/
শিশুর বারবার গলা ব্যথা, টনসিল ফুলে যাওয়া, নাক ডাকা বা মুখ হাঁ করে ঘুমানোর কারণ, চিকিৎসা এবং কখন টনসিল বা এডিনয়েড অপারেশন বিবেচনা করা হয়—জেনে নিন।

শিশুর গলা ব্যথা, বারবার টনসিল ফুলে যাওয়া, রাতে নাক ডাকা বা মুখ হাঁ করে ঘুমানো—এসব সমস্যা অনেক বাবা-মাকে চিন্তায় ফেলে। বিশেষ করে শিশু নিয়মিত নাক ডাকলে বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার মতো মনে হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
টনসিল ও এডিনয়েড একই জিনিস নয়। দুটিই শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ, তবে অবস্থান ও সমস্যার ধরন আলাদা। টনসিলের বারবার সংক্রমণ যেমন সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনি বড় এডিনয়েড নাক বন্ধ, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, নাক ডাকা এবং কানের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে টনসিল বা এডিনয়েড বড় হলেই অপারেশন করতে হয় না। সংক্রমণের সংখ্যা ও তীব্রতা, শ্বাসের সমস্যা, ঘুমের ওপর প্রভাব এবং শিশুর সামগ্রিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।
টনসিল হলো গলার দুই পাশে থাকা লিম্ফয়েড টিস্যুর অংশ। এগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ এবং মুখ ও নাক দিয়ে প্রবেশ করা কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।
শিশুদের মধ্যে টনসিল তুলনামূলকভাবে বড় দেখা যেতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এগুলোর আকার অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তিত হয়।
সর্দি-কাশি ও গলার বিভিন্ন সংক্রমণের সময় টনসিল সাময়িকভাবে ফুলে যেতে পারে।
কিছু শিশুর টনসিল দীর্ঘদিন তুলনামূলক বড় থাকতে পারে। শুধু আকার বড় হওয়া সবসময় রোগের লক্ষণ নয়। সমস্যা তখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন এর কারণে—
বারবার সংক্রমণ হয়
গিলতে সমস্যা হয়
শ্বাস নিতে সমস্যা হয়
ঘুমে নাক ডাকে
Sleep-disordered breathing বা Sleep Apnea হয়
Tonsillitis হলো টনসিলের প্রদাহ বা সংক্রমণ।
এতে সাধারণত গলা ব্যথা, জ্বর, গিলতে ব্যথা এবং টনসিল লাল বা ফোলা হওয়ার মতো লক্ষণ থাকতে পারে।
অন্যদিকে Enlarged Tonsils বলতে টনসিলের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হওয়াকে বোঝায়। টনসিল বড় থাকলেও সবসময় সক্রিয় সংক্রমণ থাকে না।
না।
সাধারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অনেক সময় বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল এবং উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসাই যথেষ্ট হতে পারে।
তবে বারবার টনসিল ইনফেকশন, শ্বাসের সমস্যা, গিলতে সমস্যা বা ঘুমের সমস্যা থাকলে ENT বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
টনসিলের সংক্রমণ বা প্রদাহের ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে।
শিশুর বারবার গলা ব্যথা হলে Tonsillitis বা অন্য কোনো গলার সমস্যার কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
Tonsillitis-এর সময় জ্বর এবং খাবার বা পানি গিলতে ব্যথা হতে পারে।
সংক্রমণের সময় টনসিল লাল ও ফুলে যেতে পারে।
কিছু ধরনের টনসিল সংক্রমণে টনসিলের ওপর সাদা দাগ বা Exudate দেখা যেতে পারে।
তবে সাদা দাগ দেখলেই যে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়।
টনসিলের সংক্রমণ বা Tonsil Stone-এর মতো কিছু সমস্যায় মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।
টনসিল অনেক বড় হলে বা তীব্র প্রদাহ থাকলে খাবার বা পানি গিলতে অস্বস্তি হতে পারে।
টনসিল বা আশপাশের টিস্যু অতিরিক্ত ফুলে গেলে শিশুর গলার স্বর কিছুটা পরিবর্তিত শোনাতে পারে।
এডিনয়েড হলো নাকের পেছনে, গলার ওপরের দিকে থাকা লিম্ফয়েড টিস্যু। এটি বাইরে থেকে মুখ খুলে সহজে দেখা যায় না।
