কিডনিতে পাথর: লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা, অপারেশন ও কখন ইউরোলজিস্ট দেখাবেন

Doctors24 Editorial TeamAugust 16, 2026
kidney-stone-symptoms-and-prevention-guide
Key Overview

"কিডনিতে পাথর (Kidney Stones) হলো কিডনির ভেতরে প্রস্রাবে থাকা কিছু খনিজ ও লবণ জমে তৈরি হওয়া শক্ত পদার্থ। ছোট পাথর অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই প্রস্রাবের সঙ্গে..."

কিডনিতে পাথর (Kidney Stones) হলো কিডনির ভেতরে প্রস্রাবে থাকা কিছু খনিজ ও লবণ জমে তৈরি হওয়া শক্ত পদার্থ। ছোট পাথর অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। তবে পাথর বড় হলে বা ইউরেটারে আটকে প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা দিলে কোমর, পিঠ, তলপেট বা কুঁচকিতে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত এবং প্রস্রাবের অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

Quick Answer / Overview

  • কিডনিতে পাথর কী? প্রস্রাবে থাকা কিছু খনিজ ও লবণ অতিরিক্ত ঘন হয়ে স্ফটিক তৈরি করলে ধীরে ধীরে শক্ত পাথরে পরিণত হতে পারে।

  • প্রধান লক্ষণ: কোমর বা পিঠের একপাশে তীব্র ব্যথা, তলপেট বা কুঁচকিতে ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবের সময় ব্যথা, বারবার প্রস্রাবের বেগ, বমি বমি ভাব বা বমি।

  • কেন হয়? পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, প্রস্রাবে কিছু খনিজের মাত্রা বেশি থাকা, কিছু খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক প্রবণতা এবং কিছু রোগের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

  • চিকিৎসা কী? ছোট পাথর নিজে থেকে বের হয়ে যেতে পারে। বড় পাথর, আটকে থাকা পাথর বা তীব্র উপসর্গের ক্ষেত্রে ওষুধ, পাথর ভাঙার procedure বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

  • কখন ইউরোলজিস্ট দেখাবেন? তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাব বন্ধ বা খুব কম হয়ে যাওয়া, জ্বর-কাঁপুনি, বারবার পাথর হওয়া বা পরীক্ষায় পাথর ধরা পড়লে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বরের সঙ্গে প্রস্রাবের বাধা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি।

কিডনিতে পাথর কী?

কিডনিতে পাথর হলো প্রস্রাবে থাকা খনিজ ও অন্যান্য পদার্থ জমে তৈরি হওয়া শক্ত, পাথরের মতো পদার্থ। এটি একটি বা উভয় কিডনিতেই তৈরি হতে পারে।

পাথরের আকার বালির দানার মতো ছোট হতে পারে, আবার অনেক বড়ও হতে পারে। ছোট পাথর অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। কিন্তু বড় পাথর ইউরেটারে আটকে গেলে প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং তীব্র ব্যথা বা অন্যান্য জটিলতা তৈরি করতে পারে।

কিডনিতে পাথরের প্রধান ধরন

কিডনিতে পাথর বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধান ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • Calcium stones — সবচেয়ে সাধারণ ধরনের পাথর; এর মধ্যে calcium oxalate ও calcium phosphate stone রয়েছে।

  • Uric acid stones

  • Struvite stones — কিছু urinary infection-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

  • Cystine stones — একটি বংশগত সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাথরের ধরন জানা থাকলে ভবিষ্যতে আবার পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসার পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

কিডনিতে পাথরের লক্ষণ

কিডনিতে ছোট পাথর থাকলে কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। পাথর নড়াচড়া করলে বা ইউরেটারে আটকে গেলে সাধারণত উপসর্গ শুরু হয়।

সাধারণ লক্ষণ

  • কোমর বা পিঠের একপাশে তীব্র ব্যথা

  • তলপেটে ব্যথা

  • কুঁচকি পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়া

  • ব্যথা ঢেউয়ের মতো আসা-যাওয়া করা

  • প্রস্রাবে গোলাপি, লাল বা বাদামি রং দেখা

  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া

  • বারবার প্রস্রাবের বেগ

  • প্রস্রাবের পরিমাণ খুব কমে যাওয়া

  • প্রস্রাব করতে অসুবিধা

  • বমি বমি ভাব

  • বমি

  • প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া।

কিডনির পাথরের ব্যথা কোথায় হয়?

কিডনির পাথরের ব্যথা সাধারণত পিঠ বা কোমরের একপাশে শুরু হতে পারে। পাথর ইউরেটারের দিকে নামলে ব্যথা তলপেট ও কুঁচকির দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে। ব্যথা কখনও তীব্রভাবে আসে-যায় বা ঢেউয়ের মতো অনুভূত হতে পারে।

কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ

প্রস্রাবে কিছু খনিজ ও রাসায়নিক পদার্থের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সেগুলো স্ফটিক তৈরি করতে পারে। সময়ের সঙ্গে এসব স্ফটিক একত্র হয়ে পাথরে পরিণত হতে পারে।

কিডনিতে পাথর তৈরির সঙ্গে যেসব বিষয় সম্পর্কিত হতে পারে:

