/
ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও বিপদের সতর্কসংকেত জানুন। জ্বর কমে গেলেও কখন হাসপাতালে যেতে হবে, তা জেনে নিন।

ডেঙ্গু জ্বর একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাংলাদেশে বিশেষ করে বর্ষাকালে বেশি দেখা যায়। ডেঙ্গুতে সাধারণত উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র্যাশ হতে পারে। অধিকাংশ রোগী সঠিক যত্নে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে গুরুতর ডেঙ্গু (Severe Dengue) দেখা দিতে পারে, যার জন্য দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, পর্যাপ্ত তরল পান করুন এবং বিপদের লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করুন। বিশেষভাবে মনে রাখবেন, জ্বর কমে গেলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় না। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমার সময় বা পরবর্তী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
ডেঙ্গু হলো ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণ, যা মূলত সংক্রমিত Aedes প্রজাতির মশার কামড়ে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি কামড়ায়, যদিও অন্য সময়েও কামড়াতে পারে।
সংক্রমিত মশা কাউকে কামড়ালে ভাইরাস তার শরীরে প্রবেশ করতে পারে। ডেঙ্গু সাধারণত সরাসরি একজন মানুষের কাছ থেকে আরেকজন মানুষের মধ্যে ছড়ায় না; তবে সংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশা অন্য ব্যক্তির মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারে।
ডেঙ্গু সংক্রমণের পর সাধারণত ৪–১০ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কারও উপসর্গ মৃদু হয়, আবার কারও গুরুতর অসুস্থতা তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু সংক্রমণের ক্ষেত্রে গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি হতে পারে, তবে প্রথমবার সংক্রমণেও গুরুতর ডেঙ্গু হতে পারে।
ডেঙ্গুর লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের কয়েক দিন পর শুরু হয়। জ্বর প্রায়ই ২–৭ দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিতভাবে ডেঙ্গু নির্ণয় করা যায় না; চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা লাগতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বরের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
হঠাৎ উচ্চ জ্বর।
তীব্র মাথাব্যথা।
চোখের পেছনে ব্যথা।
শরীর ব্যথা ও দুর্বলতা।
ক্ষুধামন্দা।
বমি বমি ভাব।
এসব লক্ষণ ডেঙ্গু ছাড়াও অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণে হতে পারে। জ্বরের সঙ্গে শরীরের অবস্থা খারাপ হলে বা ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডেঙ্গুতে পেশি, হাড় ও জয়েন্টে ব্যথা হতে পারে। কারও ত্বকে লালচে র্যাশ দেখা যায়। বমি বমি ভাব, বমি, দুর্বলতা এবং খাবারে অরুচিও হতে পারে।
কিছু রোগীর নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত কিংবা ত্বকে ছোট ছোট লালচে দাগ দেখা দিতে পারে। রক্তপাত হলে, বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে অন্য বিপদের লক্ষণ থাকলে, দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
শিশুরা সব সময় তাদের উপসর্গ স্পষ্টভাবে বলতে পারে না। তাই শিশুর আচরণ, খাবার গ্রহণ, প্রস্রাব এবং সচলতা লক্ষ্য করা জরুরি।
শিশুর ক্ষেত্রে খেয়াল করুন:
স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি নিস্তেজ হয়ে যাওয়া।
খেতে বা তরল পান করতে না চাওয়া।
বারবার বমি।
প্রস্রাব কমে যাওয়া।
পেটব্যথা বা অস্বাভাবিক কান্না।
রক্তপাত বা শ্বাসকষ্ট।
বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনির রোগ বা অন্য দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা রয়েছে—এমন রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে দেরি করা উচিত নয়। তাঁদের তরল গ্রহণ ও অন্যান্য চিকিৎসাগত প্রয়োজন ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।
ডেঙ্গু শনাক্ত করতে কোন পরীক্ষা করা হবে, তা জ্বরের কততম দিন চলছে, রোগীর উপসর্গ এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে শুধু পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করতে দেরি করা উচিত নয়।
জ্বর শুরুর প্রথম সাত দিনের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্ত করতে NS1 Antigen Test অথবা RT-PCR-এর মতো পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়।
NS1 Antigen Test: রক্তে ডেঙ্গু ভাইরাসের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন শনাক্ত করে।
RT-PCR: রক্তে ভাইরাসের জিনগত উপাদান শনাক্ত করতে পারে।
রোগীর অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসক NS1 বা RT-PCR-এর সঙ্গে IgM Antibody Test-ও দিতে পারেন। কোন পরীক্ষার সমন্বয় প্রয়োজন, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
IgM Antibody Test শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি শনাক্ত করে। সাধারণত অসুস্থতার কয়েক দিন পর এই অ্যান্টিবডি শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং জ্বর শুরুর সাত দিনের পর এটি বিশেষভাবে উপযোগী হতে পারে।
তবে অসুস্থতার প্রথম দিকে IgM নেগেটিভ থাকলেও ডেঙ্গু পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না। পরীক্ষার ফলাফল রোগের সময়কাল ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়।
