/
চিকুনগুনিয়ার পর জয়েন্ট ব্যথা, আর্থ্রালজিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী আর্থ্রাইটিসের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও কখন বিশেষজ্ঞ দেখাবেন

চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ, যার সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে তীব্র জয়েন্ট ব্যথা। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ কয়েক দিনের মধ্যে কমে গেলেও জয়েন্টের ব্যথা ও শক্তভাব আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে থাকতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের সংক্রমণের সময় শরীরে তীব্র প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর ফলে জয়েন্ট ও আশপাশের টিস্যুতে প্রদাহ তৈরি হয়ে তীব্র ব্যথা, শক্তভাব এবং কখনও জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার জয়েন্ট ব্যথা অনেক সময় এত তীব্র হয় যে হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা, হাতের কাজ বা দৈনন্দিন কাজ করতেও সমস্যা হতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার মূল সংক্রমণ কমে যাওয়ার পরও কিছু মানুষের শরীরে জয়েন্টের প্রদাহ ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া কিছু সময় ধরে চলতে পারে। ফলে জ্বর সেরে গেলেও জয়েন্টে ব্যথা, শক্তভাব বা ফোলা থাকতে পারে।
WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, চিকুনগুনিয়ার জয়েন্ট ব্যথা সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হলেও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ, মাস বা আরও দীর্ঘ সময় থাকতে পারে।
Arthralgia বলতে মূলত জয়েন্টে ব্যথা বোঝায়, কিন্তু এতে জয়েন্টে প্রদাহ থাকা আবশ্যক নয়।
Arthritis হলো জয়েন্টের প্রদাহ, যেখানে ব্যথার পাশাপাশি জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, গরম লাগা, শক্ত হয়ে যাওয়া বা নড়াচড়ায় সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার পর শুধু ব্যথা থাকলেই Arthritis হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসক উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি মূল্যায়ন করেন।
চিকুনগুনিয়ার পর জয়েন্ট ব্যথার স্থায়িত্ব সবার ক্ষেত্রে একই নয়।
চিকুনগুনিয়ার তীব্র পর্যায়ে জ্বরের সঙ্গে জয়েন্ট ব্যথা শুরু হতে পারে। হাঁটু, গোড়ালি, কবজি, হাতের আঙুলসহ একাধিক জয়েন্টে ব্যথা দেখা দিতে পারে।
জ্বর সেরে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ ব্যথা থাকা চিকুনগুনিয়ার পরিচিত পরবর্তী সমস্যা। ব্যথার সঙ্গে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়াও থাকতে পারে।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে জয়েন্ট ব্যথা কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা সকালে দীর্ঘসময় শক্ত হয়ে থাকার মতো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
ব্যথা যদি কয়েক সপ্তাহ পরও না কমে, ক্রমশ বাড়ে, একাধিক জয়েন্ট ফুলে যায় বা হাঁটা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
WHO বলছে, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চিকুনগুনিয়ার পর দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট ব্যথা মাস বা এমনকি বছর পর্যন্ত থাকতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার পর দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে, কিন্তু চিকুনগুনিয়া হলেই Rheumatoid Arthritis হয়ে যায়—এমন নয়।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণের পর দীর্ঘস্থায়ী inflammatory joint symptoms বা arthritis-এর মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের ব্যথাকে শুধু “ভাইরাসের ব্যথা” ধরে না নিয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
না।
শুধু জয়েন্টে ব্যথা থাকলেই Arthritis বলা যায় না। জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, গরম হয়ে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী stiffness এবং নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতার মতো লক্ষণ থাকলে প্রদাহজনিত Arthritis-এর সম্ভাবনা বেশি বিবেচনা করা হয়।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো:
একাধিক জয়েন্টে ব্যথা
জয়েন্ট ফুলে যাওয়া
জয়েন্ট গরম অনুভূত হওয়া
সকালে জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকা
নড়াচড়া করলে stiffness কিছুটা কমা
দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ থাকা
চিকুনগুনিয়ার পর শুধু ব্যথা নয়, যদি জয়েন্ট নিয়মিত ফুলে থাকে বা শক্ত হয়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Inflammatory joint problem-এর ক্ষেত্রে বিশ্রামের পর জয়েন্ট শক্ত লাগতে পারে। সকালে দীর্ঘসময় stiffness থাকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
