সিজারের পর কোমর ব্যথার কারণ, স্পাইনাল অ্যানেস্থেশিয়া সম্পর্কে সত্য, ব্যথা কমানোর উপায় ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

সিজারিয়ান ডেলিভারির (Cesarean Section) পর অনেক মা কোমর ব্যথার অভিযোগ করেন। অনেকের ধারণা, স্পাইনাল ইনজেকশন দেওয়ার কারণেই এই ব্যথা হয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার জন্য স্পাইনাল অ্যানেস্থেশিয়া দায়ী নয়।
গর্ভাবস্থায় শরীরের পরিবর্তন, পেশির দুর্বলতা, শিশুকে বারবার কোলে নেওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং প্রসব-পরবর্তী জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যথা হওয়া অনেক বেশি সাধারণ।
এই ভিডিওতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ এস. আই. চৌধুরী (সৈকত) সিজারের পর কোমর ব্যথার প্রকৃত কারণ, স্পাইনাল ইনজেকশন নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, ব্যথা কমানোর উপায় এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
সিজারের পর কোমর ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
গর্ভাবস্থায় পেট ও কোমরের পেশি প্রসারিত হয়ে দুর্বল হয়ে যায়। প্রসবের পর এই পেশিগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে, যা কোমর ব্যথার কারণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন বৃদ্ধি, মেরুদণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে কোমরে চাপ পড়ে।
দীর্ঘ সময় ঝুঁকে শিশুকে কোলে নেওয়া, দুধ খাওয়ানো বা বারবার ওঠা-বসা কোমর ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
নবজাতকের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক মা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান না, ফলে পেশির পুনরুদ্ধার ধীর হয়ে যায়।
স্পাইনাল অ্যানেস্থেশিয়া হলো একটি নিরাপদ অ্যানেস্থেশিয়া পদ্ধতি, যেখানে কোমরের নিচের অংশ অবশ করে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
অনেকেই মনে করেন, সিজারের সময় দেওয়া স্পাইনাল ইনজেকশন সারাজীবনের কোমর ব্যথার কারণ।
বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার সঙ্গে স্পাইনাল অ্যানেস্থেশিয়ার সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
ইনজেকশনের স্থানে কয়েক দিন বা অল্প সময়ের জন্য হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি হতে পারে, যা সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়। দীর্ঘদিনের কোমর ব্যথা হলে অন্য কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
কিছু মায়ের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে হাড় ও পেশিতে ব্যথা বাড়তে পারে।
গর্ভাবস্থার পর অতিরিক্ত ওজন থেকে গেলে কোমরের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়।
একটানা বসে দুধ খাওয়ানো বা একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে ব্যথা বাড়তে পারে।
চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা স্ট্রেচিং ও কোর শক্তিশালী করার ব্যায়াম উপকারী হতে পারে।
শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হালকা গরম সেঁক অনেকের ক্ষেত্রে পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পিঠে ভালো সাপোর্ট নিয়ে বসুন।
প্রয়োজনে বালিশ ব্যবহার করুন।
সামনে বেশি ঝুঁকে না বসে শিশুকে নিজের কাছে আনুন।
সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং আয়রনসমৃদ্ধ খাবার প্রসব-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে সহায়ক।
সম্ভব হলে শিশুর ঘুমের সময় মায়েরও বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে ধীরে ধীরে Pelvic Floor ও Core Muscle শক্তিশালী করার ব্যায়াম শুরু করা যেতে পারে।
নিম্নোক্ত লক্ষণগুলোর কোনোটি থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কোমর থেকে পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, অবশভাব বা ঝিনঝিনি স্নায়ুর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশ্রাম বা সাধারণ চিকিৎসাতেও ব্যথা না কমলে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এটি একটি জরুরি অবস্থা হতে পারে এবং দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যদি:
জ্বরের সঙ্গে কোমর ব্যথা থাকে
দুর্ঘটনার পর ব্যথা শুরু হয়
পায়ে দুর্বলতা বাড়তে থাকে
ব্যথা কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়
হ্যাঁ। অনেক মায়ের ক্ষেত্রে প্রসব-পরবর্তী সময়ে সাময়িক কোমর ব্যথা হতে পারে।
না। বর্তমান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি কোমর ব্যথার জন্য স্পাইনাল অ্যানেস্থেশিয়াকে দায়ী করা যায় না।
এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে ব্যায়াম শুরু করা উচিত।
পিঠে ভালো সাপোর্ট নিয়ে আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসে এবং শিশুকে বালিশের সাহায্যে উঁচু করে দুধ খাওয়ানো ভালো।
যদি ব্যথা তীব্র হয়, পায়ে অবশভাব বা দুর্বলতা থাকে, অথবা প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সিজারের পর কোমর ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা, তবে এর জন্য সব সময় স্পাইনাল ইনজেকশনকে দায়ী করা ঠিক নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার শারীরিক পরিবর্তন, পেশির দুর্বলতা, ভুল ভঙ্গি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবই প্রধান কারণ। সঠিক ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সঠিক ভঙ্গিতে শিশুর যত্ন নিলে অধিকাংশ মা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে স্নায়বিক লক্ষণ বা তীব্র ব্যথা থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Content Source: Doctors24 Official YouTube Channel
Medical Expert Featured: ডাঃ এস. আই. চৌধুরী (সৈকত), এমবিবিএস (ডিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (অর্থোপেডিক্স), এফআইপিএম (ইন্ডিয়া), ফেলো স্পাইন (বি.ডি), ফেলো ইজিজারত (রাশিয়া), পি. কে. সি (অর্থোস্কপি), সিসিডি (ডায়াবেটিস), ডি. এম. ইউ.(আল্ট্রা) এফএসিএস (আমেরিকা), আবাসিক সার্জন ও কনসালটেন্ট, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) (পঙ্গু হাসপাতাল), ঢাকা।
Content Prepared & Published By: Doctors24 Editorial Team
Last Updated: 1 July 2026 • Read Editorial Policy →
Connect with experienced anesthesiologist near you for consultation and treatment.