/
গর্ভাবস্থায় যেসব ভুল শিশুর ক্ষতি করতে পারে, জন্মগত ত্রুটির কারণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যেমন জরুরি, তেমনি গর্ভের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক গর্ভবতী মা উদ্বিগ্ন হয়ে জানতে চান—"আমি কি এমন কিছু করছি, যা শিশুর ক্ষতি করতে পারে?" অথবা "জন্মগত ত্রুটি কেন হয় এবং কীভাবে এর ঝুঁকি কমানো যায়?"
বাস্তবতা হলো, সব জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে জিনগত বা অজানা কারণ দায়ী থাকে। তবে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ও ভুল এড়িয়ে চললে জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
এই ভিডিওতে গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ রেবেকা তারান্নুম (শাম্মী) গর্ভাবস্থায় যেসব ভুল শিশুর ক্ষতি করতে পারে, জন্মগত ত্রুটির সম্ভাব্য কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
জন্মগত ত্রুটি (Birth Defects) হলো শিশুর জন্মের সময় উপস্থিত কোনো গঠনগত, কার্যগত বা বিকাশজনিত সমস্যা, যা শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে।
এগুলো হতে পারে:
হৃদযন্ত্রের জন্মগত ত্রুটি
ঠোঁট বা তালু কাটা
মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ত্রুটি
হাত-পায়ের গঠনগত ত্রুটি
ক্রোমোজোমজনিত সমস্যা
অনেক জন্মগত ত্রুটি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব।
সব ওষুধ গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নয়।
কিছু ওষুধ:
গর্ভের শিশুর অঙ্গ গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে
জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে
গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে
করণীয়: যেকোনো ওষুধ, হারবাল পণ্য বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভধারণের আগে এবং গর্ভাবস্থার শুরুতে ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ না করলে শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কিছু জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
করণীয়: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করুন।
ধূমপান এবং অন্যের ধোঁয়ার সংস্পর্শ শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এর ফলে:
কম ওজনের শিশু জন্ম
অকাল প্রসব
কিছু জন্মগত সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি
ঘটতে পারে।
গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল সেবনের নিরাপদ মাত্রা নির্ধারিত নয়।
এটি শিশুর:
মস্তিষ্কের বিকাশ
শেখার ক্ষমতা
আচরণগত বিকাশ
প্রভাবিত করতে পারে।
গর্ভধারণের আগে বা গর্ভাবস্থায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
করণীয়: ডায়াবেটিস থাকলে গর্ভধারণের পরিকল্পনার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আনুন।
গর্ভাবস্থায় কিছু সংক্রমণ গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে।
যেমন:
রুবেলা
টক্সোপ্লাজমোসিস
সাইটোমেগালোভাইরাস (CMV)
ভ্যারিসেলা
করণীয়: জ্বর, ফুসকুড়ি বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কিছু খাবারের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।
যেমন:
কাঁচা বা আধা-সিদ্ধ মাংস
কাঁচা ডিম
অপাস্তুরিত দুধ
অস্বাস্থ্যকর খাবার
কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের অতিরিক্ত সংস্পর্শ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সম্ভব হলে এ ধরনের পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।
চেকআপ এড়িয়ে গেলে অনেক সমস্যা সময়মতো শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
করণীয়: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত অ্যান্টেনাটাল চেকআপ করুন।
জিনগত বা ক্রোমোজোমজনিত সমস্যা
মায়ের বয়স বেশি হওয়া
পরিবারে জন্মগত ত্রুটির ইতিহাস
কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ
নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিস
কিছু সংক্রমণ
ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার
পুষ্টির ঘাটতি
না। সব জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
অনেক ক্ষেত্রে:
জিনগত কারণ
ক্রোমোজোমের পরিবর্তন
অজানা কারণ
দায়ী থাকতে পারে।
তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতার মাধ্যমে অনেক ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশেষ করে যদি:
ডায়াবেটিস থাকে
মৃগীরোগ থাকে
নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন
পূর্বে জন্মগত ত্রুটিযুক্ত সন্তান হয়ে থাকে
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুষম খাদ্য শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে সহায়ক।
এগুলো শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দিতে পারেন:
নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাম
অ্যানোমালি স্ক্যান
রক্ত পরীক্ষা
ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং
নির্বাচিত ক্ষেত্রে জেনেটিক পরীক্ষা
না। অনেক ক্ষেত্রে কারণ জানা যায় না বা জিনগত কারণ দায়ী থাকে।
গর্ভধারণের পরিকল্পনার সময় থেকেই এবং গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।
সব সময় নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো হারবাল পণ্য বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
কিছু গঠনগত ত্রুটি নির্দিষ্ট সময়ে আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
হ্যাঁ। সঠিকভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখলে অনেক নারী সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারেন।
গর্ভাবস্থায় ছোট কিছু ভুলও কখনো কখনো মা ও শিশুর স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত চিকিৎসকের ফলো-আপ, ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ না করার মাধ্যমে জন্মগত ত্রুটির অনেক ঝুঁকি কমানো সম্ভব। মনে রাখবেন, সচেতনতা এবং সময়মতো যত্নই সুস্থ মা ও সুস্থ শিশুর ভিত্তি।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। গর্ভাবস্থায় যেকোনো ওষুধ, পরীক্ষা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অবশ্যই গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ভিডিওতে দেখুন: গর্ভাবস্থায় কোন ভুলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে, জন্মগত ত্রুটির কারণ, ঝুঁকি কমানোর উপায়, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং গর্ভবতী মায়েদের জরুরি সতর্কতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ রেবেকা তারান্নুম (শাম্মী), এমবিবিএস (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (অবস্ এন্ড গাইনী), এফসিপিএস (ফিটো ম্যাটারনাল মেডিসিন), প্রাত্তন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, ল্যাপারোস্কপিক সার্জারী ও বন্ধ্যাত্ব রোগ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত, কনসালট্যান্ট গাইনোকলোজিস্ট, সহযোগী অধ্যাপক (ডার্মাটোলজী বিভাগ) স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 6 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced gynecologist near you for consultation and treatment.