চিকুনগুনিয়ায় একাধিক জয়েন্টে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ। তবে সংক্রমণ সেরে যাওয়ার পরও যদি একাধিক জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা ও stiffness দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে post-chikungunya inflammatory arthritis বা অন্য কোনো rheumatologic সমস্যার সম্ভাবনা চিকিৎসক মূল্যায়ন করতে পারেন।
হাঁটুতে ব্যথা ও শক্তভাবের কারণে হাঁটা বা সিঁড়ি ওঠায় সমস্যা হতে পারে।
গোড়ালি ও পায়ের ছোট জয়েন্টে ব্যথা বা ফোলা দেখা দিতে পারে।
কবজি ও হাতের জয়েন্টে ব্যথা হলে দৈনন্দিন কাজ, যেমন লেখা বা জিনিস ধরা, কঠিন হতে পারে।
হাত ও পায়ের আঙুলের জয়েন্টেও ব্যথা বা stiffness থাকতে পারে।
চিকুনগুনিয়ায় একাধিক জয়েন্ট একসঙ্গে আক্রান্ত হওয়া খুবই পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
বাংলাদেশের মতো অঞ্চলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া গুরুত্বপূর্ণ কারণ একই ধরনের Aedes মশা দুই রোগই ছড়াতে পারে। পাশাপাশি দুই রোগের অনেক উপসর্গ একই হওয়ায় শুধু উপসর্গ দেখে সবসময় নিশ্চিতভাবে রোগ আলাদা করা যায় না।
দুই রোগেই হঠাৎ জ্বর হতে পারে। চিকুনগুনিয়ায় তীব্র জয়েন্ট ব্যথা বিশেষভাবে prominent হতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের একটি হলো তীব্র ও কখনও দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট ব্যথা। ডেঙ্গুতেও শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে, তবে চিকুনগুনিয়ায় জয়েন্টের উপসর্গ সাধারণত বেশি prominent।
দুই রোগেই ত্বকে র্যাশ হতে পারে। তাই শুধু র্যাশ দেখে রোগ নির্ণয় করা যায় না।
ডেঙ্গুতে গুরুতর অবস্থায় রক্তপাতের ঝুঁকি গুরুত্বপূর্ণ। মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, রক্তবমি বা পায়খানায় রক্তের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
নিম্নোক্ত লক্ষণ থাকলে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
তীব্র পেট ব্যথা
বারবার বমি
নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত
রক্তবমি বা কালো/রক্তযুক্ত পায়খানা
দ্রুত শ্বাস নেওয়া
অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা
ডেঙ্গু বাদ না দেওয়া পর্যন্ত নিজে থেকে Aspirin, Ibuprofen বা অন্য NSAID শুরু করবেন না, কারণ ডেঙ্গুতে এসব ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। WHO চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে ডেঙ্গু বাদ না দেওয়া পর্যন্ত NSAID এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়।
সব রোগীর জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসক উপসর্গ, শারীরিক পরীক্ষা এবং রোগের ইতিহাসের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্বাচন করেন।
চিকিৎসক জয়েন্টে:
ফোলা
গরমভাব
ব্যথা
নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা
আছে কি না পরীক্ষা করতে পারেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী CBC বা অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে, বিশেষ করে জ্বর বা অন্য উপসর্গ থাকলে।
দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্টের প্রদাহের সম্ভাবনা থাকলে ESR ও CRP-এর মতো inflammatory marker পরীক্ষা করা হতে পারে।
শুধু চিকুনগুনিয়ার পর জয়েন্ট ব্যথা হলেই Rheumatoid Arthritis-এর পরীক্ষা করতে হবে—এমন নয়।
যদি উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষায় Rheumatoid Arthritis বা অন্য কোনো autoimmune arthritis-এর সন্দেহ থাকে, চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী Rheumatoid Factor (RF), Anti-CCPসহ অন্যান্য পরীক্ষা দিতে পারেন।
দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট সমস্যা, ফোলা বা নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা থাকলে জয়েন্টের গঠন ও প্রদাহ মূল্যায়নের জন্য X-ray বা Ultrasound করা হতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার জন্য বর্তমানে নির্দিষ্ট কোনো antiviral treatment নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো জ্বর ও জয়েন্ট ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং বিশ্রাম।
অসুস্থতার তীব্র পর্যায়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং শরীরে পানির ঘাটতি না হতে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যথা ও জ্বর কমানোর ওষুধ দিতে পারেন।
