Fungal Infection (দাদ) থেকে মুক্তির উপায়: বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ
দাদ (Ringworm বা Tinea) একটি সাধারণ ছত্রাকজনিত (Fungal Infection) ত্বকের রোগ। নামের মধ্যে “কৃমি” শব্দ থাকলেও এটি কোনো কৃমির কারণে হয় না; বরং বিভিন্ন ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণের ফলে ত্বক, মাথার তালু, কুঁচকি, হাত-পা বা নখে এই রোগ দেখা দেয়।
বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দাদ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। ঘাম, অপরিষ্কার পরিবেশ, আঁটসাঁট পোশাক এবং সংক্রমিত ব্যক্তি বা প্রাণীর সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে এই রোগ সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এই ভিডিওতে ডা. এম এন হুদা, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দাদ রোগের কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
দাদ বা Ringworm হলো একটি ছত্রাকজনিত ত্বকের সংক্রমণ। এটি সাধারণত ত্বকে গোলাকার, লালচে এবং চুলকানিযুক্ত দাগ তৈরি করে। সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন অংশে হতে পারে এবং আক্রান্ত স্থানের ওপর ভিত্তি করে এর নামও ভিন্ন হতে পারে।
Tinea Corporis – শরীরের ত্বকে দাদ
Tinea Cruris – কুঁচকির দাদ (Jock Itch)
Tinea Pedis – পায়ের দাদ (Athlete’s Foot)
Tinea Capitis – মাথার ত্বকের দাদ
Tinea Faciei – মুখের দাদ
Tinea Unguium (Onychomycosis) – নখের ছত্রাক সংক্রমণ
দাদ রোগের প্রধান কারণ হলো ডার্মাটোফাইট (Dermatophyte) নামক ছত্রাক।
দাদ আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকের সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
বিড়াল, কুকুর, গরু বা অন্যান্য প্রাণীর শরীরে ছত্রাক থাকলে সেখান থেকেও সংক্রমণ হতে পারে।
তোয়ালে, কাপড়, চিরুনি, বিছানার চাদর বা অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিস ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
দীর্ঘ সময় ঘেমে থাকা, ভেজা কাপড় পরা বা শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থানে আর্দ্রতা জমে থাকা ছত্রাক বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।
ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে দাদ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
দাদ রোগের উপসর্গ আক্রান্ত স্থানের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
গোলাকার বা বৃত্তাকার লালচে দাগ
তীব্র চুলকানি
ত্বক খসখসে বা শুষ্ক হয়ে যাওয়া
দাগের কিনারা উঁচু হয়ে যাওয়া
আক্রান্ত স্থানে জ্বালাপোড়া
ত্বকের রং পরিবর্তন হওয়া
কুঁচকিতে দাদ হলে সাধারণত দেখা যায়:
কুঁচকিতে তীব্র চুলকানি
লালচে বা বাদামি দাগ
ঘাম হলে অস্বস্তি বৃদ্ধি
ত্বকে জ্বালাপোড়া অনুভূতি
মাথার ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণ হলে:
মাথায় গোলাকার খালি স্থান তৈরি হতে পারে
চুল ভেঙে যেতে পারে
মাথার ত্বকে খুশকির মতো খসখসে ভাব দেখা দিতে পারে
শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়
দাদ রোগ অত্যন্ত সংক্রামক।
এটি ছড়াতে পারে:
আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে
আক্রান্ত প্রাণীর মাধ্যমে
তোয়ালে, কাপড় বা বিছানা ভাগাভাগি করার মাধ্যমে
জিম, সুইমিং পুল বা আর্দ্র পরিবেশ থেকে
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
দাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে
ঘরোয়া চিকিৎসায় উন্নতি না হলে
মাথার ত্বক আক্রান্ত হলে
নখ আক্রান্ত হলে
শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ হলে
বারবার দাদ ফিরে এলে
ডায়াবেটিস বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে
দাদ রোগ সাধারণত ত্বক পরীক্ষা করেই শনাক্ত করা যায়।
প্রয়োজনে চিকিৎসক নিম্নলিখিত পরীক্ষা করতে পারেন:
KOH Test
Fungal Microscopy
Fungal Culture
Wood’s Lamp Examination (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে)
হালকা সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসক অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম বা লোশন ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন।
সংক্রমণ বেশি হলে বা মাথার ত্বক ও নখ আক্রান্ত হলে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসার পাশাপাশি আক্রান্ত স্থান শুকনো ও পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই ফার্মেসি থেকে স্টেরয়েড মিশ্রিত ক্রিম ব্যবহার করেন, যা সাময়িকভাবে চুলকানি কমালেও পরবর্তীতে সংক্রমণ আরও জটিল ও বিস্তৃত করতে পারে।
তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রতিদিন গোসল করুন এবং ঘাম হলে দ্রুত শুকনো কাপড় পরুন।
তোয়ালে, কাপড়, চিরুনি বা বিছানার চাদর অন্যের সাথে ভাগাভাগি করবেন না।
আঁটসাঁট ও ভেজা কাপড় দীর্ঘ সময় পরা এড়িয়ে চলুন।
পোষা প্রাণীর ত্বকে দাদ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা করান।
লক্ষণ কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরো কোর্স সম্পন্ন করুন।
হ্যাঁ। দাদ একটি অত্যন্ত সংক্রামক ছত্রাকজনিত রোগ এবং একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ কমতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সঠিক চিকিৎসা ছাড়া সংক্রমণ পুরোপুরি সারে না।
অবশ্যই। নিয়মিত গোসল এবং শরীর পরিষ্কার রাখা চিকিৎসার অংশ।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করা উচিত। নিজে থেকে স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়।
অসম্পূর্ণ চিকিৎসা, পরিবারের অন্য সদস্যের সংক্রমণ, ব্যক্তিগত জিনিস ভাগাভাগি করা এবং আর্দ্র পরিবেশে থাকার কারণে দাদ পুনরায় হতে পারে।
দাদ রোগের চিকিৎসার জন্য একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দাদ রোগ একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক ছত্রাকজনিত ত্বকের সংক্রমণ। অনেক সময় রোগীরা ভুল চিকিৎসা বা স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহারের কারণে সমস্যাকে আরও জটিল করে ফেলেন। তাই দাদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। সঠিক পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করলে দাদ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ভিডিওতে দেখুন: দাদ রোগ কেন হয়, কীভাবে ছড়ায়, লক্ষণ, আধুনিক চিকিৎসা, স্টেরয়েড ক্রিমের ক্ষতি এবং দাদ থেকে মুক্তির কার্যকর উপায় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: প্রফেসর ডা. এম এন হুদা - চর্ম, কুষ্ঠ, সেক্স ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ, ভূতপূর্ব অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 5 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced skin specialist (dermatologist) near you for consultation and treatment.
103 Doctors
36 Doctors
22 Doctors
9 Doctors
18 Doctors
7 Doctors