এডিনয়েড বড় হলে নাক দিয়ে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
শিশুর নাক ডাকার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তবে বড় টনসিল বা এডিনয়েড নাক ও গলার বায়ুপথ সংকুচিত করে নিয়মিত নাক ডাকার কারণ হতে পারে।
শিশু যদি প্রায় প্রতিরাতে জোরে নাক ডাকে, বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে শ্বাসে বিরতি দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন করা উচিত।
নাক দিয়ে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করলে শিশু ঘুমের সময় মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে পারে।
বড় এডিনয়েড শিশুদের দীর্ঘদিনের Nasal Obstruction ও Mouth Breathing-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
ঘুমের সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস বন্ধ হওয়া, এরপর হাঁপিয়ে বা জোরে শ্বাস নেওয়া Obstructive Sleep Apnea (OSA)-এর লক্ষণ হতে পারে।
এটি স্বাভাবিক নাক ডাকার বিষয় হিসেবে অবহেলা করা উচিত নয়।
বায়ুপথে বাধার কারণে শিশুর ঘুম বারবার ভেঙে যেতে পারে। ঘুমের মধ্যে অস্থিরতা, অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে ঘুমানো বা অতিরিক্ত নড়াচড়াও দেখা যেতে পারে।
গিলতে সমস্যা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বা গলার অস্বস্তির সঙ্গে শিশুর লালা পড়া বাড়তে পারে।
তবে অতিরিক্ত লালা পড়ার অন্যান্য কারণও রয়েছে।
এডিনয়েড বড় হলে দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা, নাক দিয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট এবং মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
বড় এডিনয়েড Eustachian Tube-এর স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে। এর ফলে Middle Ear-এ তরল জমে কানের সমস্যা বা সাময়িক শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।
নাক দিয়ে বাতাস চলাচলে দীর্ঘদিন বাধা থাকলে শিশুর কথা বলার স্বর বা উচ্চারণে পরিবর্তন শোনা যেতে পারে।
হ্যাঁ। বিশেষ করে টনসিল বা এডিনয়েড অতিরিক্ত বড় হয়ে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
Obstructive Sleep Apnea হলো ঘুমের সময় ওপরের বায়ুপথ বারবার আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অবস্থা।
শিশুদের ক্ষেত্রে বড় টনসিল ও এডিনয়েড OSA-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
ঘুমের সময় বারবার শ্বাসে বাধা হলে শিশুর ঘুমের স্বাভাবিক গুণমান নষ্ট হতে পারে এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রায় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
তাই শিশুর ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, হাঁপানো বা জোরে শ্বাস নেওয়াকে অবহেলা করা উচিত নয়।
দীর্ঘদিনের ঘুমের ব্যাঘাতের কারণে কিছু শিশুর—
দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব
খিটখিটে মেজাজ
মনোযোগের সমস্যা
আচরণগত পরিবর্তন
পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিনের নাক বন্ধ থাকা, Mouth Breathing ও ঘুমের সমস্যা শিশুর ঘুম, স্কুলের কার্যক্রম, আচরণ ও সামগ্রিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই নিয়মিত নাক ডাকা ও ঘুমের শ্বাসের সমস্যা থাকলে কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু টনসিল বড় হলেই অপারেশন করার প্রয়োজন হয় না।
Tonsillectomy-এর সিদ্ধান্ত সাধারণত সংক্রমণের সংখ্যা ও তীব্রতা, শ্বাসের সমস্যা এবং শিশুর দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে নেওয়া হয়।
বারবার এবং উল্লেখযোগ্য Tonsillitis হলে ENT বিশেষজ্ঞ অপারেশনের প্রয়োজন আছে কি না মূল্যায়ন করতে পারেন।
