ADHD লক্ষণ, অতিরিক্ত দুষ্টুমি, মনোযোগের ঘাটতি, অবাধ্য আচরণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
অনেক শিশুই স্বাভাবিকভাবে চঞ্চল, কৌতূহলী এবং দুষ্টুমি করে। কিন্তু যখন কোনো শিশু সমবয়সীদের তুলনায় অতিরিক্ত অস্থির হয়ে পড়ে, এক জায়গায় বসে থাকতে পারে না, পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় অথবা নিয়ম মানতে বারবার সমস্যা করে, তখন অনেক অভিভাবক চিন্তিত হয়ে পড়েন।
অনেক ক্ষেত্রে এসব আচরণ শুধুমাত্র দুষ্টুমি নয়; বরং ADHD (Attention Deficit Hyperactivity Disorder) নামক একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সব দুষ্টু শিশু ADHD-তে আক্রান্ত নয়।
এই ভিডিওতে শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ মাহাবুবা রহমান ADHD কী, এর লক্ষণ, অতিরিক্ত দুষ্টুমি ও ADHD-এর পার্থক্য, মনোযোগের সমস্যা, অবাধ্য আচরণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
ADHD (Attention Deficit Hyperactivity Disorder) হলো শিশুদের একটি সাধারণ নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, যা শিশুর মনোযোগ, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
এটি সাধারণত শৈশবে শুরু হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে কৈশোর বা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও কিছু লক্ষণ থাকতে পারে।
ADHD সাধারণত তিনটি প্রধান সমস্যার মাধ্যমে প্রকাশ পায়:
শিশু সহজে মনোযোগ হারিয়ে ফেলে এবং কাজ শেষ করতে পারে না।
এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকতে কষ্ট হয়।
চিন্তা না করেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায় বা কাজ করে ফেলে।
সব সময় নয়।
অনেক শিশু স্বাভাবিকভাবেই:
দৌড়ঝাঁপ করে
খেলাধুলা পছন্দ করে
বেশি কথা বলে
কৌতূহলী আচরণ করে
এগুলো স্বাভাবিক বিকাশের অংশ হতে পারে।
তবে ADHD-এর ক্ষেত্রে আচরণগুলো:
দীর্ঘদিন ধরে থাকে
বাড়ি ও স্কুল—দুই জায়গাতেই দেখা যায়
পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনে সমস্যা তৈরি করে
সমবয়সীদের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় থাকে
পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
ছোটখাটো ভুল বেশি করা
কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেওয়া
নির্দেশনা অনুসরণ করতে সমস্যা হওয়া
জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা
সহজেই অন্যদিকে মনোযোগ চলে যাওয়া
এক জায়গায় বসে থাকতে না পারা
সব সময় নড়াচড়া করা
ক্লাসে বা বাড়িতে অস্থির থাকা
অতিরিক্ত কথা বলা
অকারণে দৌড়াদৌড়ি করা
অন্যের কথা শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দেওয়া
অপেক্ষা করতে না পারা
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হওয়া
চিন্তা না করেই কাজ করে ফেলা
শিশুর মধ্যে দেখা যেতে পারে:
পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া
স্কুল থেকে অভিযোগ আসা
বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া হওয়া
নিয়ম মানতে অসুবিধা
কাজ শেষ না করা
অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ আচরণ
ADHD-এর সুনির্দিষ্ট একক কারণ জানা না গেলেও কয়েকটি বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
পরিবারে ADHD থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
মস্তিষ্কের কিছু অংশের কার্যকারিতার পার্থক্যের সঙ্গে ADHD-এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
ধূমপানের সংস্পর্শ
অ্যালকোহল গ্রহণ
কিছু বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ
প্রিম্যাচিউর শিশুদের মধ্যে ADHD-এর ঝুঁকি কিছুটা বেশি হতে পারে।
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে ADHD-এর সম্ভাবনা বিবেচনা করা যেতে পারে:
৬ মাসের বেশি সময় ধরে একই ধরনের সমস্যা থাকলে
বাড়ি ও স্কুল উভয় জায়গায় সমস্যা দেখা দিলে
পড়াশোনা ও সামাজিক জীবনে প্রভাব পড়লে
শিক্ষক ও অভিভাবক উভয়েই আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হলে
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
শিশুর মনোযোগের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে
অতিরিক্ত চঞ্চলতা দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা তৈরি করলে
স্কুলের ফলাফল খারাপ হতে থাকলে
আচরণগত সমস্যা বাড়তে থাকলে
শিক্ষক বারবার একই অভিযোগ করলে
ADHD নির্ণয়ের জন্য সাধারণত:
শিশুর বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয়
বাবা-মা ও শিক্ষকের মতামত বিবেচনা করা হয়
আচরণগত মূল্যায়ন করা হয়
অন্যান্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যা আছে কি না তা যাচাই করা হয়
ADHD নির্ণয়ের জন্য কোনো একক রক্ত পরীক্ষা বা স্ক্যান নেই।
শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
অভিভাবকদের শিশুর আচরণ ব্যবস্থাপনার কার্যকর কৌশল শেখানো হয়।
শিক্ষক ও পরিবারের সমন্বিত সহায়তা শিশুর উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে।
খাওয়া, ঘুম, পড়াশোনা ও খেলাধুলার নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন।
একসাথে অনেক নির্দেশনা না দিয়ে ধাপে ধাপে বোঝান।
শাস্তির পরিবর্তে উৎসাহ ও প্রশংসা বেশি কার্যকর হতে পারে।
মোবাইল, ট্যাব ও টেলিভিশন ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ করুন।
বারবার বকাঝকা বা তুলনা করা শিশুর মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।
ADHD একটি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা হলেও সঠিক চিকিৎসা, আচরণগত সহায়তা এবং পারিবারিক সহযোগিতার মাধ্যমে অধিকাংশ শিশু স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।
না। দুষ্টুমি শিশুদের স্বাভাবিক আচরণের অংশ হতে পারে। ADHD নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
হ্যাঁ। পরিবারে ADHD থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
অবশ্যই। সঠিক চিকিৎসা ও সহায়তা পেলে অনেক শিশু সফলভাবে পড়াশোনা করতে পারে।
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে লক্ষণ কমে যেতে পারে, তবে অনেকের কিছু লক্ষণ প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও থাকতে পারে।
শিশু বিশেষজ্ঞ, শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
শিশুর অতিরিক্ত দুষ্টুমি, মনোযোগের ঘাটতি বা অবাধ্য আচরণ সব সময় সাধারণ চঞ্চলতার অংশ নয়। যদি এসব আচরণ দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং শিশুর পড়াশোনা, পারিবারিক জীবন বা সামাজিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে, তাহলে ADHD-এর সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত। দ্রুত সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসা শিশুর আত্মবিশ্বাস, শেখার ক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার শিশুর আচরণ বা বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভিডিওতে দেখুন: ADHD-এর লক্ষণ, অতিরিক্ত দুষ্টুমি ও ADHD-এর পার্থক্য, মনোযোগের সমস্যা, অবাধ্য আচরণ, চিকিৎসা এবং অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ মাহাবুবা রহমান, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, এমবিবিএস, এমডি (চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি), সহকারী অধ্যাপক (ডিপার্টমেন্ট অব সাইকিয়াট্রি), মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন এন্ড হাসপাতাল।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 7 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced psychiatrist (mental diseases specialist) near you for consultation and treatment.
57 Doctors
14 Doctors
16 Doctors
7 Doctors
10 Doctors
5 Doctors