বন্ধ্যাত্ব (Infertility), পুরুষ ও নারীর সন্তান না হওয়ার কারণ, আধুনিক চিকিৎসা, IUI ও IVF সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

বিবাহের পর দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সন্তান না হলে অনেক দম্পতি মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হন। অনেকেই মনে করেন সন্তান না হওয়ার জন্য শুধুমাত্র নারী দায়ী, কিন্তু বাস্তবে বন্ধ্যাত্ব (Infertility) পুরুষ ও নারী—উভয়ের কারণেই হতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বর্তমানে বন্ধ্যাত্বের অনেক কারণ নির্ণয় ও চিকিৎসা করা সম্ভব। এছাড়া IUI (Intrauterine Insemination) এবং IVF (In Vitro Fertilization)-এর মতো সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে অসংখ্য দম্পতি সন্তান লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।
এই ভিডিওতে ফার্টিলিটি ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. চৌধুরী তাসলিমা নাসরীন সন্তান না হওয়ার কারণ, পুরুষ ও নারীর বন্ধ্যাত্ব, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, IUI, IVF এবং আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
সাধারণত এক বছর বা তার বেশি সময় নিয়মিত ও অসুরক্ষিত দাম্পত্য জীবনের পরও গর্ভধারণ না হলে তাকে বন্ধ্যাত্ব বা Infertility বলা হয়।
তবে:
নারীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ৬ মাস চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কিছু ক্ষেত্রে আরও আগে মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।
না।
বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে:
প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে কারণ নারীর
প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে কারণ পুরুষের
বাকি ক্ষেত্রে উভয়ের সমস্যা বা অজানা কারণ থাকতে পারে
তাই সন্তান না হলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রাণুর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।
শুক্রাণু ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে না পারলে নিষেক বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
অস্বাভাবিক আকৃতির শুক্রাণু নিষেকের ক্ষমতা কমাতে পারে।
অণ্ডকোষের শিরা ফুলে গেলে শুক্রাণুর গুণগত মানে প্রভাব পড়তে পারে।
কিছু হরমোনের ভারসাম্যহীনতা শুক্রাণু উৎপাদনে বাধা দিতে পারে।
ধূমপান
মাদকাসক্তি
স্থূলতা
অতিরিক্ত মানসিক চাপ
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব
বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটন গর্ভধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
নারীদের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম সাধারণ কারণ।
ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এটি পেলভিক ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
ফাইব্রয়েড
পলিপ
জন্মগত গঠনগত সমস্যা
গর্ভধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
৩৫ বছরের পর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নাও থাকতে পারে।
তবে কিছু সতর্ক সংকেত হলো:
অনিয়মিত মাসিক
মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া
তীব্র মাসিক ব্যথা
এন্ডোমেট্রিওসিসের লক্ষণ
যৌন সমস্যা
অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা
হরমোনজনিত উপসর্গ
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
১ বছর চেষ্টা করেও সন্তান না হলে
নারীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে
মাসিক অনিয়মিত হলে
পূর্বে গর্ভপাতের ইতিহাস থাকলে
পুরুষের শুক্রাণুর সমস্যা জানা থাকলে
শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি ও গঠন মূল্যায়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
প্রয়োজনে করা হতে পারে।
নির্বাচিত ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে।
ডিম্বস্ফোটন হচ্ছে কি না তা মূল্যায়ন করা হয়।
বিভিন্ন হরমোন পরীক্ষা করা হতে পারে।
ডিম্বাশয় ও জরায়ু মূল্যায়ন করা হয়।
ফলোপিয়ান টিউব খোলা আছে কি না তা দেখার জন্য ব্যবহৃত হয়।
IUI (Intrauterine Insemination) হলো একটি পদ্ধতি, যেখানে বিশেষভাবে প্রস্তুত শুক্রাণু সরাসরি জরায়ুর ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
হালকা পুরুষ বন্ধ্যাত্ব
অনির্ধারিত বন্ধ্যাত্ব
কিছু ডিম্বস্ফোটন সমস্যার ক্ষেত্রে
IVF (In Vitro Fertilization) হলো একটি উন্নত সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি।
এই পদ্ধতিতে:
ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়
ল্যাবরেটরিতে শুক্রাণুর সঙ্গে নিষেক করা হয়
ভ্রূণ (Embryo) তৈরি করা হয়
ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়
ফলোপিয়ান টিউব ব্লক থাকলে
গুরুতর পুরুষ বন্ধ্যাত্বে
দীর্ঘদিন বন্ধ্যাত্ব থাকলে
IUI ব্যর্থ হলে
কিছু জটিল ফার্টিলিটি সমস্যায়
না।
সফলতা নির্ভর করে:
নারীর বয়স
ডিম্বাণুর মান
শুক্রাণুর গুণগত মান
রোগের কারণ
ভ্রূণের গুণমান
ইত্যাদির ওপর।
অতিরিক্ত ওজন বা অতিরিক্ত কম ওজন উভয়ই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
এগুলো পুরুষ ও নারী উভয়ের প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
না। পুরুষ ও নারী উভয়ের কারণেই বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।
পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা মূল্যায়নের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এটি।
না। IUI এবং IVF দুটি ভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি।
না। সফলতার হার বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।
হ্যাঁ। বিশেষ করে নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমতে পারে।
সন্তান না হওয়া মানেই আশাহীন পরিস্থিতি নয়। বর্তমানে অধিকাংশ বন্ধ্যাত্বের কারণ নির্ণয় করা সম্ভব এবং অনেক ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে দেরি না করে ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সময়মতো মূল্যায়ন ও চিকিৎসা সফলতার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। সন্তান ধারণে সমস্যা হলে অবশ্যই ফার্টিলিটি ও প্রজনন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ভিডিওতে দেখুন: সন্তান না হওয়ার কারণ, পুরুষ ও নারীর বন্ধ্যাত্ব, Semen Analysis, HSG, IUI, IVF এবং আধুনিক ফার্টিলিটি চিকিৎসার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডা. চৌধুরী তাসলিমা নাসরীন, গাইনি, প্রসূতি ও বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ সার্জন, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (গাইনি এন্ড অবস্), জরায়ু ও স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, কলপোস্কপি বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক, গাইনি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 8 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced infertility specialist near you for consultation and treatment.
125 Doctors
26 Doctors
12 Doctors
8 Doctors
11 Doctors
4 Doctors