শুধু “কয়েকবার গলা ব্যথা হয়েছে” বলেই অপারেশন প্রয়োজন হয় না; সংক্রমণের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসার ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত বড় টনসিল যদি শিশুর বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে এবং শ্বাস নিতে সমস্যা করে, তাহলে Tonsillectomy বিবেচনা করা হতে পারে।
টনসিল ও এডিনয়েড বড় হওয়ার কারণে Obstructive Sleep Apnea হলে অস্ত্রোপচার অনেক শিশুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা হতে পারে।
অতিরিক্ত বড় টনসিলের কারণে গিলতে সমস্যা, খাওয়ার সমস্যা বা বায়ুপথে বাধা হলে চিকিৎসক অপারেশনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
টনসিলের পাশে পুঁজ জমে Peritonsillar Abscess হলে এটি গুরুতর সমস্যা হতে পারে। বারবার এমন সমস্যা হলে Tonsillectomy বিবেচনা করা হতে পারে।
উপযুক্ত চিকিৎসার পরও যদি গুরুতর Tonsillitis বারবার ফিরে আসে, ENT বিশেষজ্ঞ অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য উপকার ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারেন।
শিশুর ঘুম, শ্বাস, খাওয়া বা দৈনন্দিন কার্যক্রমে টনসিলের সমস্যা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেললে অপারেশন বিবেচনা করা যেতে পারে।
দীর্ঘদিন নাক বন্ধ থাকা এবং নাক দিয়ে শ্বাস নিতে সমস্যা হলে Adenoidectomy বিবেচনা করা হতে পারে।
নিয়মিত ও জোরে নাক ডাকার সঙ্গে বড় এডিনয়েডের সম্পর্ক থাকলে ENT বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন করবেন।
দীর্ঘদিনের Mouth Breathing এডিনয়েডের কারণে হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের সময় শ্বাসে বারবার বাধা থাকলে এডিনয়েডের আকার ও টনসিলসহ পুরো Upper Airway মূল্যায়ন করা হয়।
বারবার Middle Ear Infection বা Middle Ear Effusion এবং শ্রবণশক্তির সমস্যার সঙ্গে বড় এডিনয়েডের সম্পর্ক থাকলে Adenoidectomy বিবেচনা করা হতে পারে।
এডিনয়েডের কারণে Eustachian Tube-এর সমস্যা ও কানে তরল জমে শ্রবণশক্তি কমে গেলে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
নাক বন্ধ, ঘুমের সমস্যা বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপসর্গ উপযুক্ত চিকিৎসাতেও নিয়ন্ত্রণে না এলে ENT বিশেষজ্ঞ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন মূল্যায়ন করতে পারেন।
Tonsillectomy হলো অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টনসিল অপসারণ করা।
এটি সাধারণত বারবার গুরুতর Tonsillitis বা টনসিলের কারণে বায়ুপথে সমস্যা হলে বিবেচনা করা হয়।
Adenoidectomy হলো নাকের পেছনে থাকা অতিরিক্ত বড় বা সমস্যাজনক Adenoid Tissue অপসারণ করা।
নাক বন্ধ, Mouth Breathing, Sleep Apnea বা কিছু ধরনের কানের সমস্যায় এটি বিবেচনা করা হতে পারে।
যদি মূল সমস্যা টনসিলের বারবার সংক্রমণ বা টনসিলের আকারের কারণে সমস্যা হয় এবং এডিনয়েডে উল্লেখযোগ্য সমস্যা না থাকে, তাহলে শুধু Tonsillectomy করা হতে পারে।
টনসিল ও এডিনয়েড দুটিই বড় হয়ে যদি শিশুর বায়ুপথে বাধা, Sleep Apnea বা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে একই সময়ে দুটিরই অস্ত্রোপচার করা হতে পারে।
অনেক Tonsillitis ভাইরাসজনিত এবং সময়ের সঙ্গে ভালো হয়ে যায়।
চিকিৎসায় সাধারণত—
পর্যাপ্ত তরল
বিশ্রাম
নরম খাবার
বয়স ও ওজন অনুযায়ী উপযুক্ত জ্বর/ব্যথার ওষুধ
ব্যবহার করা হতে পারে।
হালকা ও একবারের ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অনেক সময় অপারেশনের প্রয়োজন হয় না।
শিশুর উপসর্গ ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট হতে পারে।
সব Tonsillitis-এ অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।
ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের যথেষ্ট সন্দেহ বা নিশ্চিত প্রমাণ থাকলে চিকিৎসক উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
নিজে থেকে শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়।
