লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT): কেন করা হয়, রিপোর্ট বুঝবেন কীভাবে ও কখন করবেন

Doctors24 Editorial TeamAugust 18, 2026
liver-function-test-infographic-guide
Key Overview

"লিভার ফাংশন টেস্ট বা Liver Function Test (LFT) হলো রক্তের কয়েকটি পরীক্ষার সমষ্টি, যার মাধ্যমে লিভারের কোষে ক্ষতি বা প্রদাহের সম্ভাবনা, পিত্তনালির সমস্যা এবং লি..."

লিভার ফাংশন টেস্ট বা Liver Function Test (LFT) হলো রক্তের কয়েকটি পরীক্ষার সমষ্টি, যার মাধ্যমে লিভারের কোষে ক্ষতি বা প্রদাহের সম্ভাবনা, পিত্তনালির সমস্যা এবং লিভারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

LFT-তে সাধারণত ALT, AST, ALP, GGT, Bilirubin ও Albumin-এর মতো পরীক্ষা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে Total Protein ও PT/INR-এর মতো পরীক্ষাও লিভারের কার্যক্ষমতা মূল্যায়নে করা হয়। তবে কোন কোন পরীক্ষা LFT-এর অংশ হবে তা ল্যাবরেটরি ও চিকিৎসকের অনুরোধ অনুযায়ী কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, LFT রিপোর্ট অস্বাভাবিক হলেই লিভারে গুরুতর রোগ হয়েছে—এমন নয়। আবার LFT স্বাভাবিক থাকলেও সব ধরনের লিভার রোগ সম্পূর্ণভাবে বাদ যায় না। তাই রিপোর্ট চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করা উচিত।

LFT কেন করা হয়?

LFT বিভিন্ন কারণে করা হতে পারে। যেমন—

  • লিভারের রোগের সন্দেহ হলে

  • জন্ডিসের কারণ খুঁজতে

  • ফ্যাটি লিভার মূল্যায়নে

  • ভাইরাল হেপাটাইটিসের সন্দেহ হলে

  • দীর্ঘদিন অ্যালকোহল গ্রহণের ইতিহাস থাকলে

  • কিছু ওষুধ লিভারে প্রভাব ফেলছে কি না দেখতে

  • লিভারের রোগের চিকিৎসা ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে

  • অস্বাভাবিক লিভার রিপোর্টের কারণ খুঁজতে

অনেক লিভার রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই অন্য কোনো কারণে করা রক্ত পরীক্ষায় LFT অস্বাভাবিক ধরা পড়ার পরও পরবর্তী মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

LFT-তে কোন কোন পরীক্ষা থাকে?

LFT একটি একক পরীক্ষা নয়। সাধারণত কয়েকটি রক্ত পরীক্ষার সমন্বয়ে এটি করা হয়।

ALT (Alanine Aminotransferase)

ALT মূলত লিভারের কোষে থাকা একটি এনজাইম। লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তে ALT বেড়ে যেতে পারে।

ALT বাড়তে পারে—

  • ভাইরাল হেপাটাইটিসে

  • ফ্যাটি লিভারে

  • অ্যালকোহল-সম্পর্কিত লিভার রোগে

  • Autoimmune hepatitis-এ

  • কিছু ওষুধের কারণে লিভারের ক্ষতি হলে

তবে ALT শুধু লিভারের রোগেই বাড়ে না। তাই একা ALT দেখে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নিশ্চিত করা যায় না।

AST (Aspartate Aminotransferase)

AST-ও লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাড়তে পারে। তবে AST শুধু লিভারে নয়, শরীরের অন্যান্য টিস্যু, বিশেষ করে পেশিতেও থাকে। তাই AST বাড়লে সব সময় লিভারের রোগ বোঝায় না।

ALP (Alkaline Phosphatase)

ALP লিভারের পিত্তনালিসহ শরীরের অন্যান্য টিস্যুতেও পাওয়া যায়।

ALP বেড়ে গেলে বিশেষ করে GGT-ও বাড়লে পিত্তনালির বাধা বা Cholestasis-এর মতো সমস্যা বিবেচনা করা হয়।

তবে ALP হাড়ের রোগসহ লিভারের বাইরের কারণেও বাড়তে পারে।

GGT (Gamma-Glutamyl Transferase)

GGT লিভার ও পিত্তনালির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি এনজাইম।

ALP-এর সঙ্গে GGT বাড়লে পিত্তনালির সমস্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। অ্যালকোহল গ্রহণ এবং কিছু লিভারের রোগেও GGT বেড়ে যেতে পারে।

