জন্ডিসের কারণ, সার্জিক্যাল জন্ডিস, ERCP, পিত্তনালীর ব্লক ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

জন্ডিস (Jaundice) কোনো রোগের নাম নয়, বরং এটি একটি লক্ষণ (Clinical Sign)। রক্তে Bilirubin নামক রঞ্জক পদার্থের মাত্রা বেড়ে গেলে চোখের সাদা অংশ, ত্বক এবং শরীর হলুদ দেখায়। জন্ডিসের কারণ হতে পারে ভাইরাল হেপাটাইটিস, লিভারের রোগ, রক্তকণিকার অতিরিক্ত ভাঙন অথবা পিত্তনালী (Bile Duct) বন্ধ হয়ে যাওয়া।
অনেক ক্ষেত্রে জন্ডিস ওষুধ ও বিশ্রামে ভালো হয়ে যায়। তবে পিত্তথলির পাথর, পিত্তনালীর ব্লক বা টিউমারের কারণে হওয়া সার্জিক্যাল জন্ডিসে ERCP বা অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই জন্ডিসের সঠিক কারণ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ভিডিওতে হেপাটোবিলিয়ারি (HPB) ও গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাওসার ভূঁইয়া জন্ডিসের কারণ, লক্ষণ, ভাইরাল ও সার্জিক্যাল জন্ডিসের পার্থক্য, ERCP, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
জন্ডিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে Bilirubin বেড়ে যাওয়ার কারণে চোখ, ত্বক এবং মিউকাস মেমব্রেন হলুদ হয়ে যায়।
Bilirubin হলো লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cell) ভেঙে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া একটি স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থ। লিভার এটি প্রক্রিয়াজাত করে পিত্তের (Bile) মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
জন্ডিস প্রধানত তিনটি কারণে হতে পারে:
লিভারের আগে (Hemolytic)
লিভারের সমস্যা (Hepatic)
লিভারের পরে বা পিত্তনালীতে বাধা (Obstructive)
জন্ডিসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো চোখের সাদা অংশ এবং ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া।
প্রস্রাব স্বাভাবিকের তুলনায় গাঢ় বা চায়ের মতো রঙের হতে পারে।
পিত্তনালী বন্ধ হয়ে গেলে পায়খানার রঙ ফ্যাকাশে বা সাদাটে হতে পারে।
বিশেষ করে Obstructive Jaundice-এ তীব্র শরীর চুলকাতে পারে।
এছাড়াও দেখা দিতে পারে:
ক্ষুধামন্দা
বমি বমি ভাব
দুর্বলতা
পেটব্যথা
জ্বর (কিছু ক্ষেত্রে)
ভাইরাল হেপাটাইটিস (যেমন Hepatitis A, B বা E)-এর কারণে লিভারে প্রদাহ হলে জন্ডিস হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর চিকিৎসা কারণভিত্তিক এবং সহায়ক (Supportive) হয়।
পিত্তনালীতে বাধা সৃষ্টি হলে পিত্ত স্বাভাবিকভাবে অন্ত্রে যেতে পারে না। ফলে Bilirubin রক্তে জমে জন্ডিস হয়। অনেক ক্ষেত্রে ERCP বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
লোহিত রক্তকণিকা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ভেঙে গেলে Bilirubin বেড়ে Hemolytic Jaundice হতে পারে।
পিত্তথলির পাথর পিত্তনালীতে আটকে গেলে Obstructive Jaundice হতে পারে।
পিত্তনালী সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে গেলে পিত্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
অগ্ন্যাশয়ের (Pancreas) কিছু টিউমার পিত্তনালী চেপে ধরে জন্ডিস সৃষ্টি করতে পারে।
পিত্তনালীর ক্যান্সারও Obstructive Jaundice-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
লিভারের কার্যক্ষমতা এবং Bilirubin-এর মাত্রা মূল্যায়নের জন্য LFT করা হয়।
পিত্তথলি, লিভার এবং পিত্তনালীর প্রাথমিক মূল্যায়নে Ultrasound গুরুত্বপূর্ণ।
MRCP (Magnetic Resonance Cholangiopancreatography) পিত্তনালী ও অগ্ন্যাশয়ের নালীর বিস্তারিত ছবি দেখতে সাহায্য করে।
টিউমার, জটিল ব্লক বা অন্যান্য সমস্যার মূল্যায়নে CT Scan প্রয়োজন হতে পারে।
