স্কেবিস (Scabies), রাতে বেশি চুলকানি, পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

রাতে ঘুমাতে গেলেই অসহ্য চুলকানি শুরু হয়, আঙুলের ফাঁকে ছোট ছোট দানা দেখা যায়, পরিবারের একাধিক সদস্যের একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়—এসব অনেক সময় খোস-পাঁচড়া বা স্কেবিস (Scabies)-এর লক্ষণ হতে পারে।
খোস-পাঁচড়া একটি অত্যন্ত সংক্রামক ত্বকের রোগ, যা একটি ক্ষুদ্র পরজীবী মাইটের কারণে হয়। সঠিক চিকিৎসা না করলে এটি দ্রুত পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং বারবার ফিরে আসতে পারে।
এই ভিডিওতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রফেসর এম এন হুদা খোস-পাঁচড়া কেন হয়, এর লক্ষণ, রাতে চুলকানি কেন বাড়ে, সঠিক চিকিৎসা এবং পুনরায় সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
স্কেবিস হলো Sarcoptes scabiei নামের অতি ক্ষুদ্র মাইট (Mite) দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক ত্বকের রোগ।
এই মাইট ত্বকের উপরের স্তরের নিচে ছোট ছোট সুড়ঙ্গ তৈরি করে বসবাস করে এবং ডিম পাড়ে। ফলে শরীরে তীব্র চুলকানি ও বিভিন্ন ধরনের ত্বকের ক্ষত তৈরি হয়।
স্কেবিস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।
আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমানো
দীর্ঘ সময় ত্বকের সংস্পর্শে থাকা
একই কাপড় বা তোয়ালে ব্যবহার করা
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকা
স্কুল, ছাত্রাবাস, হোস্টেল, মাদ্রাসা এবং ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এটি সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।
বিশেষ করে:
রাতে বেশি হয়
ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়
চুলকানোর কারণে ত্বকে ক্ষত তৈরি হতে পারে
ত্বকে লালচে বা ছোট উঁচু দানা দেখা যেতে পারে।
স্কেবিসের একটি অত্যন্ত সাধারণ লক্ষণ।
মাইটের চলাচলের কারণে কিছু ক্ষেত্রে সরু রেখার মতো দাগ দেখা যেতে পারে।
একই সময়ে পরিবারের কয়েকজনের একই ধরনের চুলকানি থাকলে স্কেবিসের সম্ভাবনা বেশি থাকে।
রাতে চুলকানি বেড়ে যাওয়া স্কেবিসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
এর সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
রাতের বেলায় শরীরের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া
মাইটের সক্রিয়তা বাড়া
শান্ত পরিবেশে চুলকানির অনুভূতি বেশি টের পাওয়া
অনেক রোগী জানান যে দিনের তুলনায় রাতে চুলকানি অসহনীয় হয়ে ওঠে।
সাধারণত দেখা যায়:
আঙুলের ফাঁকে
কবজিতে
কনুইয়ে
বগলে
কোমরে
নাভির চারপাশে
নিতম্বে
যৌনাঙ্গের আশপাশে
এছাড়াও আক্রান্ত হতে পারে:
মাথার ত্বক
মুখমণ্ডল
হাতের তালু
পায়ের পাতা
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন:
রাতে তীব্র চুলকানি হলে
পরিবারের একাধিক সদস্য আক্রান্ত হলে
আঙুলের ফাঁকে দানা দেখা দিলে
চিকিৎসার পরও সমস্যা না কমলে
শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপসর্গ ও ত্বক পরীক্ষা করেই রোগ নির্ণয় করা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে মাইট শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হতে পারে।
নির্বাচিত ক্ষেত্রে ত্বকের নমুনা পরীক্ষা করা হতে পারে।
চিকিৎসক নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন।
ওষুধ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একজন আক্রান্ত হলে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা পরিবারের সদস্যদেরও একসঙ্গে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
প্রয়োজনে চিকিৎসক চুলকানি কমানোর জন্য ওষুধ দিতে পারেন।
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে মাইট ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত হালকা চুলকানি থাকতে পারে।
তবে:
নতুন দানা উঠলে
সমস্যা বাড়তে থাকলে
পুনরায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গরম পানিতে ধুয়ে নিন
ভালোভাবে শুকিয়ে নিন
তোয়ালে
কাপড়
বিছানার চাদর
অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না।
ওষুধ মাঝপথে বন্ধ করলে পুনরায় সংক্রমণ হতে পারে।
ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা সদস্যদেরও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না
শুধুমাত্র চুলকানির ওষুধ খেয়ে মূল চিকিৎসা বাদ দেবেন না
ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম নিজে থেকে পরিবর্তন করবেন না
না। তবে এটি স্কেবিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
হ্যাঁ। এটি অত্যন্ত সংক্রামক।
শুধু অপরিষ্কার থাকার কারণে নয়। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছড়ায়।
ত্বকের অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়ার কারণে কিছুদিন থাকতে পারে।
হ্যাঁ। পুনরায় সংক্রমিত হলে আবার হতে পারে।
রাতে তীব্র চুলকানি, আঙুলের ফাঁকে দানা এবং পরিবারের একাধিক সদস্যের একই ধরনের সমস্যা থাকলে খোস-পাঁচড়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে রোগ ভালো হয়ে যায় এবং অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। মনে রাখবেন, অনেক ক্ষেত্রে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির নয়, পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদেরও একসঙ্গে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। রাতে তীব্র চুলকানি বা ত্বকের সমস্যার ক্ষেত্রে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ভিডিওতে দেখুন: খোস-পাঁচড়া কেন হয়, রাতে চুলকানি কেন বাড়ে, এর লক্ষণ, সঠিক চিকিৎসা, পরিবারের সদস্যদের করণীয় এবং পুনরায় সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত আলোচনা।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: চর্ম, কুষ্ঠ, সেক্স ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এম এন হুদা, ভূতপূর্ব অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 9 June 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced dermatologist near you for consultation and treatment.