গর্ভাবস্থায় UTI-এর লক্ষণ, নিরাপদ চিকিৎসা, শিশুর ঝুঁকি ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের ইনফেকশন বা Urinary Tract Infection (UTI) একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। হরমোনজনিত পরিবর্তন, জরায়ুর আকার বৃদ্ধি এবং মূত্রনালিতে প্রস্রাবের প্রবাহ ধীর হয়ে যাওয়ার কারণে গর্ভবতী নারীদের UTI হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি থাকে।
অনেক সময় প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব বা তলপেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও, কিছু গর্ভবতী নারীর কোনো লক্ষণ ছাড়াই UTI থাকতে পারে। এই অবস্থাকে Asymptomatic Bacteriuria বলা হয়, যা চিকিৎসা না করলে মা ও গর্ভের শিশুর জন্য জটিলতার কারণ হতে পারে।
এই ভিডিওতে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডাঃ ইশরাত জাহান ইভা গর্ভাবস্থায় UTI-এর কারণ, লক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, নিরাপদ চিকিৎসা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
UTI হলো মূত্রতন্ত্রের (Urinary Tract) যে কোনো অংশে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। এটি মূত্রথলি, মূত্রনালি বা কিডনিকে আক্রান্ত করতে পারে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অন্ত্রে থাকা Escherichia coli (E. coli) নামের ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালিতে প্রবেশ করে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।
গর্ভাবস্থায়:
হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মূত্রনালি শিথিল হয়ে যায়
জরায়ু বড় হয়ে মূত্রনালির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে
প্রস্রাব সম্পূর্ণ বের না হলে ব্যাকটেরিয়া সহজে বৃদ্ধি পেতে পারে
ফলে UTI হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
স্বাভাবিকের তুলনায় বারবার প্রস্রাবের বেগ হতে পারে।
মূত্রথলির আশপাশে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
যদি সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে জ্বর, কাঁপুনি এবং কোমর ব্যথা হতে পারে।
এছাড়াও থাকতে পারে:
প্রস্রাবে দুর্গন্ধ
ঘোলা প্রস্রাব
প্রস্রাবে রক্ত
প্রস্রাবের তীব্র বেগ
হ্যাঁ। গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর কোনো উপসর্গ ছাড়াই প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া থাকে কিন্তু রোগীর কোনো উপসর্গ থাকে না।
গর্ভাবস্থায় Asymptomatic Bacteriuria চিকিৎসা না করলে পরবর্তীতে কিডনির সংক্রমণ (Pyelonephritis) এবং গর্ভাবস্থার অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।
নির্ধারিত সময়ের আগেই পানির থলি ফেটে যেতে পারে।
অপরিণত বা সময়ের আগে প্রসবের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে গেলে এটি গুরুতর অসুস্থতার কারণ হতে পারে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রস্রাবে সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ মূল্যায়নের জন্য এই পরীক্ষা করা হয়।
ব্যাকটেরিয়ার ধরন এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হবে তা জানার জন্য Urine Culture & Sensitivity (C/S) পরীক্ষা করা হতে পারে।
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে:
UTI-এর লক্ষণ থাকলে
গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিংয়ের জন্য
চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে পুনরায় মূল্যায়নের জন্য
গর্ভাবস্থায় সব অ্যান্টিবায়োটিক নিরাপদ নয়। তাই শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত।
সংক্রমণের ধরন, গর্ভাবস্থার সময়কাল এবং রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক কয়েক দিনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ পুরোপুরি সেরেছে কি না তা নিশ্চিত করতে পুনরায় প্রস্রাব পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করলে ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।
টয়লেট ব্যবহারের পর সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করুন।
পরিষ্কার ও শুকনো অন্তর্বাস ব্যবহার করুন।
দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখবেন না।
আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
জ্বর, কাঁপুনি এবং কোমরের এক বা দুই পাশে ব্যথা কিডনির সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তীব্র ব্যথা, প্রস্রাব করতে না পারা বা প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে।
এছাড়াও দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি:
বারবার UTI হয়
গর্ভাবস্থায় পেটব্যথা বা জরায়ু সংকোচন শুরু হয়
শিশুর নড়াচড়া কম মনে হয় (গর্ভকাল অনুযায়ী)
চিকিৎসা না করলে কিছু ক্ষেত্রে সময়ের আগে প্রসব, কিডনির সংক্রমণ বা অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো ফল পাওয়া যায়।
হ্যাঁ। Asymptomatic Bacteriuria-তে কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে, তাই প্রয়োজন হলে স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ।
সব অ্যান্টিবায়োটিক নয়। চিকিৎসক গর্ভাবস্থার জন্য নিরাপদ ওষুধ নির্বাচন করেন।
অসম্পূর্ণ চিকিৎসা, পর্যাপ্ত পানি না পান করা, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত কারণের জন্য বারবার UTI হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করা উপকারী হতে পারে, তবে এটি অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের ইনফেকশনকে অবহেলা করা উচিত নয়। এমনকি কোনো উপসর্গ না থাকলেও প্রস্রাবে ব্যাকটেরিয়া থাকলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয়, নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ফলো-আপের মাধ্যমে মা ও গর্ভের শিশুকে সম্ভাব্য জটিলতা থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। তাই প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, জ্বর, কোমর ব্যথা বা অন্য কোনো সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ ইশরাত জাহান ইভা, এমবিবিএস, ডিজিও, এফসিপিএস, সহযোগী অধ্যাপক (প্রসূতি ও গাইনী বিভাগ), শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 6 July 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced gynecologist near you for consultation and treatment.