ঘুম না হওয়া (অনিদ্রা): কারণ, চিকিৎসা, কী পরীক্ষা করবেন ও কোন ডাক্তার দেখাবেন

Doctors24 Editorial TeamAugust 19, 2026
bengali-insomnia-health-guide-infographic
Key Overview

"ঘুমাতে যেতে অনেক সময় লাগা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, খুব ভোরে ঘুম ভেঙে আর ঘুম না আসা বা পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকার পরও ঘুম থেকে উঠে সতেজ না লাগাকে সাধারণভ..."

ঘুমাতে যেতে অনেক সময় লাগা, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, খুব ভোরে ঘুম ভেঙে আর ঘুম না আসা বা পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকার পরও ঘুম থেকে উঠে সতেজ না লাগাকে সাধারণভাবে অনিদ্রা (Insomnia) বলা হয়।

অনিদ্রা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের জন্য সাময়িকভাবে হতে পারে। আবার সপ্তাহে অন্তত ৩ রাত ঘুমের সমস্যা এবং তা ৩ মাস বা তার বেশি সময় ধরে চললে সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি বা Chronic Insomnia হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দিনের কাজ, মনোযোগ, মেজাজ বা কর্মক্ষমতায় সমস্যা তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অনিদ্রার লক্ষণ কী?

অনিদ্রায় নিচের এক বা একাধিক সমস্যা থাকতে পারে—

  • ঘুমাতে যেতে দীর্ঘ সময় লাগা

  • রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া

  • ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর আবার ঘুম না আসা

  • খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়া

  • পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও সতেজ না লাগা

  • দিনে অতিরিক্ত ক্লান্ত বা ঘুমঘুম লাগা

  • মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা

  • খিটখিটে মেজাজ

  • উদ্বেগ বা মন খারাপ বাড়তে থাকা

অনিদ্রার কারণে দিনের কর্মক্ষমতা ও মনোযোগও কমে যেতে পারে।

ঘুম না হওয়ার কারণ কী?

অনিদ্রার একাধিক কারণ থাকতে পারে। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

কাজ, পড়াশোনা, অর্থনৈতিক সমস্যা, সম্পর্ক বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

ঘুম হবে কি না—এ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাও অনিদ্রাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা

উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং কিছু অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে ঘুমের সমস্যা থাকতে পারে।

অনিয়মিত ঘুমের সময়

প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো, রাত জাগা, শিফট ডিউটি বা দীর্ঘদিনের অনিয়মিত রুটিন শরীরের Sleep-Wake Cycle ব্যাহত করতে পারে।

অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার

ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় ফোন, কম্পিউটার বা টেলিভিশন ব্যবহার ঘুমের প্রস্তুতি ও শরীরের ঘুম-জাগরণ চক্রে সমস্যা করতে পারে।

ক্যাফেইন, নিকোটিন ও অ্যালকোহল

বিশেষ করে রাতে কফি, চা, এনার্জি ড্রিংক বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় ঘুমে বাধা দিতে পারে। নিকোটিনও ঘুমের সমস্যা বাড়াতে পারে।

অ্যালকোহল ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করলেও রাতের ঘুম ভেঙে যাওয়া ও ঘুমের মান খারাপ করতে পারে।

কিছু রোগ ও শারীরিক সমস্যা

নিচের সমস্যাগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে—

  • দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা

  • থাইরয়েডের সমস্যা

  • অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট

  • অ্যাসিড রিফ্লাক্স

  • বারবার প্রস্রাব হওয়া

  • Menopause-সংক্রান্ত উপসর্গ

  • Restless Legs Syndrome

  • Sleep Apnea

কিছু ওষুধ

কিছু প্রেসক্রিপশন ও ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসককে জানানো উচিত।

অনিদ্রা কি শুধু মানসিক সমস্যার কারণে হয়?