ডেঙ্গু বাদ না দেওয়া পর্যন্ত সাধারণত Paracetamol-এর মতো উপযুক্ত ওষুধ ব্যবহার করা হয়। Aspirin বা Ibuprofen-এর মতো NSAID নিজে থেকে শুরু করা উচিত নয়।
ডেঙ্গু নিশ্চিতভাবে বাদ পড়ার পর এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে অন্য ধরনের ব্যথানাশক বা anti-inflammatory ওষুধ বিবেচনা করতে পারেন।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও stiffness-এর ক্ষেত্রে Physical Therapy গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর মাধ্যমে জয়েন্টের নড়াচড়া বজায় রাখা, পেশির শক্তি উন্নত করা এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করা যায়।
তীব্র অসুস্থতা কমে গেলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা movement ও exercise ধীরে ধীরে শুরু করা যেতে পারে।
যদি দীর্ঘদিনের জয়েন্ট ফোলা, stiffness ও inflammatory arthritis-এর লক্ষণ থাকে, তাহলে শুধু সাধারণ painkiller-এর ওপর নির্ভর না করে Rheumatologist-এর মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
কারণ তখন post-chikungunya inflammatory arthritis-এর পাশাপাশি অন্য কোনো rheumatologic disease আছে কি না তাও বিবেচনা করতে হয়।
তীব্র জ্বর ও অসুস্থতার সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। উপসর্গ কমে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা নড়াচড়া শুরু করা যেতে পারে।
WHO-এর clinical guidance-এ recovery phase-এ mild exercise ও physiotherapy-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রোগীর অবস্থা অনুযায়ী:
হালকা stretching
Range-of-motion exercise
ধীরে হাঁটা
জয়েন্ট নড়াচড়ার ব্যায়াম
পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম
করানো হতে পারে।
হ্যাঁ। ব্যথা বা ফোলা থাকা অবস্থায় অতিরিক্ত exercise করলে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। তাই ধীরে শুরু করে শরীরের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো উচিত।
দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট ব্যথা, stiffness, movement limitation এবং rehabilitation-এর প্রয়োজন হলে Physical Medicine & Rehabilitation Specialist রোগীর জন্য উপযুক্ত exercise, physiotherapy ও functional rehabilitation পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।
নিচের পরিস্থিতিতে Rheumatologist-এর পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে:
চিকুনগুনিয়ার acute illness শেষ হওয়ার পরও ব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে।
বিশেষ করে বারবার বা দীর্ঘসময় জয়েন্ট ফুলে থাকলে।
দীর্ঘস্থায়ী morning stiffness inflammatory arthritis-এর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
যদি ব্যথা ও stiffness-এর কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে যায়।
ব্যথা কমে আবার নিয়মিত ফিরে এলে কারণ নির্ণয়ের জন্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং rehabilitation-এর প্রয়োজন থাকলে।
জয়েন্টের নড়াচড়া কমে গেলে বা stiffness থাকলে।
দৈনন্দিন কাজ ও স্বাভাবিক movement ফিরিয়ে আনতে structured rehabilitation প্রয়োজন হলে Physical Medicine Specialist উপকারী হতে পারেন।
Rheumatologist মূলত দীর্ঘস্থায়ী inflammatory বা autoimmune joint disease-এর কারণ ও চিকিৎসা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে Physical Medicine & Rehabilitation Specialist ব্যথা, stiffness, movement limitation এবং rehabilitation-এর দিকে বেশি গুরুত্ব দেন। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দুই ধরনের Specialist-এর সমন্বিত চিকিৎসাও প্রয়োজন হতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার পর জয়েন্ট ব্যথাকে সবসময় harmless ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিশেষ করে একটি জয়েন্ট হঠাৎ খুব ফুলে ও ব্যথাযুক্ত হলে দ্রুত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
তীব্র লালভাব ও গরমভাবের সঙ্গে ব্যথা থাকলে infection বা অন্য জরুরি joint problem-এর সম্ভাবনা বিবেচনা করতে হয়।
হাঁটতে না পারা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা নতুন neurological symptoms হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
জ্বর আবার ফিরে এলে শুধু চিকুনগুনিয়ার পুরোনো উপসর্গ ধরে নেওয়া উচিত নয়।
শ্বাসকষ্ট, রক্তপাত, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, তীব্র পেট ব্যথা বা অন্য গুরুতর উপসর্গ থাকলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। ডেঙ্গুর গুরুতর লক্ষণও এ ধরনের অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