শিশুর প্রতিবার গলা ব্যথা বা জ্বর হলে শুধু অ্যান্টিবায়োটিক না দিয়ে রোগের ধরন, সংক্রমণের সংখ্যা এবং তীব্রতা নথিভুক্ত করা ভালো।
বারবার সমস্যা হলে একজন ENT Specialist শিশুকে পরীক্ষা করে দেখবেন অপারেশনের প্রয়োজন আছে কি না।
হ্যাঁ, অনেক শিশুর ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
অপারেশন সাধারণত নির্দিষ্ট clinical indication থাকলেই বিবেচনা করা হয়।
ENT Specialist শিশুর নাক, কান, গলা ও টনসিল পরীক্ষা করেন এবং শ্বাসের সমস্যা ও সংক্রমণের ইতিহাস মূল্যায়ন করেন।
টনসিল সরাসরি পরীক্ষা করা যায়। এডিনয়েড নাকের পেছনে থাকায় প্রয়োজনে Nasal Endoscopy বা অন্যান্য মূল্যায়ন করা হতে পারে।
একটি সরু ক্যামেরার মাধ্যমে নাকের ভেতর ও নাকের পেছনের অংশ পরীক্ষা করা যায়। এতে Adenoid Enlargement ও বায়ুপথের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
শিশুর বারবার কানের সমস্যা বা কম শোনার অভিযোগ থাকলে Hearing Test এবং প্রয়োজনে Tympanometry করা হতে পারে।
সব শিশুর Sleep Study বা Polysomnography প্রয়োজন হয় না।
তবে রোগ নির্ণয় নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে, লক্ষণ ও শারীরিক পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক Sleep Study বিবেচনা করতে পারেন।
অপারেশনের আগে শিশুর বয়স, স্বাস্থ্য, রোগের ইতিহাস এবং হাসপাতালের প্রোটোকল অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা করা হতে পারে।
সব শিশুর একই ধরনের রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।
Tonsillectomy-এর পর কয়েক দিন গলা ব্যথা থাকা সাধারণ। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে ব্যথা এক সপ্তাহের বেশি সময়ও থাকতে পারে।
চিকিৎসকের দেওয়া ব্যথানাশক ও অন্যান্য নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
অপারেশনের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল এবং শিশুর সহনীয় নরম খাবার দেওয়া হয়।
শিশু যেন পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করে তা গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর সুস্থতার গতি অনুযায়ী স্কুলে ফেরার সময় ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত চিকিৎসক কয়েক দিনের বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত সুস্থতার পর স্কুলে ফেরার পরামর্শ দেন।
অপারেশনের পর—
মুখ বা গলা দিয়ে রক্তপাত
শ্বাসকষ্ট
পানি বা তরল গ্রহণ করতে না পারা
গুরুতর দুর্বলতা বা পানিশূন্যতার লক্ষণ
দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
নিচের যেকোনো সমস্যা থাকলে একজন ENT Specialist (নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ)-এর পরামর্শ নেওয়া উচিত—
ঘন ঘন Tonsillitis হলে কারণ ও চিকিৎসা পরিকল্পনা মূল্যায়ন করা দরকার।
শিশু যদি নিয়মিত বা জোরে নাক ডাকে, বিশেষ করে প্রতিরাতে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা উচিত।
দীর্ঘদিন Mouth Breathing থাকলে বড় Adenoid বা অন্য Nasal Obstruction-এর সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা দরকার।
ঘুমের মধ্যে শ্বাসে বিরতি, হাঁপানো বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বারবার কানের সংক্রমণ বা কানে পানি জমার সঙ্গে Adenoid Enlargement-এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
শিশু বারবার “কি?” বলে, টিভির শব্দ বেশি করে বা ডাকলে সাড়া দিতে দেরি করে—এমন হলে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা দরকার হতে পারে।
টনসিল বড় হওয়া বা গলার অন্য সমস্যার কারণে খাবার গিলতে সমস্যা হলে ENT Specialist-এর মূল্যায়ন প্রয়োজন।
শিশুর টনসিল বা গলার সমস্যার সঙ্গে নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে জরুরি চিকিৎসা নিন—