Bilirubin

Bilirubin হলো হলুদ রঙের একটি পদার্থ, যা লোহিত রক্তকণিকা ভাঙার পর তৈরি হয় এবং লিভার ও পিত্তের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

Bilirubin বেড়ে গেলে—

  • চোখ হলুদ হওয়া

  • ত্বক হলুদ হওয়া

  • প্রস্রাব গাঢ় হওয়া

ইত্যাদি জন্ডিসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

তবে Bilirubin বাড়ার কারণ শুধু লিভারের রোগ নয়; রক্তকণিকা দ্রুত ভেঙে যাওয়া বা পিত্তনালির সমস্যার মতো কারণও থাকতে পারে।

Albumin

Albumin একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন, যা মূলত লিভারে তৈরি হয়।

লিভারের দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর কার্যক্ষমতার সমস্যা থাকলে Albumin কমে যেতে পারে। তবে Albumin কম হওয়া শুধু লিভারের রোগের কারণে হয় না; অপুষ্টি, কিডনির রোগ, প্রদাহ বা অন্যান্য সমস্যাতেও Albumin কমতে পারে।

PT/INR

লিভার রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিন তৈরি করে। তাই PT/INR লিভারের গুরুত্বপূর্ণ Synthetic Function মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষ করে গুরুতর লিভার রোগের ক্ষেত্রে PT/INR-এর পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।

LFT রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন?

LFT রিপোর্ট বোঝার সময় শুধু কোনো একটি সংখ্যা বেশি বা কম হয়েছে কি না তা দেখলে হবে না। কোন পরীক্ষাগুলো একসঙ্গে অস্বাভাবিক হয়েছে এবং কতটা পরিবর্তন হয়েছে—সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ALT ও AST বেশি হলে

ALT বা AST বেড়ে গেলে লিভারের কোষে ক্ষতি বা প্রদাহের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়।

সম্ভাব্য কারণের মধ্যে থাকতে পারে—

  • ভাইরাল হেপাটাইটিস

  • ফ্যাটি লিভার

  • অ্যালকোহল-সম্পর্কিত লিভার রোগ

  • Autoimmune hepatitis

  • ওষুধজনিত লিভারের ক্ষতি

তবে AST পেশির ক্ষতির কারণেও বাড়তে পারে।

ALP ও GGT বেশি হলে

ALP-এর সঙ্গে GGT বেশি থাকলে Cholestatic বা Biliary problem অর্থাৎ পিত্ত প্রবাহে বাধা বা পিত্তনালির সমস্যার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়।

প্রয়োজনে চিকিৎসক Abdominal Ultrasound বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষা করতে পারেন।

Bilirubin বেশি হলে

Bilirubin বেড়ে গেলে জন্ডিসের কারণ খুঁজে দেখা দরকার।

বিশেষ করে Bilirubin-এর সঙ্গে অন্যান্য LFT অস্বাভাবিক থাকলে লিভার বা পিত্তনালির রোগের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হয়। তবে একা Bilirubin বাড়লেও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

Albumin কম হলে

Albumin কমে গেলে দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে, বিশেষ করে অন্যান্য LFT-ও অস্বাভাবিক হলে।

তবে Albumin কমার আরও অনেক কারণ রয়েছে। তাই শুধু Albumin কম দেখে লিভার রোগ নিশ্চিত করা যায় না।

LFT রিপোর্টে কত হলে খারাপ?

LFT-এর জন্য একটি নির্দিষ্ট “স্বাভাবিক” সংখ্যা সবার ক্ষেত্রে একই নয়। কারণ বিভিন্ন ল্যাবরেটরির Reference Range কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

তাই রিপোর্টে দেওয়া Reference Range-এর সঙ্গে ফলাফল তুলনা করতে হবে।

সামান্য অস্বাভাবিক রিপোর্ট অনেক সময় সাময়িক হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অস্বাভাবিকতা থাকলে দ্রুত আরও পরীক্ষা দরকার হতে পারে।

সাধারণভাবে Upper Limit of Normal-এর ২–৩ গুণের বেশি অস্বাভাবিকতা থাকলে আরও মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। তবে রোগীর উপসর্গ ও অন্যান্য রিপোর্ট অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ALT বা AST 1,000 IU/L-এর বেশি হলে তীব্র লিভার ক্ষতি, কিছু ওষুধের বিষক্রিয়া, Acute Viral Hepatitis বা অন্যান্য গুরুতর কারণ বিবেচনা করা হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

LFT বেশি হলে কি লিভার নষ্ট হয়ে গেছে?

