কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, কিডনি ভালো রাখার উপায় ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন করে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা এবং শরীরের লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখতেও কিডনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সমস্যা হলো, কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। ফলে অনেক রোগী কিডনির কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর রোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই কিডনি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং কীভাবে কিডনি সুস্থ রাখা যায়—এসব বিষয়ে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এই ভিডিওতে কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ জি এম সাদিক হাসান কিডনি ভালো রাখার উপায়, কিডনি নষ্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং প্রতিরোধের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
মানুষের শরীরে সাধারণত দুটি কিডনি থাকে। কিডনির প্রধান কাজগুলো হলো:
রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করা
অতিরিক্ত পানি ও লবণ অপসারণ করা
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা
লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভূমিকা রাখা
শরীরে খনিজ ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখা
হাড়ের স্বাস্থ্যে সহায়ক কিছু হরমোন সক্রিয় করা
ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটি দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
ধূমপান কিডনিতে রক্ত সরবরাহ কমিয়ে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন কিছু ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
জিনগত কারণে কিছু মানুষের ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে রোগ অগ্রসর হলে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে:
চোখের পাতা
পা
গোড়ালি
মুখমণ্ডল
ফুলে যেতে পারে।
প্রস্রাব কমে যাওয়া
বারবার প্রস্রাব হওয়া
রাতে বেশি প্রস্রাব হওয়া
প্রস্রাবে ফেনা হওয়া
প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া
রক্তশূন্যতা বা বর্জ্য পদার্থ জমে থাকার কারণে দুর্বলতা হতে পারে।
খাবারের রুচি কমে যেতে পারে।
কিছু রোগীর বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে।
শরীরে অতিরিক্ত পানি জমলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে শরীরে চুলকানি হতে পারে।
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
পা বা মুখ ফুলে গেলে
প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে
প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা হলে
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে
ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা না করে থাকলে
দীর্ঘদিন দুর্বলতা বা ক্ষুধামন্দা থাকলে
Serum Creatinine
Blood Urea
eGFR (Estimated Glomerular Filtration Rate)
Urine Routine Examination
Urine Albumin বা Protein পরীক্ষা
উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনির গঠনগত সমস্যা মূল্যায়নে ব্যবহার করা হতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।
উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করুন।
শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন। তবে কিডনি রোগ থাকলে কতটুকু পানি খাবেন তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করুন।
কম লবণ খান
বেশি শাকসবজি ও ফলমূল খান
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা কিডনির জন্য উপকারী।
স্থূলতা কমানোর চেষ্টা করুন।
ধূমপান কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ খাওয়া
অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
ধূমপান
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করা
ভেষজ বা অজানা ওষুধ অতিরিক্ত ব্যবহার
অনেক ক্ষেত্রেই হ্যাঁ।
বিশেষ করে:
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা
নিয়মিত পরীক্ষা করা
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সব সময় নয়। শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
হ্যাঁ। এটি প্রস্রাবে প্রোটিন যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে এবং মূল্যায়ন প্রয়োজন।
কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত, কারণ ডায়াবেটিস কিডনি রোগের প্রধান ঝুঁকির কারণ।
অনেক সময় দেয় না। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিডনি রোগকে অনেক সময় "নীরব ঘাতক" বলা হয়, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এটি কোনো লক্ষণ ছাড়াই অগ্রসর হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার করা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পা ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবে ফেনা বা রক্ত দেখা দেওয়ার মতো লক্ষণকে কখনো অবহেলা করবেন না।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। কিডনি সংক্রান্ত যেকোনো উপসর্গ বা পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে জানতে অবশ্যই কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভিডিওতে দেখুন: কিডনি নষ্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ, কিডনি ভালো রাখার নিয়ম, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের প্রভাব, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং প্রতিরোধের কার্যকর উপায় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ জি এম সাদিক হাসান, এমবিবিএস, এমডি (নেফ্রোলজি), ডায়াবেটিস উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (যুক্তরাষ্ট্র), সহকারী অধ্যাপক (নেফ্রোলজি বিভাগ), বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 16 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced kidney specialist (nephrologist) near you for consultation and treatment.
150 Doctors
44 Doctors
14 Doctors
16 Doctors
14 Doctors
7 Doctors