ERCP (Endoscopic Retrograde Cholangiopancreatography) একটি বিশেষ এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি, যেখানে মুখ দিয়ে একটি নমনীয় ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে পিত্তনালী ও অগ্ন্যাশয়ের নালী পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা করা হয়।
ERCP বিবেচনা করা হতে পারে যদি:
পিত্তনালীতে পাথর থাকে
পিত্তনালীতে ব্লক থাকে
Obstructive Jaundice নিশ্চিত বা প্রবল সন্দেহ থাকে
নির্দিষ্ট কিছু পিত্তনালীর রোগে চিকিৎসকের প্রয়োজন মনে হয়
ERCP-এর মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে:
পিত্তনালীর পাথর অপসারণ
ব্লক দূর করা
Stent বসানো
অস্ত্রোপচারের আগে বা বিকল্প হিসেবে চিকিৎসা
সম্ভব হতে পারে।
চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে জন্ডিসের কারণের ওপর নির্ভর করে।
অনেক ভাইরাল জন্ডিসে:
পর্যাপ্ত বিশ্রাম
সুষম খাদ্য
পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Gallstone, পিত্তনালীর ব্লক বা টিউমারের ক্ষেত্রে ERCP, অস্ত্রোপচার বা অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে যদি:
পিত্তথলির পাথর জটিলতা সৃষ্টি করে
টিউমার অপসারণ সম্ভব হয়
ERCP যথেষ্ট না হয়
অন্যান্য সার্জিক্যাল কারণ থাকে
জন্ডিসের সঙ্গে তীব্র ডান পাশের পেটব্যথা হলে জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন।
জন্ডিসের সঙ্গে জ্বর ও কাঁপুনি থাকলে এটি পিত্তনালীর সংক্রমণ (Cholangitis)-এর লক্ষণ হতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসার বিষয়।
অবিরাম বমি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
জন্ডিসের সঙ্গে অচেতনতা, অতিরিক্ত ঝিমুনি বা আচরণের পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
এছাড়াও দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি:
রক্তক্ষরণ শুরু হয়
তীব্র দুর্বলতা দেখা দেয়
প্রস্রাব খুব কম হয়ে যায়
শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়
কারণভেদে অনেক ক্ষেত্রে ভালো হতে পারে, তবে সব জন্ডিস এক ধরনের নয়। তাই কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
না। ERCP মূলত Obstructive বা Surgical Jaundice-এর নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য করা হয়।
না। ভাইরাল বা অন্যান্য অনেক ধরনের জন্ডিসে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না।
না। হলুদ রঙের খাবার খাওয়ার সঙ্গে জন্ডিসের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
সবসময় নয়। লিভার, পিত্তনালী বা রক্তকণিকার সমস্যার কারণেও জন্ডিস হতে পারে।
জন্ডিসকে কখনোই একটি সাধারণ রোগ ভেবে অবহেলা করবেন না। কারণ জন্ডিসের পেছনে ভাইরাল সংক্রমণ থেকে শুরু করে পিত্তনালীর ব্লক, পাথর বা ক্যান্সারের মতো গুরুতর কারণও থাকতে পারে। তাই চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে পায়খানা, তীব্র পেটব্যথা বা জ্বর দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনে ERCP বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ কাওসার ভূঁইয়া, এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (সার্জারি), এমএস (হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি), জেনারেল, ল্যাপারোস্কোপিক ও হেপাটোবিলিয়ারি সার্জারি বিশেষজ্ঞ, সহকারী অধ্যাপক, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, লিভার, পিত্তথলি, পিত্তনালি, প্যানক্রিয়াস সার্জন।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 14 July 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced hepatobiliary surgeon near you for consultation and treatment.
32 Doctors
3 Doctors
2 Doctors
1 Doctors
2 Doctors
0 Doctors