না।

LFT-এর কোনো একটি মান বেড়ে যাওয়া মানেই লিভার “নষ্ট” হয়ে গেছে—এমন নয়।

উদাহরণস্বরূপ, ALT বা AST অনেক বেশি হলেও কারণটি সাময়িক বা চিকিৎসাযোগ্য হতে পারে। আবার LFT স্বাভাবিক থাকলেও কিছু দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ থাকতে পারে। তাই LFT-এর মাত্রা একাই লিভারের ক্ষতির চূড়ান্ত মাত্রা নির্ধারণ করে না।

LFT করার আগে কি খালি পেটে থাকতে হয়?

শুধু LFT করার জন্য সব ক্ষেত্রে খালি পেটে থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে একই সঙ্গে যদি Fasting Blood Sugar, Lipid Profile বা অন্য কোনো fasting test করা হয়, তাহলে চিকিৎসক বা ল্যাবরেটরির নির্দেশ অনুযায়ী খালি পেটে থাকতে হতে পারে।

তাই পরীক্ষা করার আগে ল্যাবরেটরিকে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভালো।

কখন LFT করবেন?

নিচের পরিস্থিতিতে চিকিৎসক LFT দিতে পারেন—

লিভারের রোগের উপসর্গ থাকলে

যেমন—

  • চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া

  • প্রস্রাব গাঢ় হওয়া

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি

  • ক্ষুধামন্দা

  • বমি বমি ভাব

  • পেটের ডান ওপরের দিকে অস্বস্তি বা ব্যথা

  • শরীরে চুলকানি

  • পেট ফুলে যাওয়া

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি থাকলে

স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা Metabolic Syndrome থাকলে চিকিৎসক লিভার মূল্যায়নের জন্য LFTসহ অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন।

হেপাটাইটিসের সন্দেহ হলে

Hepatitis B বা Hepatitis C-এর মতো ভাইরাল সংক্রমণের সন্দেহ হলে LFT-এর পাশাপাশি নির্দিষ্ট Viral Hepatitis Tests প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু ওষুধ গ্রহণ করলে

যেসব ওষুধ লিভারে প্রভাব ফেলতে পারে, সেগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চিকিৎসক নির্দিষ্ট সময় পর LFT করার পরামর্শ দিতে পারেন।

আগে থেকেই লিভারের রোগ থাকলে

লিভারের রোগের ধরন ও চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে LFT নিয়মিত করা হতে পারে। কতদিন পরপর করতে হবে তা রোগভেদে পরিবর্তিত হয়।

LFT অস্বাভাবিক হলে আর কী পরীক্ষা লাগতে পারে?

LFT অস্বাভাবিক হলে কারণ খুঁজে বের করতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী—

  • Hepatitis B ও C পরীক্ষা

  • Abdominal Ultrasound

  • FibroScan

  • CBC ও Platelet Count

  • Blood Sugar ও HbA1c

  • Lipid Profile

  • Autoimmune Liver Disease-এর পরীক্ষা

  • Iron বা অন্যান্য metabolic test

করতে পারেন।

সব রোগীর সব পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।

LFT রিপোর্ট অস্বাভাবিক হলে কী করবেন?

LFT রিপোর্টে কোনো মান অস্বাভাবিক হলে—

  • নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করবেন না।

  • অ্যালকোহল গ্রহণ করলে তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

  • আপনি যে সব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন তার তালিকা চিকিৎসককে জানান।

  • আগের LFT রিপোর্ট থাকলে সঙ্গে নিন।

  • প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী LFT পুনরায় করুন।

  • কারণ না জেনে “লিভার পরিষ্কার” করার ওষুধ বা হারবাল সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করবেন না।

অনেক ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টও LFT অস্বাভাবিক করতে পারে। তাই চিকিৎসকের কাছে সম্পূর্ণ Medication History দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কখন LFT রিপোর্ট নিয়ে দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?

নিচের লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত—

  • চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

  • পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া

  • বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব

  • অস্বাভাবিক রক্তপাত

  • খুব বেশি দুর্বলতা

  • তীব্র পেটব্যথা

  • LFT-তে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অস্বাভাবিকতা

  • LFT অস্বাভাবিকতার সঙ্গে অকারণে ওজন কমে যাওয়া

জন্ডিসের সঙ্গে পেট ফুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা রক্তপাতের মতো লক্ষণ থাকলে গুরুতর লিভার সমস্যার সম্ভাবনা বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

LFT করার জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন?