না। NS1 নেগেটিভ হলেই ডেঙ্গু নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পরীক্ষাটি কখন করা হয়েছে, রোগের পর্যায় এবং পরীক্ষার কার্যকারিতার কারণে ফলাফল নেগেটিভ হতে পারে।
ডেঙ্গুর লক্ষণ থাকলে চিকিৎসক অসুস্থতার দিন অনুযায়ী RT-PCR, IgM বা পুনরায় পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন। একই সঙ্গে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ডেঙ্গু শনাক্ত না হলেও বিপদের লক্ষণ থাকলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। পরীক্ষার ফলাফল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ভাইরাসবিরোধী ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো জ্বর ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, পানিশূন্যতা প্রতিরোধ, রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া।
ডেঙ্গু হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং নিয়মিত তরল পান করুন। পানি, খাবার স্যালাইন (ORS), স্যুপ বা অন্যান্য উপযুক্ত তরল গ্রহণ করা যেতে পারে।
তরলের প্রয়োজন রোগীর বয়স, ওজন, বমি, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং অন্যান্য অসুস্থতার ওপর নির্ভর করে। হৃদ্যন্ত্র বা কিডনির রোগ থাকলে তরল গ্রহণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা প্রয়োজন।
বারবার বমির কারণে তরল পান করতে না পারলে, প্রস্রাব কমে গেলে বা দুর্বলতা বাড়লে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে জ্বর ও ব্যথা কমাতে সাধারণত প্যারাসিটামল (Paracetamol) ব্যবহার করা হয়। তবে রোগীর বয়স, ওজন, যকৃতের অবস্থা এবং অন্য ওষুধ গ্রহণের বিষয় বিবেচনা করে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একাধিক প্যারাসিটামলযুক্ত ওষুধ একসঙ্গে খাবেন না। মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল যকৃতের ক্ষতি করতে পারে।
ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া নিচের ওষুধগুলো এড়িয়ে চলুন:
অ্যাসপিরিন (Aspirin)।
আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen)।
ন্যাপ্রোক্সেন (Naproxen)।
অন্যান্য NSAID শ্রেণির ব্যথানাশক।
নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড বা অন্য ওষুধ শুরু করবেন না। ডেঙ্গুর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত প্রয়োজন হয় না, যদি না অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের জন্য চিকিৎসক তা নির্ধারণ করেন।
CBC (Complete Blood Count) পরীক্ষার মাধ্যমে হিমোগ্লোবিন, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লেটলেটসহ রক্তের বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী CBC এবং হেমাটোক্রিট (Hematocrit) পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে পারেন।
প্লেটলেটের সংখ্যা কমে যাওয়া ডেঙ্গুতে দেখা যেতে পারে। তবে শুধু প্লেটলেট কাউন্ট দিয়ে রোগী কতটা গুরুতর অসুস্থ, তা নির্ধারণ করা যায় না। রোগীর রক্তচাপ, নাড়ির গতি, রক্তপাত, প্রস্রাবের পরিমাণ, তরল গ্রহণ এবং হেমাটোক্রিটের পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ।
কতবার CBC করতে হবে, তা রোগীর অবস্থা ও রোগের পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। সবার জন্য প্রতিদিন একই সংখ্যক পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।
ডেঙ্গুর বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। রোগীর অবস্থা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও খারাপ হতে পারে।
নিচের লক্ষণগুলোর কোনোটি দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন:
তীব্র বা ক্রমশ বাড়তে থাকা পেটব্যথা।
বারবার বমি বা কোনো তরলই পেটে রাখতে না পারা।
নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত।
রক্তবমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত।
কালো পায়খানা।
পেটে অস্বাভাবিক ফোলাভাব বা চাপ দিলে ব্যথা।
এসব লক্ষণ গুরুতর ডেঙ্গু বা অন্য জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। বাড়িতে চিকিৎসা করে অপেক্ষা করবেন না।
শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, ঠান্ডা-ফ্যাকাশে ত্বক, মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি বা প্রস্রাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে জরুরি বিভাগে যান।
এসব লক্ষণ শরীরে রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়া, গুরুতর পানিশূন্যতা বা অন্য জটিলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ডেঙ্গুর জ্বর কমে যাওয়ার সময়কে সব ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে ওঠার লক্ষণ হিসেবে ধরা যায় না। রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় সাধারণত জ্বর কমার সময় শুরু হয় এবং প্রায় ২৪–৪৮ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। এই সময়ে কিছু রোগীর রক্তনালি থেকে তরল বেরিয়ে গিয়ে রক্তসঞ্চালনে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তাই জ্বর কমার পরও খেয়াল রাখুন:
পেটব্যথা বা বারবার বমি হচ্ছে কি না।
রক্তপাত হচ্ছে কি না।
রোগী অস্বাভাবিক দুর্বল বা অস্থির হয়ে পড়ছেন কি না।
প্রস্রাব কমে যাচ্ছে কি না।
শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান। জ্বর কমেছে বলে চিকিৎসকের নির্দেশিত পর্যবেক্ষণ বন্ধ করবেন না।
চিকিৎসক যদি রোগীকে বাড়িতে থাকার উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বাড়িতে যত্ন নেওয়ার অর্থ রোগীকে পর্যবেক্ষণ ছাড়া রেখে দেওয়া নয়।
রোগীকে অল্প অল্প করে বারবার তরল পান করতে উৎসাহিত করুন। পানি, ORS, স্যুপ এবং সহ্য অনুযায়ী স্বাভাবিক খাবার দেওয়া যেতে পারে।
ক্ষুধা কম থাকলে অল্প পরিমাণে সহজে খাওয়া যায় এমন খাবার দিন। শুধু ফলের রস বা একটি নির্দিষ্ট খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় খাবার দেওয়ার চেষ্টা করুন।
রোগী বারবার বমি করলে, পান করতে না পারলে বা প্রস্রাব কমে গেলে বাড়িতে জোর করে তরল খাওয়ানোর পরিবর্তে চিকিৎসা নিন।
বাড়িতে রোগীর যত্ন নেওয়ার সময় নিয়মিত খেয়াল করুন:
জ্বর ও সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা।
পেটব্যথা বা বমির উপস্থিতি।
পানি ও অন্যান্য তরল গ্রহণের পরিমাণ।
প্রস্রাবের পরিমাণ ও ঘনত্ব।
নাক, মাড়ি বা অন্য কোথাও রক্তপাত।
অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঘুমঘুম ভাব।
শ্বাসকষ্ট বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ফলোআপ ও রক্ত পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করবেন। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে পরবর্তী অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করবেন না।
ডেঙ্গুর সময় মশারি ব্যবহার করুন এবং মশার কামড় থেকে রোগীকে রক্ষা করুন। এতে রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
ডেঙ্গুতে শিরায় স্যালাইন (IV Fluid) দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে, তবে সব রোগীর জন্য এটি দরকার হয় না। কতটা তরল, কী গতিতে এবং কতক্ষণ দিতে হবে—তা রোগীর শারীরিক অবস্থা ও পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে।
অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত IV Fluid শরীরে তরল জমে শ্বাসকষ্টসহ গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই বাড়িতে নিজে থেকে স্যালাইন দেওয়া বা শুধু প্লেটলেট বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ওষুধ নেওয়া উচিত নয়।
প্লেটলেট কমলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্লেটলেট সঞ্চালন (Platelet Transfusion) প্রয়োজন হয় না। এ সিদ্ধান্ত রোগীর রক্তপাত, সামগ্রিক অবস্থা ও চিকিৎসাগত প্রয়োজন বিবেচনা করে চিকিৎসক নেন।
ডেঙ্গুর জ্বর সাধারণত ২–৭ দিন স্থায়ী হতে পারে। অনেক রোগী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন, যদিও দুর্বলতা কিছুটা বেশি দিন থাকতে পারে।
জ্বর কত দিন স্থায়ী হচ্ছে, তার পাশাপাশি রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও বিপদের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সব সময় নয়। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমার সময় বা পরবর্তী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা প্রস্রাব কমে গেলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটিমাত্র প্লেটলেট সংখ্যা নেই। চিকিৎসক প্লেটলেট কাউন্টের পাশাপাশি রক্তপাত, রক্তচাপ, নাড়ির গতি, হেমাটোক্রিট, প্রস্রাবের পরিমাণ, তরল গ্রহণ এবং অন্যান্য ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করেন।
প্লেটলেট কম থাকলে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু শুধু একটি সংখ্যার ভিত্তিতে ভর্তি বা চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
না। যেসব রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করতে পারেন এবং কোনো বিপদের লক্ষণ নেই, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।
তবে বিপদের লক্ষণ, গুরুতর ডেঙ্গুর সন্দেহ, তরল গ্রহণে অক্ষমতা, গুরুত্বপূর্ণ সহ-রোগ বা নিরাপদে বাড়িতে পর্যবেক্ষণ সম্ভব না হলে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চিকিৎসক নেবেন।
চিকিৎসা-সংক্রান্ত সতর্কতা: এই নিবন্ধটি সাধারণ স্বাস্থ্যতথ্যের জন্য; এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলাফল বা পরবর্তী অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা না করে জরুরি বিভাগে যান।
তথ্যসূত্র:
World Health Organization (WHO): https://www.who.int/news-room/fact-sheets/detail/dengue-and-severe-dengue
Centers for Disease Control and Prevention (CDC), Clinical Care: https://www.cdc.gov/dengue/hcp/clinical-care/index.html
CDC, Dengue Testing Guidance: https://www.cdc.gov/dengue/hcp/diagnosis-testing/
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ মোঃ ইয়ানুর হোসেন, এমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (কার্ডিওলজি – এনআইসিভিডি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), সিসিডি (বারডেম), এক্স কনসালটেন্ট , ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সহকারী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 27 October 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced medicine specialist near you for consultation and treatment.
537 Doctors
175 Doctors
50 Doctors
57 Doctors
56 Doctors
24 Doctors