না। অনিদ্রা মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, কিন্তু এটি শুধুমাত্র মানসিক সমস্যার কারণে হয় না।

শারীরিক রোগ, ওষুধ, জীবনযাপন, অনিয়মিত ঘুমের সময় এবং অন্যান্য Sleep Disorder-এর কারণেও অনিদ্রা হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের সমস্যা হলে মূল কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।

কখন ঘুমের সমস্যা অনিদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়?

কয়েক রাত ঘুম কম হওয়া মানেই Chronic Insomnia নয়।

দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রার ক্ষেত্রে সাধারণত—

  • সপ্তাহে অন্তত ৩ রাত ঘুমের সমস্যা থাকে

  • সমস্যা ৩ মাস বা তার বেশি সময় ধরে থাকে

  • এবং এর ফলে দিনের কাজ বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হয়

চিকিৎসক রোগীর ঘুমের ইতিহাস ও দিনের উপসর্গ বিবেচনা করে রোগ নির্ণয় করেন।

ঘুম না হলে কী কী পরীক্ষা করবেন?

অনিদ্রা নির্ণয়ের জন্য সবার ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা বা Sleep Test প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস, ঘুমের ধরন এবং শারীরিক পরীক্ষা দিয়েই প্রাথমিকভাবে কারণ বোঝা যায়।

Sleep History

চিকিৎসক জানতে চাইতে পারেন—

  • কখন বিছানায় যান

  • কখন ঘুম আসে

  • রাতে কতবার ঘুম ভাঙে

  • সকালে কখন ঘুম ভাঙে

  • দিনে ঘুমান কি না

  • ক্যাফেইন বা অন্যান্য পানীয় কখন পান করেন

  • মোবাইল বা স্ক্রিন কতক্ষণ ব্যবহার করেন

  • নাক ডাকেন কি না

  • ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ বা হাঁসফাঁস হয় কি না

  • দিনে অতিরিক্ত ঘুমঘুম লাগে কি না

Sleep Diary

১–২ সপ্তাহের Sleep Diary রাখলে ঘুমের সময়সূচি ও সমস্যার ধরন বোঝা সহজ হয়।

এতে লিখে রাখতে পারেন—

  • কখন ঘুমাতে গেলেন

  • কখন ঘুম এল

  • রাতে কতবার জেগেছেন

  • সকালে কখন উঠেছেন

  • দিনের বেলা ঘুমিয়েছেন কি না

  • ক্যাফেইন কখন পান করেছেন

  • দিনের বেলা কতটা ঘুমঘুম লেগেছে

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে এই তথ্যগুলো থাকলে মূল্যায়নে সাহায্য করতে পারে।

রক্ত পরীক্ষা

প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন। বিশেষ করে থাইরয়েডের সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক রোগের সন্দেহ থাকলে পরীক্ষা করা হতে পারে।

সম্ভাব্য পরীক্ষার মধ্যে থাকতে পারে—

  • TSH

  • Free T4

  • CBC

  • Blood Sugar

  • Ferritin বা Iron studies

  • অন্যান্য পরীক্ষা, রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী

সব রোগীর জন্য সব পরীক্ষা দরকার হয় না।

Sleep Study বা Polysomnography

সাধারণ অনিদ্রা নির্ণয়ের জন্য সবসময় Sleep Study দরকার হয় না।

তবে যদি Sleep Apnea, Restless Legs Syndrome, Narcolepsy বা অন্য কোনো Sleep Disorder-এর সন্দেহ থাকে, চিকিৎসক Sleep Study করতে পারেন। এতে ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকলাপ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তের অক্সিজেনসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়।

Actigraphy

কিছু ক্ষেত্রে কবজিতে পরা একটি ছোট ডিভাইস ব্যবহার করে কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে ঘুম ও জাগরণের ধরন পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। এটিকে Actigraphy বলা হয়।

অনিদ্রার চিকিৎসা কী?

