পুনর্গঠন না করে শেষ করার সিদ্ধান্ত হলে যোগাযোগ, বসবাস, আর্থিক বিষয় এবং সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্ট boundary তৈরি করা প্রয়োজন হতে পারে।
দুজনেই সম্পর্কটি নিয়ে কাজ করতে চাইলে Couples Therapy বিশ্বাস, যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে।
যদি সম্পর্কের মধ্যে—
শারীরিক সহিংসতা
হুমকি
জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ
ভয় দেখানো
নিরাপত্তার ঝুঁকি
থাকে, তাহলে শুধু সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা না করে নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে মুখোমুখি confrontation পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত ব্যক্তি, পেশাদার সহায়তা বা স্থানীয় জরুরি সেবার সাহায্য নেওয়া উচিত।
পরকীয়ার পেছনে আবেগিক দূরত্ব, দাম্পত্য সমস্যা, যৌন অসন্তুষ্টি, নতুনত্বের আকর্ষণ, Attention বা Validation-এর চাহিদা, সুযোগ এবং ব্যক্তিগত boundary—বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।
না। যৌন অসন্তুষ্টি কিছু ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে আবেগিক সংযোগ, মনোযোগ, নতুনত্ব এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বর্তমান সম্পর্কের বাইরে অন্য একজনের সঙ্গে এমন গভীর আবেগিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়া, যা বর্তমান সম্পর্কের boundary অতিক্রম করে বা সঙ্গীর কাছ থেকে গোপন রাখা হয়, তাকে Emotional Affair বলা হতে পারে।
Facebook বা Messenger নিজে পরকীয়ার কারণ নয়। তবে এগুলো নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গোপন যোগাযোগ সহজ করে দিতে পারে।
এর একক উত্তর নেই। আবেগিক দূরত্ব, যৌন বা সম্পর্কগত সমস্যা, নতুনত্ব, Validation, ব্যক্তিগত boundary ও সিদ্ধান্ত—বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রেও একাধিক কারণ থাকতে পারে—আবেগিক দূরত্ব, দীর্ঘদিনের অসন্তুষ্টি, মনোযোগের চাহিদা, নতুন Emotional Connection, আকর্ষণ এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
ফোন নিয়ে অস্বাভাবিক গোপনীয়তা, নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত যোগাযোগ, আচরণে পরিবর্তন বা দাম্পত্য সম্পর্কে আবেগিক দূরত্ব সম্ভাব্য warning sign হতে পারে। তবে এগুলো একা পরকীয়ার প্রমাণ নয়।
কিছু দম্পতি পরকীয়ার পর সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে পারেন। এর জন্য সততা, সম্পর্কটি শেষ করার সিদ্ধান্ত, বিশ্বাস পুনর্গঠন, যোগাযোগ এবং প্রয়োজনে Couples Counseling গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রথমে তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের স্পষ্ট boundary তৈরি বা যোগাযোগ বন্ধ করা, বর্তমান সম্পর্কের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করা এবং প্রয়োজনে Couples Counseling নেওয়া যেতে পারে।
হ্যাঁ, কিছু দম্পতির ক্ষেত্রে Couples Counseling যোগাযোগ, বিশ্বাস, boundary এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে দুজনেরই অংশগ্রহণ ও নিরাপদ পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।
দাম্পত্য সম্পর্কে দীর্ঘদিনের—
যোগাযোগের সমস্যা
বিশ্বাসের সংকট
ঘন ঘন ঝগড়া
যৌন সম্পর্কের সমস্যা
Emotional Distance
পরকীয়ার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা
থাকলে একজন যোগ্য Couples Counselor বা Psychologist-এর সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
তবে সম্পর্কের মধ্যে সহিংসতা বা হুমকি থাকলে Couples Counseling-এর আগে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পরকীয়া কোনো একক কারণে ঘটে না এবং নারী-পুরুষের জন্য এর কারণও একেবারে আলাদা—এমন ধারণা সঠিক নয়। দাম্পত্য সম্পর্কের আবেগিক সংযোগ, যৌন সম্পর্ক, যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান, ব্যক্তিগত boundary এবং সিদ্ধান্ত—সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্কে সমস্যা দেখা দিলে গোপন সম্পর্কের পরিবর্তে খোলামেলা যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সেলিং বেশি স্বাস্থ্যকর পথ।
এই নিবন্ধটি সাধারণ সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্য নির্দিষ্ট পেশাদার পরামর্শের বিকল্প নয়। সম্পর্কের কারণে তীব্র মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা, সহিংসতা বা হুমকির পরিস্থিতি তৈরি হলে একজন যোগ্য মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী বা উপযুক্ত সহায়তা সেবার পরামর্শ নিন।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ এস.এম আতিকুর রহমান, এমবিবিএস, এম. ফিল (সাইকিয়াট্রি / মনোরোগবিদ্যা), অ্যাডভান্সড ট্রেইন্ড ইন সেক্সুয়াল মেডিসিন (ব্যাঙ্গালোর), সহকারী অধ্যাপক, সাইকিয়াট্রি (মনোরোগবিদ্যা) বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 31 August 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced psychiatrist near you for consultation and treatment.
Read More About This Topic