ADHD লক্ষণ, অতিরিক্ত দুষ্টুমি, অবাধ্য আচরণ, মনোযোগের সমস্যা, কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
অনেক শিশুই স্বাভাবিকভাবে চঞ্চল, দুষ্টু এবং খেলাধুলাপ্রিয় হয়। তবে যখন কোনো শিশু তার সমবয়সীদের তুলনায় অতিরিক্ত অস্থির, মনোযোগ ধরে রাখতে অক্ষম, নিয়ম মানতে অনাগ্রহী বা অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে, তখন সেটি শুধুমাত্র দুষ্টুমি নাও হতে পারে। এসব লক্ষণ অনেক সময় ADHD (Attention Deficit Hyperactivity Disorder)-এর ইঙ্গিত হতে পারে।
ADHD শিশুদের একটি সাধারণ নিউরোডেভেলপমেন্টাল বা স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা, যা শিশুর মনোযোগ, আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। সময়মতো সঠিকভাবে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা গেলে অধিকাংশ শিশু স্বাভাবিক ও সফল জীবনযাপন করতে পারে।
ADHD (Attention Deficit Hyperactivity Disorder) হলো শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া একটি নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, যেখানে শিশুর মনোযোগ ধরে রাখা, আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং স্থিরভাবে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
এটি সাধারণত শৈশবেই শুরু হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে কৈশোর বা প্রাপ্তবয়স্ক জীবন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এই ধরনের শিশুরা সাধারণত:
সহজে মনোযোগ হারায়
পড়াশোনায় ভুল করে
নির্দেশনা অনুসরণ করতে সমস্যা হয়
জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলে
কাজ অসম্পূর্ণ রেখে দেয়
এই ধরনের শিশুরা:
এক জায়গায় বসে থাকতে পারে না
অতিরিক্ত কথা বলে
অন্যের কথা কেটে দেয়
ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে পারে না
হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে
এ ক্ষেত্রে মনোযোগের ঘাটতি এবং অতিচঞ্চলতা—দুই ধরনের লক্ষণই একসাথে দেখা যায়।
পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
সহজেই অন্যদিকে মনোযোগ চলে যাওয়া
নির্দেশনা অনুসরণ করতে অসুবিধা হওয়া
কাজ শেষ করতে না পারা
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলা
দৈনন্দিন কাজ ভুলে যাওয়া
সব সময় নড়াচড়া করা
এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকতে না পারা
অকারণে দৌড়াদৌড়ি করা
অতিরিক্ত কথা বলা
শান্ত পরিবেশেও অস্থির থাকা
অন্যের কথা শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দেওয়া
লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে না পারা
বন্ধুদের সাথে ঝগড়া বা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া
চিন্তা না করেই কাজ করে ফেলা
অনেক বাবা-মা মনে করেন তাদের সন্তান শুধু দুষ্টু বা চঞ্চল। কিন্তু ADHD-এর ক্ষেত্রে আচরণগুলো:
দীর্ঘদিন ধরে থাকে
স্কুল, পরিবার ও সামাজিক জীবনে সমস্যা সৃষ্টি করে
শিশুর পড়াশোনা ও বিকাশে প্রভাব ফেলে
একই বয়সী অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় দেখা যায়
অর্থাৎ, সব দুষ্টু শিশু ADHD-তে আক্রান্ত নয়, তবে ADHD আক্রান্ত শিশুকে অনেক সময় ভুলভাবে “অতিরিক্ত দুষ্টু” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ADHD-এর সুনির্দিষ্ট একক কারণ জানা না গেলেও কয়েকটি বিষয় ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পরিবারে ADHD থাকলে শিশুর ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
মস্তিষ্কের কিছু অংশের কার্যক্রম ও রাসায়নিক বার্তাবাহকের পরিবর্তনের সঙ্গে ADHD-এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
মায়ের ধূমপান
অ্যালকোহল সেবন
কিছু বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ
প্রিম্যাচিউর শিশুদের মধ্যে ADHD-এর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
ADHD আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে দেখা যেতে পারে:
পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া
