/
শিশুর চোখের পাওয়ার, মোবাইল ব্যবহারের প্রভাব, চশমা, Lazy Eye ও চোখের অ্যালার্জির লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

শিশুর চোখের দৃষ্টি তার শেখা, পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং স্বাভাবিক বিকাশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কিন্তু ছোট শিশুরা অনেক সময় নিজের দৃষ্টির সমস্যা বুঝতে বা বাবা-মাকে ঠিকভাবে জানাতে পারে না। ফলে চোখের পাওয়ার, Lazy Eye, চোখের অ্যালার্জি বা অন্য কোনো দৃষ্টিজনিত সমস্যা দীর্ঘদিন শনাক্ত না-ও হতে পারে।
বিশেষ করে শিশুরা যদি বারবার চোখ কুঁচকে দেখে, বই বা মোবাইল খুব কাছে নিয়ে আসে, চোখ ঘষে অথবা পড়াশোনায় সমস্যা করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
শিশুর চোখ ও দৃষ্টিশক্তি ছোটবেলায় দ্রুত বিকশিত হয়। এই সময় দৃষ্টির কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু ক্ষেত্রে দৃষ্টির সমস্যা দীর্ঘদিন অনির্ণীত থাকলে Amblyopia বা Lazy Eye-এর মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে, যেখানে একটি বা উভয় চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তির বিকাশ ব্যাহত হয়।
শিশু যদি জন্ম থেকেই কোনো চোখে কম দেখে, তাহলে সে অনেক সময় এটিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করে না। কারণ সে জানে না যে অন্যভাবে দেখাও সম্ভব।
তাই শুধু শিশুর অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে বাবা-মাকে তার আচরণ ও চোখের ব্যবহারের দিকে নজর রাখতে হবে।
দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হওয়া
টিভি বা মোবাইল খুব কাছে নিয়ে দেখা
বই খুব কাছে নিয়ে পড়া
চোখ কুঁচকে দেখা
বারবার চোখ পিটপিট করা
চোখ ঘষা
বারবার মাথাব্যথার অভিযোগ
পড়াশোনায় মনোযোগ বা পারফরম্যান্সে পরিবর্তন
চোখ বেঁকে যাওয়া
একটি চোখ বন্ধ করে দেখা
চোখ লাল, চুলকানো বা পানি পড়া
শিশুর চোখে Myopia, Hyperopia বা Astigmatism-এর মতো refractive error থাকতে পারে। এটি শুধু শিশুর আচরণ দেখে নিশ্চিতভাবে নির্ণয় করা যায় না; প্রয়োজন হলে চোখ পরীক্ষা করতে হয়।
ক্লাসরুমের বোর্ড, টেলিভিশন বা দূরের লেখা দেখতে সমস্যা হলে শিশুর চোখে পাওয়ার থাকতে পারে।
দূরের জিনিস পরিষ্কার দেখতে না পেলে শিশু স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিন বা বই কাছে নিয়ে আসতে পারে।
পড়ার সময় বই চোখের খুব কাছে নিয়ে আসা দৃষ্টির সমস্যার একটি সংকেত হতে পারে।
দূরের কিছু দেখার সময় চোখ সরু করে দেখা বা কুঁচকে দেখা Myopia-এর একটি সাধারণ আচরণগত লক্ষণ হতে পারে।
চোখের পাওয়ার ছাড়াও শুষ্ক চোখ, অ্যালার্জি বা চোখের অন্য সমস্যার কারণেও এটি হতে পারে।
বিশেষ করে পড়াশোনা বা দীর্ঘ সময় কাছের কাজের পর মাথাব্যথা হলে চোখের দৃষ্টিজনিত সমস্যা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে।
বোর্ড দেখতে না পারা বা চোখে চাপ পড়ার কারণে শিশুর পড়াশোনায় সমস্যা হতে পারে।
একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই কম দেখে, সে অনেক সময় ধরে নেয় যে সবাই এভাবেই দেখে। আবার একটি চোখ ভালো দেখলে অন্য চোখের সমস্যা শিশুর নজরেই নাও আসতে পারে।
তাই শুধু “শিশু তো বলছে সে ভালোই দেখে”—এমন ধারণার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
শিশুর চোখের সমস্যা বা ঝুঁকি থাকলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা উচিত। কোনো লক্ষণ থাকলে নির্দিষ্ট বয়সের অপেক্ষা না করে চোখ পরীক্ষা করানো ভালো।
স্কুলে যাওয়ার আগে এবং পরবর্তীতে নিয়মিত vision screening শিশুর দৃষ্টির সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
চোখের পাওয়ার থাকলে চিকিৎসক শিশুকে চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। চশমা শুধু পরিষ্কার দেখতে সাহায্য করে না; কিছু শিশুর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক দৃষ্টির বিকাশ নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চোখের প্রয়োজনীয় corrective power ঠিকভাবে দেওয়া হলে শিশু পরিষ্কার দেখতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা ও অন্যান্য কার্যক্রমে সুবিধা পায়।
বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের পাওয়ারের চিকিৎসা দেরি হলে amblyopia-এর ঝুঁকি থাকতে পারে।