অনিদ্রার চিকিৎসা কারণ ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।

CBT-I

দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রার ক্ষেত্রে Cognitive Behavioral Therapy for Insomnia (CBT-I) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সারির চিকিৎসা।

এতে ঘুম সম্পর্কে অস্বাস্থ্যকর চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তন, ঘুমের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণ, Stimulus Control, Relaxation এবং অন্যান্য আচরণগত কৌশল ব্যবহার করা হয়। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের একটি কাঠামোবদ্ধ চিকিৎসা পরিকল্পনা হিসেবে এটি দেওয়া হয়।

ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন

  • প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যান ও উঠুন।

  • ঘুমের আগে মোবাইল ও অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমান।

  • শোবার ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন।

  • রাতে ক্যাফেইন ও নিকোটিন এড়িয়ে চলুন।

  • দিনের বেলা নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করুন।

  • দীর্ঘ সময় দিনের বেলা ঘুমানো এড়িয়ে চলুন।

  • ঘুমের ঠিক আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।

ঘুমের ওষুধ

কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক স্বল্পমেয়াদি বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঘুমের ওষুধ দিতে পারেন।

তবে নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ, অ্যান্টিহিস্টামিন, সেডেটিভ বা অন্য কোনো ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, নির্ভরশীলতার ঝুঁকি বা অন্যান্য ওষুধের সঙ্গে Interaction থাকতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রায় শুধু ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর না করে কারণ শনাক্ত ও CBT-I-এর মতো উপযুক্ত চিকিৎসা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

Melatonin কি অনিদ্রার চিকিৎসা?

Melatonin কিছু নির্দিষ্ট ঘুম-জাগরণ সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে সাধারণ Chronic Insomnia-এর জন্য এটি সবার ক্ষেত্রে কার্যকর—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তাই নিজে থেকে নিয়মিত Melatonin বা অন্য Sleep Supplement শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ঘুম না হলে রাতে কী করবেন?

ঘুমানোর চেষ্টা করেও যদি দীর্ঘ সময় ঘুম না আসে, তাহলে বিছানায় জেগে থেকে দুশ্চিন্তা না করে কিছুক্ষণ শান্ত ও কম আলোযুক্ত পরিবেশে থাকুন এবং ঘুমঘুম ভাব এলে আবার বিছানায় যান।

CBT-I-এর Stimulus Control পদ্ধতিতেও বিছানাকে মূলত ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনিদ্রা কমাতে কী করবেন?

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান ও উঠুন।

  • দিনের বেলা নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করুন।

  • রাতে চা, কফি ও এনার্জি ড্রিংক কমান বা এড়িয়ে চলুন।

  • ঘুমের আগে মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার কমান।

  • দিনের দীর্ঘ ঘুম এড়িয়ে চলুন।

  • শোবার ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখুন।

  • ঘুমের আগে আরামদায়ক একটি রুটিন তৈরি করুন।

  • স্ট্রেস ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।

কখন ঘুম না হওয়ার জন্য ডাক্তার দেখাবেন?

নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

  • কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘুমের সমস্যা চলছে

  • সপ্তাহে বারবার ঘুমের সমস্যা হচ্ছে

  • দিনের কাজ বা পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে

  • দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমঘুম লাগে

  • নাক ডাকার সঙ্গে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে

  • রাতে বারবার হাঁসফাঁস করে জেগে ওঠেন

  • দীর্ঘদিন উদ্বেগ বা মন খারাপের সঙ্গে অনিদ্রা রয়েছে

  • দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অন্য রোগের সঙ্গে ঘুমের সমস্যা রয়েছে

  • ঘুমের ওষুধ ছাড়া ঘুমাতে পারছেন না

বিশেষ করে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া বা দিনে অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকলে শুধু অনিদ্রা ধরে না নিয়ে Sleep Apnea-এর মতো অন্য ঘুমের সমস্যার মূল্যায়ন করা দরকার।

ঘুম না হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?

