শুক্রাণু কম হওয়ার কারণ, পুরুষ বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও সন্তান ধারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বিয়ের পর অনেক দম্পতি দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সন্তান ধারণ করতে না পারলে উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়েন। অনেক সময় সমাজে ধারণা করা হয় যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা শুধুমাত্র নারীদের কারণে হয়। কিন্তু বাস্তবে, বন্ধ্যাত্বের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষজনিত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।
পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া (Low Sperm Count) বা শুক্রাণুর গুণগত মানের সমস্যা। তবে সুখবর হলো, আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার কারণ নির্ণয় ও কার্যকর সমাধান সম্ভব।
এই ভিডিওতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আকতারুজ্জামান সৈকত শুক্রাণু কম হওয়ার কারণ, পুরুষ বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং সন্তান ধারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
যখন নিয়মিত অসুরক্ষিত দাম্পত্য সম্পর্কের পরও এক বছর বা তার বেশি সময় সন্তান ধারণ না হয়, তখন নারী ও পুরুষ—উভয়েরই মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়।
যদি সমস্যার কারণ পুরুষের শুক্রাণু উৎপাদন, গুণগত মান বা প্রজনন ব্যবস্থার অন্য কোনো ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে তাকে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব (Male Infertility) বলা হয়।
বীর্যে স্বাভাবিকের তুলনায় কম সংখ্যক শুক্রাণু থাকলে তাকে Low Sperm Count বা Oligospermia বলা হয়।
যদি বীর্যে একেবারেই শুক্রাণু না থাকে, তাকে Azoospermia বলা হয়।
শুক্রাণুর সংখ্যা, চলাচলের ক্ষমতা (Motility) এবং গঠন (Morphology)—সবগুলোই প্রজনন সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়াকে ভ্যারিকোসিল বলা হয়। এটি পুরুষ বন্ধ্যাত্বের অন্যতম সাধারণ কারণ এবং শুক্রাণুর মান কমিয়ে দিতে পারে।
টেস্টোস্টেরন বা অন্যান্য প্রজনন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
কিছু সংক্রমণ শুক্রাণু উৎপাদন বা পরিবহনে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
কিছু জন্মগত বা জিনগত সমস্যা শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে।
ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল এবং মাদক সেবন শুক্রাণুর গুণগত মান নষ্ট করতে পারে।
স্থূলতা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গরম পরিবেশে কাজ করা বা অণ্ডকোষে অতিরিক্ত তাপের প্রভাব শুক্রাণু উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে।
কেমোথেরাপি
রেডিওথেরাপি
কিছু হরমোনজাত ওষুধ
অ্যানাবলিক স্টেরয়েড
শুক্রাণুর উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।
অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে:
দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সন্তান না হওয়া
যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া
উত্থানজনিত সমস্যা
বীর্যপাতের সমস্যা
অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা
অণ্ডকোষের আকারে পরিবর্তন
মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া (হরমোনজনিত সমস্যায়)
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত সহবাসের পরও সন্তান না হলে
স্ত্রীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ৬ মাস চেষ্টা করেও সন্তান না হলে
অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা থাকলে
পূর্বে অণ্ডকোষের অপারেশন হয়ে থাকলে
যৌন কার্যকারিতায় সমস্যা থাকলে
কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির ইতিহাস থাকলে
এটি পুরুষ বন্ধ্যাত্ব মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
এতে দেখা হয়:
শুক্রাণুর সংখ্যা
চলাচলের ক্ষমতা (Motility)
গঠন (Morphology)
বীর্যের পরিমাণ
যেমন:
Testosterone
FSH
LH
Prolactin
ভ্যারিকোসিল বা অন্যান্য গঠনগত সমস্যা মূল্যায়নে করা হতে পারে।
নির্বাচিত ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে।
হ্যাঁ। শুক্রাণু কম থাকলেও অনেক পুরুষ স্বাভাবিকভাবে বাবা হতে পারেন। এটি নির্ভর করে:
শুক্রাণুর সংখ্যা কতটা কম
শুক্রাণুর গুণগত মান কেমন
নারী সঙ্গীর প্রজনন স্বাস্থ্যের অবস্থা
সমস্যার কারণের ওপর
তাই শুক্রাণু কম মানেই সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে—এ ধারণা সঠিক নয়।
ধূমপান ছেড়ে দিন
অ্যালকোহল ও মাদক পরিহার করুন
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
হরমোনজনিত বা নির্দিষ্ট কারণ থাকলে চিকিৎসক ওষুধ দিতে পারেন।
প্রয়োজনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সংশোধন করা হতে পারে।
প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কিছু ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি প্রয়োজন হতে পারে:
IUI (Intrauterine Insemination)
IVF (In Vitro Fertilization)
ICSI (Intracytoplasmic Sperm Injection)
ধূমপান ও মাদক থেকে দূরে থাকুন
স্বাস্থ্যকর খাবার খান
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
অতিরিক্ত ওজন কমান
অযথা স্টেরয়েড ব্যবহার করবেন না
পর্যাপ্ত ঘুমান
দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না
হ্যাঁ। অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে বা চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান ধারণ সম্ভব।
সব সময় নয়। প্রয়োজনে চিকিৎসক নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে একাধিক পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।
হ্যাঁ। ধূমপান শুক্রাণুর সংখ্যা, গঠন এবং চলাচলের ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
না। রোগীর অবস্থা, উপসর্গ এবং বীর্য পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।
সব সময় নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে।
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব একটি চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সন্তান না হলে শুধুমাত্র নারীকে দায়ী না করে দম্পতি উভয়েরই মূল্যায়ন করা জরুরি। শুক্রাণু কম থাকলেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কারণ নির্ণয়, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে সন্তান ধারণ সম্ভব। তাই লজ্জা বা সংকোচ না করে সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সন্তান ধারণে সমস্যা হলে অবশ্যই ইউরোলজি, অ্যান্ড্রোলজি বা প্রজনন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভিডিওতে দেখুন: শুক্রাণু কম হওয়ার কারণ, পুরুষ বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ, বীর্য পরীক্ষা, আধুনিক চিকিৎসা, IUI-IVF-ICSI এবং সন্তান ধারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ মোঃ আকতারুজ্জামান সৈকত, বিইউএমএস (ডিইউ), এমপিএইচ (এনএসইউ), অ্যাডভান্সড ট্রেইন্ড ইন ইনফার্টিলিটি (সিসিআইএ)-ইন্ডিয়া, মেডিকেল অফিসার(ইনফার্টিলিটি কর্ণার) - কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 6 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced infertility specialist near you for consultation and treatment.
125 Doctors
26 Doctors
12 Doctors
8 Doctors
11 Doctors
4 Doctors