না। চশমা পরার কারণে চোখের পাওয়ার বেড়ে যায় না।
চশমা চোখের পাওয়ার পরিবর্তন করে না; এটি আলোকে সঠিকভাবে focus করতে সাহায্য করে।
শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের গঠন পরিবর্তিত হলে পাওয়ার পরিবর্তিত হতে পারে। তখন চশমার prescription পরিবর্তন করতে হতে পারে।
চিকিৎসক চশমা দেওয়ার পরও নিয়মিত না পরলে শিশুর দৃষ্টির সমস্যা থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে ছোট বয়সে উল্লেখযোগ্য refractive error থাকলে দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে amblyopia-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সব শিশুর জন্য একই সময়সূচি নয়। বয়স, পাওয়ারের ধরন, চোখের বিকাশ এবং আগের prescription অনুযায়ী চক্ষু বিশেষজ্ঞ follow-up-এর সময় নির্ধারণ করেন।
পাওয়ার পরিবর্তনের সন্দেহ হলে নির্ধারিত সময়ের আগেও পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
Amblyopia, যাকে সাধারণভাবে Lazy Eye বলা হয়, এমন একটি অবস্থা যেখানে শিশুকালে দৃষ্টির স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে একটি বা উভয় চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
এটি শুধু “চোখ অলস” হওয়ার সমস্যা নয়; মস্তিষ্ক ও চোখের মধ্যে দৃষ্টির স্বাভাবিক সংযোগের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।
Amblyopia-এর সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
চোখের পাওয়ারের উল্লেখযোগ্য সমস্যা
দুই চোখের পাওয়ারে বড় পার্থক্য
চোখ বেঁকে যাওয়া বা Strabismus
চোখের দৃষ্টিপথে বাধা সৃষ্টি করে এমন কিছু জন্মগত সমস্যা
শিশুর চোখে উল্লেখযোগ্য refractive error থাকলে এবং তা সময়মতো সংশোধন না করা হলে মস্তিষ্ক একটি চোখের পরিষ্কার image গ্রহণ না করার কারণে সেই চোখের দৃষ্টির বিকাশ পিছিয়ে যেতে পারে।
যদি শিশুর এমন refractive error থাকে যার জন্য চশমা প্রয়োজন, এবং সেটি দীর্ঘদিন সংশোধন না করা হয়, তাহলে কিছু ক্ষেত্রে Amblyopia-এর ঝুঁকি থাকতে পারে।
তবে শুধু চশমা না পরলেই প্রতিটি শিশুর Lazy Eye হবে—এমন নয়।
যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার ধরন শিশুর বয়স ও কারণের ওপর নির্ভর করে।
চশমা, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভালো চোখ সাময়িকভাবে patch করা এবং অন্যান্য চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত।
বর্তমানে শিশুরা পড়াশোনা, বিনোদন ও যোগাযোগের জন্য স্মার্টফোন, ট্যাব ও অন্যান্য screen ব্যবহার করে। অতিরিক্ত বা দীর্ঘ সময় screen দেখলে চোখে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—“মোবাইল দেখলেই শিশুর চোখের পাওয়ার নষ্ট হয়ে যায়”—এমন সরল বা absolute statement সঠিক নয়।
Screen-related eye strain এবং Myopia বা চোখের পাওয়ারের পরিবর্তনকে আলাদাভাবে বোঝা প্রয়োজন।
দীর্ঘ সময় একটানা screen দেখলে:
চোখ শুকিয়ে যাওয়া
চোখ জ্বালা করা
চোখ লাল হওয়া
চোখে চাপ বা অস্বস্তি
বারবার চোখ পিটপিট করা
সাময়িক ঝাপসা দেখা
মাথাব্যথা
হতে পারে।
স্ক্রিনের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকলে শিশুর চোখের পলক ফেলার হার কমে যেতে পারে। ফলে চোখের পৃষ্ঠে tear film দ্রুত শুকিয়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
অন্ধকার ঘরে উজ্জ্বল screen দীর্ঘ সময় দেখলে চোখে অস্বস্তি ও strain বেশি অনুভূত হতে পারে।
তাই শিশুকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে দীর্ঘ সময় screen দেখতে না দিয়ে ঘরে পর্যাপ্ত আলো রাখা ভালো।
দীর্ঘ সময় একটানা screen ব্যবহার না করতে দিন
নিয়মিত দূরে তাকানোর বিরতি দিন
screen চোখের খুব কাছে রাখবেন না
পর্যাপ্ত আলোতে screen ব্যবহার করতে দিন
চোখে অস্বস্তি হলে বিরতি দিন
বয়স অনুযায়ী screen time সীমিত রাখুন
প্রতিদিন বাইরে খেলাধুলার সময় বাড়ান
খাবারের সময় screen বন্ধ রাখুন
ঘুমের আগে screen ব্যবহার কমান
নির্দিষ্ট screen schedule তৈরি করুন
পরিবারের সবাই screen-free সময় মেনে চলুন
শিশুকে বই, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন
শিশুদের বাইরে সময় কাটানো এবং কাছের কাজ ও screen ব্যবহারের ভারসাম্য বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর চোখ লাল হওয়া বা চুলকানোর অনেক কারণ থাকতে পারে। অ্যালার্জি একটি সাধারণ কারণ হলেও সব সময় অ্যালার্জিই দায়ী নয়।
চোখে তীব্র চুলকানি
চোখ দিয়ে পানি পড়া
চোখ লাল হওয়া
চোখের চারপাশে ফোলা
উভয় চোখে একই ধরনের উপসর্গ
হাঁচি বা নাক দিয়ে পানি পড়ার সঙ্গে চোখের সমস্যা
সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
Allergic Conjunctivitis
ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল conjunctivitis
ধুলোবালি
পরাগরেণু
ধোঁয়া
চোখ শুষ্ক হওয়া
চোখে কোনো foreign body থাকা
না।
চোখ লাল হওয়ার কারণ অ্যালার্জি ছাড়াও infection, injury, dry eye বা অন্যান্য চোখের রোগ হতে পারে।
বিশেষ করে ব্যথা, আলো সহ্য করতে না পারা বা দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন।
যদি চোখ লাল হওয়ার সঙ্গে:
তীব্র ব্যথা
দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
আলো সহ্য না হওয়া
চোখ ফুলে যাওয়া
প্রচুর discharge
চোখে আঘাত
থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
শিশুর চোখ লাল বা চুলকালে নিজের সিদ্ধান্তে যেকোনো eye drop ব্যবহার করা উচিত নয়।
কারণ চোখের অ্যালার্জি, infection এবং অন্য চোখের রোগের চিকিৎসা এক নয়।
একই ধরনের লক্ষণ বিভিন্ন রোগে দেখা যেতে পারে। ভুল eye drop ব্যবহারে:
রোগের সঠিক diagnosis দেরি হতে পারে
উপসর্গ সাময়িকভাবে চাপা পড়তে পারে
কিছু ক্ষেত্রে চোখের ক্ষতি হতে পারে
Steroid eye drop হলো corticosteroid-যুক্ত চোখের ওষুধ, যা নির্দিষ্ট ধরনের প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা ব্যবহার করতে পারেন।
এগুলো সাধারণ অ্যালার্জির জন্য নিজে থেকে ব্যবহার করার ওষুধ নয়।
দীর্ঘদিন বা ভুলভাবে steroid eye drop ব্যবহার করলে:
চোখের চাপ বেড়ে Glaucoma হতে পারে
Cataract-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে
কিছু infection আরও খারাপ হতে পারে
রোগের প্রকৃত কারণ আড়াল হয়ে যেতে পারে
তাই শিশুর চোখে steroid-containing drop চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
কারণ ও উপসর্গের ওপর চিকিৎসা নির্ভর করে। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী:
allergen এড়িয়ে চলার পরামর্শ
lubricating eye drops
antihistamine বা অন্য allergy-directed treatment
দিতে পারেন।
শিশুর বয়স ও রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিবর্তিত হতে পারে।
নিচের যেকোনো সমস্যা থাকলে শিশুর চোখ পরীক্ষা করানো উচিত:
বোর্ড, টিভি বা দূরের লেখা দেখতে সমস্যা হলে।
বারবার screen বা বই চোখের কাছে নিয়ে এলে।
দূরের জিনিস দেখার সময় নিয়মিত চোখ কুঁচকে দেখলে।
দীর্ঘদিন এমন হলে চোখের পাওয়ার, allergy বা dry eye মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে বারবার হলে বা অন্যান্য উপসর্গ থাকলে।
শিশুর চোখে ব্যথা হলে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
চোখের alignment-এর সমস্যা দ্রুত মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
হঠাৎ দেখতে কমে যাওয়া একটি জরুরি সতর্ক সংকেত।
নিচের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
এক বা উভয় চোখে হঠাৎ দৃষ্টি কমে গেলে।
বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে দৃষ্টির পরিবর্তন থাকলে।
খেলতে গিয়ে বা কোনো বস্তু চোখে লাগলে দ্রুত মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষ করে জ্বর, ব্যথা বা দৃষ্টির সমস্যার সঙ্গে থাকলে।
তীব্র photophobia চোখের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
অতিরিক্ত পুঁজ বা অস্বাভাবিক discharge থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চোখের মণিতে অস্বাভাবিক সাদা প্রতিফলন বা অন্য কোনো নতুন পরিবর্তন দেখা গেলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
শিশুর বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী vision screening বা comprehensive eye examination করান।
শিশুকে প্রতিদিন বয়স অনুযায়ী বাইরে সক্রিয়ভাবে খেলাধুলার সুযোগ দিন।
অপ্রয়োজনীয় screen time কমিয়ে বাস্তব জীবনের খেলাধুলা ও সামাজিক কার্যক্রম বাড়ান।
শিশুর বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