প্রথমে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (Internal Medicine Specialist) বা সাইকিয়াট্রিস্ট (Psychiatrist) দেখানো যেতে পারে।

প্রয়োজনে—

  • Sleep Medicine Specialist: দীর্ঘস্থায়ী বা জটিল ঘুমের সমস্যার জন্য।

  • Psychiatrist: উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা অন্যান্য মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে অনিদ্রা থাকলে।

  • Neurologist: কিছু নির্দিষ্ট Sleep Disorder বা স্নায়বিক সমস্যার সন্দেহ হলে।

  • Pulmonologist: নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া বা Sleep Apnea-এর সন্দেহ থাকলে।

  • Endocrinologist: থাইরয়েড বা অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যার সঙ্গে ঘুমের সমস্যা থাকলে।

সাধারণ অনিদ্রার ক্ষেত্রে প্রথমে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বা উপযুক্ত Sleep Medicine Specialist-এর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

ঘুম না হওয়া কি একটি রোগ?

হ্যাঁ, দীর্ঘস্থায়ী ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলা ঘুমের সমস্যাকে Insomnia Disorder হিসেবে নির্ণয় করা যেতে পারে। তবে কয়েক দিন ঘুম কম হওয়া মানেই Chronic Insomnia নয়।

অনিদ্রার জন্য কি Sleep Test করতে হয়?

সবসময় নয়। সাধারণ অনিদ্রা অনেক সময় বিস্তারিত Sleep History ও Sleep Diary-এর মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যায়। Sleep Study সাধারণত অন্য কোনো Sleep Disorder-এর সন্দেহ থাকলে করা হয়।

ঘুম না হলে কোন রক্ত পরীক্ষা করবেন?

কারণ অনুযায়ী TSH, Free T4, CBC, Blood Sugar, Ferritin বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। তবে সব রোগীর সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।

অনিদ্রার সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা কী?

দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রার ক্ষেত্রে CBT-I একটি প্রধান ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা এবং সাধারণত প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঘুমের ওষুধ কি প্রতিদিন খাওয়া যায়?

নিজে থেকে প্রতিদিন ঘুমের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। ওষুধের ধরন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, নির্ভরশীলতার ঝুঁকি ও অন্যান্য রোগ বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।

রাতে ঘুম না হলে কি দিনে ঘুমানো যাবে?

দীর্ঘ বা বিকেলের ঘুম রাতের ঘুম আরও কঠিন করে তুলতে পারে। তাই বিশেষ করে অনিদ্রায় দিনের দীর্ঘ Nap এড়ানো বা সীমিত করা উপকারী হতে পারে।

নাক ডাকলে কি অনিদ্রার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে?

হ্যাঁ। বিশেষ করে জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া বা হাঁসফাঁস করে জেগে ওঠার সঙ্গে দিনের অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব থাকলে Sleep Apnea-এর মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

ঘুম না হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?

প্রথমে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সাইকিয়াট্রিস্ট বা Sleep Medicine Specialist দেখানো যেতে পারে। আপনার উপসর্গ অনুযায়ী প্রয়োজনে অন্য বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হতে পারে।

সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

ঘুম না হওয়াকে শুধু “রাতে ঘুম আসে না” হিসেবে দেখলে মূল কারণটি অজানা থেকে যেতে পারে। দীর্ঘদিনের অনিদ্রার পেছনে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ওষুধ, থাইরয়েড, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অন্য কোনো Sleep Disorder থাকতে পারে। তাই সমস্যা বারবার হলে কারণ নির্ণয় করে উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার এলাকার অভিজ্ঞ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সাইকিয়াট্রিস্ট বা Sleep Medicine Specialist খুঁজে পেতে Doctors24-এর ডাক্তার ডিরেক্টরি ব্যবহার করতে পারেন।

মেডিক্যাল ডিসক্লেইমার

এই নিবন্ধটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত দিনের ঘুমভাব, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া, তীব্র উদ্বেগ বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ থাকলে একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ বা সেডেটিভ শুরু করবেন না।

Content prepared by: Doctors24 Editorial Team

Medical information is verified using registered doctor data and trusted healthcare sources

Information sources: Public records, hospital data, and provided credentials

Published At: August 19, 2026

Last updated: August 19, 2026 Read Editorial Policy →

Related Psychiatrist Articles

View all →

Related Psychiatrist Videos

View all →