দীর্ঘদিন নিজে থেকে ব্যথার ওষুধ খাওয়া নিরাপদ নয়। কিডনি, পাকস্থলী ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করা প্রয়োজন।
Aspirin, Ibuprofen, Naproxen-এর মতো NSAID নিজে থেকে শুরু করবেন না যতক্ষণ না ডেঙ্গু যথাযথভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গুতে bleeding risk-এর কারণে এই সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকুনগুনিয়ার পর কিছুদিন ব্যথা থাকা সম্ভব হলেও দীর্ঘস্থায়ী, বাড়তে থাকা বা অক্ষম করে দেওয়া ব্যথার চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।
তীব্র অসুস্থতার সময় বিশ্রাম প্রয়োজন হলেও দীর্ঘদিন সম্পূর্ণ bed rest করলে stiffness ও muscle weakness বাড়তে পারে। সুস্থতার পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে movement ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ।
Steroidসহ দীর্ঘমেয়াদি anti-inflammatory treatment সবার জন্য প্রয়োজন হয় না। কারণ ও রোগের ধরন মূল্যায়ন করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেবেন।
চিকুনগুনিয়ার পর কিছু মানুষের জয়েন্টে প্রদাহ ও immune response কিছু সময় ধরে থাকতে পারে। তাই জ্বর সেরে গেলেও ব্যথা, stiffness বা ফোলা থাকতে পারে।
বেশিরভাগ মানুষ দ্রুত সুস্থ হয়ে গেলেও জয়েন্ট ব্যথা কয়েক সপ্তাহ বা মাস থাকতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণের পর দীর্ঘস্থায়ী inflammatory joint symptoms বা arthritis-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে চিকুনগুনিয়া হলেই Rheumatoid Arthritis হয়—এমন নয়।
হাঁটু চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে এমন জয়েন্টগুলোর একটি। ভাইরাসের সংক্রমণের সময় ও পরবর্তী inflammatory response-এর কারণে হাঁটুতে ব্যথা ও stiffness থাকতে পারে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি পান করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করুন। ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, জয়েন্ট ফুলে গেলে বা দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডেঙ্গু বাদ না দেওয়া পর্যন্ত Paracetamol সাধারণত ব্যবহৃত হয়। Aspirin বা Ibuprofen-এর মতো NSAID নিজে থেকে শুরু করা উচিত নয়। ডেঙ্গু বাদ যাওয়ার পরও কোন ওষুধ প্রয়োজন হবে তা চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন।
তীব্র অসুস্থতার সময় বিশ্রাম জরুরি। উপসর্গ কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা stretching, range-of-motion exercise ও হাঁটা শুরু করা যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী stiffness থাকলে physiotherapy উপকারী হতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ পরও ব্যথা না কমলে, একাধিক জয়েন্ট ফুলে গেলে, সকালে দীর্ঘসময় stiffness থাকলে বা ব্যথার কারণে হাঁটা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে Rheumatologist-এর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
চিকুনগুনিয়ার জ্বর কয়েক দিনের মধ্যে কমে গেলেও জয়েন্ট ব্যথা সবসময় সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় না। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ব্যথা কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে থাকতে পারে এবং অল্পসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
তবে দীর্ঘদিনের জয়েন্ট ব্যথাকে শুধু চিকুনগুনিয়ার স্বাভাবিক পরবর্তী উপসর্গ ধরে নেওয়া উচিত নয়। জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী morning stiffness, একাধিক জয়েন্ট আক্রান্ত হওয়া বা চলাফেরায় সমস্যা হলে Rheumatologist বা Physical Medicine & Rehabilitation Specialist-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর উপসর্গের মধ্যে মিল রয়েছে। তাই ডেঙ্গু বাদ দেওয়ার আগে নিজে থেকে Aspirin বা Ibuprofen-এর মতো NSAID গ্রহণ করা উচিত নয়।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকুনগুনিয়ার পর দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্ট ব্যথা, ফোলা, stiffness বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ থাকলে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম হোসেন, এমবিবিএস (সিওমেক) এমডি (বিএসএমএমইউ), এমএসিআর, এমএসিপি (আমেরিকা), সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ফিজিক্যাল মেডিসিন & রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ & হাসপাতাল, সাভার, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 18 August 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced physical medicine near you for consultation and treatment.
Read More About This Topic