বই বা খাতা খুব কাছে না এনে পর্যাপ্ত আলোতে পড়ার অভ্যাস করুন।
শিশুর চোখের কোনো পরিবর্তনকে দীর্ঘদিন অবহেলা করবেন না।
চোখের কোনো লক্ষণ থাকলে যেকোনো বয়সেই পরীক্ষা করা যেতে পারে। লক্ষণ না থাকলেও শিশুর বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী vision screening করা উপকারী।
দীর্ঘ সময় screen দেখলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখে চাপ, জ্বালা, সাময়িক ঝাপসা দেখা ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। তবে মোবাইল দেখলেই চোখের পাওয়ার নষ্ট হয়—এমন সরাসরি দাবি করা ঠিক নয়।
Screen use-এর সঙ্গে শিশুদের Myopia বা চোখের পাওয়ারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা রয়েছে, তবে বিষয়টি শুধু “মোবাইলের কারণে পাওয়ার বেড়ে যায়”—এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। কাছের কাজের পরিমাণ, বাইরে সময় কাটানো এবং অন্যান্য পরিবেশগত ও জিনগত কারণও গুরুত্বপূর্ণ।
চশমা সাধারণত চোখের পাওয়ার কমায় না। এটি শিশুকে পরিষ্কার দেখতে সাহায্য করে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দৃষ্টির স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও চশমা না পরলে দৃষ্টির সমস্যা থেকে যেতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য refractive error দীর্ঘদিন সংশোধন না করলে Amblyopia-এর ঝুঁকি থাকতে পারে।
শৈশবে দৃষ্টির স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটি বা উভয় চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়াকে Amblyopia বলা হয়। দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করা গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যালার্জি, infection, ধুলোবালি, dry eye বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে চোখ লাল ও চুলকাতে পারে। তাই কারণ না জেনে eye drop ব্যবহার করা উচিত নয়।
চোখের অ্যালার্জির জন্য কোন eye drop প্রয়োজন তা শিশুর বয়স ও সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। নিজের সিদ্ধান্তে কোনো eye drop শুরু করবেন না।
চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ ও monitoring-এর অধীনে নির্দিষ্ট অবস্থায় steroid eye drop ব্যবহার করা হতে পারে। কিন্তু নিজে থেকে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চোখের চাপ বৃদ্ধি, cataract এবং infection-এর মতো জটিলতা হতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞ (Ophthalmologist) দেখানো উচিত। শিশুদের বিশেষ চোখের সমস্যা, দৃষ্টির বিকাশ বা Lazy Eye-এর ক্ষেত্রে Pediatric Ophthalmologist থাকলে তার পরামর্শ আরও উপযোগী হতে পারে।
শিশুর চোখের সমস্যা সবসময় শিশু নিজে বুঝতে পারে না। তাই বাবা-মাকে শিশুর আচরণের দিকে নজর রাখতে হবে। দূরের জিনিস দেখতে না পারা, বই বা মোবাইল খুব কাছে নিয়ে দেখা, চোখ কুঁচকে দেখা, চোখ বারবার ঘষা, চোখ বেঁকে যাওয়া বা পড়াশোনায় সমস্যা হলে চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
মোবাইল বা screen ব্যবহার নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে দীর্ঘ সময় একটানা screen দেখা কমানো, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং শিশুকে বাইরে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা গুরুত্বপূর্ণ। আর চোখ লাল বা চুলকালে নিজের সিদ্ধান্তে বিশেষ করে steroid eye drop ব্যবহার করবেন না।
শিশুর দৃষ্টিশক্তি নিয়ে সন্দেহ হলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর চোখের সমস্যা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বা eye drop ব্যবহারের প্রয়োজন হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: প্রফেসর ডাঃ নূরুল আলম, এমবিবিএস, এফসিপিএস (চক্ষু), চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন, স্পেশালিটি-অকুলোপ্লাস্টি, গ্লকোমা এবং লেজার সার্জারী, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, উত্তরা ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 24 August 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced eye specialist near you for consultation and treatment.
Read More About This Topic