শ্বাস নিতে গুরুতর কষ্ট
লালা গিলতে না পারা
অতিরিক্ত লালা পড়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট
গলার ভেতর দ্রুত ফুলে যাওয়া
মুখ খুলতে গুরুতর সমস্যা
শিশুর অস্বাভাবিক ঝিমিয়ে পড়া
পানিশূন্যতার লক্ষণ
গলা থেকে উল্লেখযোগ্য রক্তপাত
বারবার গুরুতর Tonsillitis, টনসিলের কারণে বায়ুপথে বাধা, Obstructive Sleep Apnea, গিলতে গুরুতর সমস্যা বা নির্দিষ্ট জটিলতা থাকলে ENT Specialist অপারেশন বিবেচনা করতে পারেন।
না। টনসিল বড় হওয়া বা একবার Tonsillitis হওয়া মানেই অপারেশন দরকার নয়।
সর্দি-অ্যালার্জি, নাকের বাধা, বড় টনসিল বা বড় Adenoidসহ বিভিন্ন কারণে শিশু নাক ডাকতে পারে। নিয়মিত নাক ডাকার সঙ্গে শ্বাসে বিরতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
নাক দিয়ে বাতাস চলাচলে বাধা থাকলে শিশু মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে পারে। বড় Adenoid এর একটি সম্ভাব্য কারণ।
না। টনসিল গলার দুই পাশে থাকে, আর Adenoid নাকের পেছনের অংশে থাকে। দুটিই Lymphoid Tissue হলেও অবস্থান ও সমস্যার ধরন আলাদা।
বড় Adenoid নাক বন্ধ, Mouth Breathing, নাক ডাকা, Sleep-disordered Breathing এবং কিছু শিশুর ক্ষেত্রে কানের সমস্যা ও শ্রবণশক্তির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
শুধু কতবার হয়েছে তা নয়—সংক্রমণের সংখ্যা, তীব্রতা, নথিভুক্ত বৈশিষ্ট্য, শিশুর দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব এবং শ্বাসের সমস্যা আছে কি না—সব বিবেচনা করা হয়।
Tonsillectomy সাধারণত নিরাপদ একটি প্রচলিত অস্ত্রোপচার, তবে অন্যান্য অস্ত্রোপচারের মতো এরও কিছু ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে অপারেশনের পর রক্তপাত, ব্যথা ও পানিশূন্যতার মতো জটিলতা হতে পারে।
সাধারণ Tonsillectomy-তে টনসিলের মূল টিস্যু অপসারণ করা হয়। তাই আগের মতো টনসিল পুনরায় বড় হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবে গলার অন্য Lymphoid Tissue থেকে একই ধরনের উপসর্গের কারণ হতে পারে।
শিশুর টনসিল, Adenoid, নাক ডাকা, Mouth Breathing, ঘুমের শ্বাসের সমস্যা বা কানের সমস্যার জন্য ENT Specialist (নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ) দেখানো সবচেয়ে উপযুক্ত।
শিশুর টনসিল বা এডিনয়েড বড় হলেই অপারেশন দরকার হয় না। তবে বারবার টনসিল ইনফেকশন, নিয়মিত নাক ডাকা, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, বারবার কানের সমস্যা বা শুনতে সমস্যা থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
একজন ENT Specialist শিশুর নাক, কান, গলা, টনসিল ও এডিনয়েড মূল্যায়ন করে প্রয়োজনে Endoscopy, Hearing Test বা Sleep Study-এর মতো পরীক্ষা করতে পারেন এবং অপারেশন প্রয়োজন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
আপনার এলাকার অভিজ্ঞ ENT Specialist (নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ) খুঁজে পেতে Doctors24-এর ডাক্তার ডিরেক্টরি ব্যবহার করতে পারেন।
এই নিবন্ধটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। শিশুর শ্বাস নিতে গুরুতর কষ্ট, লালা গিলতে না পারা, গলা দ্রুত ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ঝিমিয়ে পড়া বা উল্লেখযোগ্য রক্তপাত হলে দ্রুত নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যান।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডা. সামীর মোহাম্মদ তাসরীফ, নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ও হেড-নেক সার্জন, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (ইএনটি), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 2 September 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced ent specialist near you for consultation and treatment.
Read More About This Topic