/
Cervical Cancer-এর লক্ষণ, HPV, Pap Smear, VIA Test, HPV Vaccine ও আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

জরায়ুমুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer) বিশ্বের পাশাপাশি বাংলাদেশেও নারীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্যান্সার। তবে এটি এমন একটি ক্যান্সার, যা নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং HPV ভ্যাকসিনের মাধ্যমে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ুমুখের ক্যান্সারে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই শুধুমাত্র উপসর্গের অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট বয়স থেকে নিয়মিত Pap Smear বা VIA (Visual Inspection with Acetic Acid) পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ভিডিওতে গাইনি ও গাইনিকোলজিক অনকোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অদিতি পাল চৌধুরী জরায়ুমুখের ক্যান্সারের কারণ, HPV সংক্রমণ, Pap Smear, VIA Test, HPV Vaccine, আধুনিক চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
জরায়ুমুখ (Cervix) হলো জরায়ুর নিচের সরু অংশ, যা যোনিপথের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই অংশের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন থেকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে Human Papillomavirus (HPV)-এর উচ্চ ঝুঁকির (High-risk HPV) সংক্রমণ থাকলে জরায়ুমুখের কোষে ধীরে ধীরে পরিবর্তন শুরু হয়। চিকিৎসা না করলে বছরের পর বছর ধরে এই পরিবর্তন ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে।
বাংলাদেশে জরায়ুমুখের ক্যান্সার নারীদের মধ্যে অন্যতম বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যান্সার। তবে সচেতনতা, HPV টিকা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং বাড়লে এই রোগের প্রকোপ ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
HPV একটি অত্যন্ত সাধারণ ভাইরাস, যা ত্বক ও যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়াতে পারে। HPV-এর অনেক ধরন রয়েছে, তবে কিছু High-risk HPV দীর্ঘমেয়াদে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
বেশিরভাগ HPV সংক্রমণ শরীর নিজেই দূর করে দিতে পারে। কিন্তু যদি উচ্চ ঝুঁকির HPV দীর্ঘদিন শরীরে থেকে যায়, তাহলে জরায়ুমুখের কোষে Precancerous পরিবর্তন হতে পারে, যা চিকিৎসা না করলে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে:
দীর্ঘস্থায়ী HPV সংক্রমণ
ধূমপান
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা
নিয়মিত স্ক্রিনিং না করা
চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী অন্যান্য ঝুঁকির কারণ
উচ্চ ঝুঁকির HPV দীর্ঘদিন শরীরে থাকলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ে।
ধূমপান জরায়ুমুখের কোষের ক্ষতি এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে HPV সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
অনেক নারী কোনো উপসর্গ না থাকায় Pap Smear বা VIA Test করান না। এতে রোগটি দেরিতে ধরা পড়তে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রোগীর কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। লক্ষণ দেখা দিলে এর মধ্যে থাকতে পারে:
মাসিকের সময় ছাড়া অস্বাভাবিক রক্তপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
যৌনমিলনের পর রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক যোনি স্রাব হলে তা মূল্যায়ন করা জরুরি।
রোগ অগ্রসর হলে তলপেট বা কোমরে ব্যথা হতে পারে।
Pap Smear হলো জরায়ুমুখ থেকে কোষ সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করার একটি স্ক্রিনিং পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ক্যান্সার হওয়ার আগের অস্বাভাবিক কোষ শনাক্ত করা সম্ভব।
VIA (Visual Inspection with Acetic Acid) হলো একটি সহজ ও স্বল্পব্যয়ী স্ক্রিনিং পদ্ধতি, যেখানে বিশেষ দ্রবণ ব্যবহার করে জরায়ুমুখে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আছে কি না দেখা হয়।
স্ক্রিনিংয়ের বয়স, পরীক্ষার ধরন এবং কত বছর পরপর পরীক্ষা করতে হবে—এসব বিষয় জাতীয় গাইডলাইন, ব্যক্তিগত ঝুঁকি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
HPV ভ্যাকসিন যৌনজীবন শুরু হওয়ার আগেই দিলে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই টিকা থেকে উপকৃত হতে পারেন।
হ্যাঁ। HPV ভ্যাকসিন অত্যন্ত কার্যকর হলেও এটি সব ধরনের HPV থেকে সুরক্ষা দেয় না। তাই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে Pap Smear বা VIA Test করানো গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে HPV টিকাদান কর্মসূচি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। সরকারি কর্মসূচি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টিকার প্রাপ্যতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আপনার বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী টিকা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের Stage, রোগীর বয়স, ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার ওপর।
প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার সাফল্যের হার তুলনামূলক বেশি। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক Stage-এর অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে।
নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে Radiotherapy এককভাবে বা অন্যান্য চিকিৎসার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।
রোগের Stage অনুযায়ী Chemotherapy একা বা Radiotherapy-এর সঙ্গে দেওয়া হতে পারে।
HPV ভ্যাকসিন জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।
উপসর্গ না থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করুন।
যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা এবং নিরাপদ আচরণ HPV সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
ধূমপান ত্যাগ করলে জরায়ুমুখের ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে।
মাসিকের বাইরে, সহবাসের পরে বা মেনোপজের পর রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Pap Smear রিপোর্ট অস্বাভাবিক হলে পরবর্তী মূল্যায়ন ও চিকিৎসা জরুরি।
HPV পজিটিভ মানেই ক্যান্সার নয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফলো-আপ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
না। অধিকাংশ HPV সংক্রমণ শরীর নিজেই দূর করতে পারে। তবে দীর্ঘস্থায়ী High-risk HPV সংক্রমণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
সাধারণত এটি একটি সহজ, দ্রুত এবং সামান্য অস্বস্তিকর হলেও ব্যথাহীন বা খুব অল্প অস্বস্তির পরীক্ষা।
কিছু ক্ষেত্রে VIA একটি কার্যকর স্ক্রিনিং পদ্ধতি। কোন পরীক্ষা আপনার জন্য উপযুক্ত হবে, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
না। টিকা নেওয়ার পরও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জরায়ুমুখের ক্যান্সার এমন একটি রোগ, যা অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য। HPV Vaccine, নিয়মিত Pap Smear বা VIA Test এবং অস্বাভাবিক রক্তপাত বা স্রাবকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে এই রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে একজন গাইনিকোলজিস্ট বা গাইনিকোলজিক অনকোলজিস্ট-এর পরামর্শ নিন।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডা. অদিতি পাল চৌধুরী, এমবিবিএস, এমডি (অনকোলজি), ক্লিনিক্যাল ও রেডিয়েশন অনকোলজি বিশেষজ্ঞ, আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 5 August 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced gynecological oncologist near you for consultation and treatment.
15 Doctors
3 Doctors
0 Doctors
0 Doctors
6 Doctors
0 Doctors
Read More About This Topic