LFT করার আগে সবসময় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে LFT অস্বাভাবিক হলে বা লিভারের রোগের সন্দেহ থাকলে—

  • মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (Internal Medicine Specialist)

  • গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট (Gastroenterologist)

  • হেপাটোলজিস্ট (Hepatologist)

এর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

জটিল বা দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগের ক্ষেত্রে Gastroenterologist বা Hepatologist-এর পরামর্শ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

LFT কী?

LFT বা Liver Function Test হলো লিভারের ক্ষতি, প্রদাহ, পিত্তনালির সমস্যা এবং লিভারের কিছু কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য করা একাধিক রক্ত পরীক্ষার সমষ্টি।

LFT-তে কোন কোন পরীক্ষা থাকে?

সাধারণত ALT, AST, ALP, GGT, Bilirubin ও Albumin-এর মতো পরীক্ষা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে Total Protein ও PT/INR-ও করা হয়। কোন পরীক্ষা থাকবে তা ল্যাবরেটরি ও চিকিৎসকের অনুরোধ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

LFT বেশি হলে কি লিভার নষ্ট হয়ে গেছে?

না। LFT বেশি হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে এবং মাত্রা একাই লিভারের ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করে না। আবার LFT স্বাভাবিক থাকলেও কিছু লিভার রোগ থাকতে পারে।

ALT বেশি হলে কী বোঝায়?

ALT বেশি হলে লিভারের কোষে ক্ষতি বা প্রদাহের সম্ভাবনা থাকে। ফ্যাটি লিভার, ভাইরাল হেপাটাইটিস, অ্যালকোহল-সম্পর্কিত রোগ ও কিছু ওষুধের কারণে ALT বাড়তে পারে।

AST ও ALT-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

দুটিই লিভারের কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এনজাইম। তবে AST শরীরের অন্যান্য টিস্যু, বিশেষ করে পেশিতেও থাকে। তাই AST বাড়ার কারণ সবসময় লিভারের রোগ নয়।

Bilirubin বেশি হলে কী হয়?

Bilirubin বেশি হলে চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়ার মতো জন্ডিস হতে পারে। লিভারের রোগ, পিত্তনালির বাধা বা অন্যান্য কারণেও Bilirubin বাড়তে পারে।

LFT করার আগে কি খালি পেটে থাকতে হবে?

শুধু LFT-এর জন্য সব ক্ষেত্রে খালি পেটে থাকা প্রয়োজন হয় না। তবে একই সঙ্গে অন্যান্য fasting test করা হলে ল্যাবরেটরির নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে।

বছরে একবার LFT করা কি দরকার?

সবার জন্য বছরে একবার LFT করা বাধ্যতামূলক নয়। ঝুঁকি, উপসর্গ, ওষুধ এবং আগে থেকে থাকা লিভারের রোগ অনুযায়ী চিকিৎসক পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করেন।

LFT অস্বাভাবিক হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?

প্রথমে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখাতে পারেন। প্রয়োজন হলে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা হেপাটোলজিস্ট লিভারের বিস্তারিত মূল্যায়ন করতে পারেন।

সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

LFT রিপোর্টে কোনো একটি মান বেশি বা কম দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। একইভাবে রিপোর্ট সামান্য অস্বাভাবিক বলে সেটিকে উপেক্ষাও করা উচিত নয়। ALT, AST, ALP, GGT, Bilirubin ও Albumin-এর পরিবর্তনের ধরন, রোগীর উপসর্গ এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল একসঙ্গে বিবেচনা করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আপনার এলাকার অভিজ্ঞ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা হেপাটোলজিস্ট খুঁজে পেতে Doctors24-এর ডাক্তার ডিরেক্টরি ব্যবহার করতে পারেন।

মেডিক্যাল ডিসক্লেইমার

এই নিবন্ধটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। LFT রিপোর্ট অস্বাভাবিক হলে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ বা শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা তীব্র অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

Content prepared by: Doctors24 Editorial Team

Medical information is verified using registered doctor data and trusted healthcare sources

Information sources: Public records, hospital data, and provided credentials

Published At: August 18, 2026

Last updated: August 18, 2026 Read Editorial Policy →

Related Medicine Specialist Articles

View all →

Related Medicine Specialist Videos

View all →