স্কুলে অভিযোগ পাওয়া
বন্ধুদের সাথে সম্পর্কের সমস্যা
নিয়ম মানতে অনীহা
অতিরিক্ত রাগ বা আবেগপ্রবণতা
আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
শিশুর মনোযোগের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে
স্কুলের ফলাফল খারাপ হতে শুরু করলে
অতিরিক্ত চঞ্চলতা দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করলে
আচরণগত সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলে
শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষ বারবার একই অভিযোগ করলে
ADHD নির্ণয়ের জন্য সাধারণত:
শিশুর বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয়
বাবা-মা ও শিক্ষকদের মতামত বিবেচনা করা হয়
আচরণগত মূল্যায়ন করা হয়
অন্যান্য শারীরিক বা মানসিক সমস্যা আছে কি না তা যাচাই করা হয়
ADHD নির্ণয়ের জন্য কোনো একক রক্ত পরীক্ষা বা স্ক্যান নেই। এটি মূলত ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়।
শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণ, আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
বাবা-মাকে শিশুর আচরণ পরিচালনার কার্যকর কৌশল শেখানো হয়।
শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টা শিশুর শেখার পরিবেশ উন্নত করতে সাহায্য করে।
কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। ওষুধের প্রয়োজনীয়তা ও ধরন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।
ঘুম, পড়াশোনা, খাওয়া ও খেলাধুলার নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন।
একসাথে অনেক নির্দেশনা না দিয়ে ধাপে ধাপে কাজ বুঝিয়ে দিন।
ভালো আচরণের জন্য প্রশংসা ও উৎসাহ দিন।
মোবাইল, ট্যাব ও টেলিভিশন ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ করুন।
ADHD আক্রান্ত শিশুকে বারবার বকাঝকা বা শাস্তি দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
ADHD একটি দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা হলেও সঠিক চিকিৎসা, আচরণগত সহায়তা এবং পারিবারিক সহযোগিতার মাধ্যমে অধিকাংশ শিশু স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে।
না। ADHD একটি স্বীকৃত নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার। এটি শুধুমাত্র দুষ্টুমি বা অবাধ্য আচরণ নয়।
হ্যাঁ। পরিবারের অন্য সদস্যদের ADHD থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
অবশ্যই। সঠিক চিকিৎসা, পারিবারিক সহায়তা এবং স্কুলভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে অনেক শিশু সফলভাবে পড়াশোনা করতে পারে।
কিছু শিশুর ক্ষেত্রে লক্ষণ কমে যেতে পারে, তবে অনেকের ক্ষেত্রে কৈশোর বা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও কিছু লক্ষণ থাকতে পারে।
শিশু বিশেষজ্ঞ, শিশু-কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
শিশুর অতিরিক্ত দুষ্টুমি, অবাধ্য আচরণ বা মনোযোগের সমস্যা সব সময় স্বাভাবিক চঞ্চলতার অংশ নয়। যদি এসব আচরণ দীর্ঘদিন ধরে থাকে এবং শিশুর পড়াশোনা, পারিবারিক জীবন বা সামাজিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে, তাহলে ADHD-এর সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত। দ্রুত সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসা শিশুর ভবিষ্যৎ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ভিডিওতে দেখুন: ADHD-এর লক্ষণ, অতিরিক্ত দুষ্টুমি, অবাধ্য আচরণ, মনোযোগের সমস্যা, কারণ, চিকিৎসা এবং বাবা-মায়ের করণীয় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ মাহাবুবা রহমান, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, এমবিবিএস, এমডি (চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রি)
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 5 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced psychiatrist (mental diseases specialist) near you for consultation and treatment.
57 Doctors
14 Doctors
16 Doctors
7 Doctors
10 Doctors
5 Doctors