  • পর্যাপ্ত পানি না পান করা

  • প্রস্রাবে calcium, oxalate বা phosphorus-এর মাত্রা বেশি থাকা

  • প্রস্রাবের রাসায়নিক ভারসাম্যে পরিবর্তন

  • বেশি লবণ গ্রহণ

  • কিছু ক্ষেত্রে বেশি animal protein গ্রহণ

  • কিছু বংশগত সমস্যা

  • বারবার urinary tract infection

  • obesity

  • gout বা কিছু metabolic condition

  • কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা।

কিডনিতে পাথরের Risk Factors বা ঝুঁকির কারণ

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া

পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ না করলে প্রস্রাব বেশি ঘন হয়ে যায় এবং পাথর তৈরির উপাদানগুলো একত্রিত হওয়ার সুযোগ বাড়ে। পর্যাপ্ত পানি পান করা কিডনিতে পাথর প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

আগে কিডনিতে পাথর হওয়া

একবার পাথর হলে ভবিষ্যতে আবার পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই পাথরের ধরন ও সম্ভাব্য কারণ জানা গুরুত্বপূর্ণ।

পারিবারিক ইতিহাস

পরিবারের অন্য সদস্যের কিডনিতে পাথর থাকলে আপনার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

খাদ্যাভ্যাস

অতিরিক্ত sodium বা লবণ গ্রহণ এবং কিছু ধরনের খাদ্যাভ্যাস নির্দিষ্ট ধরনের পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাথরের ধরন অনুযায়ী sodium, animal protein, calcium বা oxalate-এর পরিমাণ পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

কিছু রোগ ও শারীরিক অবস্থা

কিছু bowel disease, gout, hyperparathyroidism, cystinuria, recurrent UTI এবং অন্যান্য metabolic বা urinary condition কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গরম পরিবেশে বেশি ঘাম হওয়া

গরম আবহাওয়া বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীর থেকে বেশি পানি বেরিয়ে গেলে পর্যাপ্ত তরল না নিলে প্রস্রাব ঘন হতে পারে। ফলে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কিডনিতে পাথর কখন গুরুতর?

ছোট পাথর অনেক সময় নিজে থেকেই বের হয়ে যায়। তবে পাথর ইউরেটারে আটকে প্রস্রাবের প্রবাহ বন্ধ করলে বা urinary infection-এর সঙ্গে blockage থাকলে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসা না করলে কিছু ক্ষেত্রে kidney infection বা kidney function-এর ক্ষতি হতে পারে।

জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে যদি

  • তীব্র বা অসহ্য কোমর/পিঠের ব্যথা হয়

  • ব্যথার সঙ্গে জ্বর বা কাঁপুনি থাকে

  • প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যায়

  • প্রস্রাবের পরিমাণ খুব কমে যায়

  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা যায়

  • বারবার বমি হয়ে পানি ধরে রাখা সম্ভব না হয়

  • প্রস্রাব ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার সঙ্গে জ্বর বা ব্যথা থাকে

  • শরীর খুব দুর্বল বা অসুস্থ লাগতে থাকে।

বিশেষ সতর্কতা: জ্বর বা কাঁপুনির সঙ্গে কিডনির পাথরের কারণে urinary blockage থাকলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে। এমন অবস্থায় শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে বাড়িতে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

কিডনিতে পাথর নির্ণয়: কোন কোন পরীক্ষা করা হয়?

কিডনিতে পাথর নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক আপনার উপসর্গ, পূর্বের রোগের ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি urine, blood ও imaging test ব্যবহার করতে পারেন।

Urine Test

Urinalysis-এর মাধ্যমে প্রস্রাবে:

  • রক্ত

  • infection-এর লক্ষণ

  • কিছু mineral বা crystal

আছে কি না দেখা যেতে পারে। প্রস্রাবে white blood cells বা bacteria থাকলে urinary infection-এর সম্ভাবনাও বোঝা যেতে পারে।

Blood Test

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে calcium, uric acid বা অন্যান্য উপাদানের অস্বাভাবিক মাত্রা এবং kidney function সম্পর্কিত তথ্য মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

Ultrasound

Ultrasound-এর মাধ্যমে কিডনি ও urinary tract-এর কিছু সমস্যা এবং প্রস্রাবের পথে বাধা বা kidney swelling-এর মতো পরিবর্তন শনাক্ত করা যেতে পারে। কোন imaging test সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা রোগীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

CT Scan

বিশেষ করে acute flank pain বা kidney stone-এর সন্দেহে CT scan পাথরের অবস্থান, আকার এবং urinary tract-এ blockage আছে কি না নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। Non-contrast CT urinary stone শনাক্ত করতে বহুল ব্যবহৃত imaging method।

Stone Analysis

পাথর প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে এলে বা procedure-এর মাধ্যমে বের করা হলে সেটি laboratory-তে পরীক্ষা করে পাথরের ধরন নির্ণয় করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে পাথর প্রতিরোধের পরিকল্পনায় এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

24-Hour Urine Test

বারবার কিডনিতে পাথর হলে চিকিৎসক ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব সংগ্রহ করে urine volume এবং বিভিন্ন mineral-এর মাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন। এতে পাথর তৈরির কারণ সম্পর্কে আরও ধারণা পাওয়া যায়।

কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা

কিডনিতে পাথরের চিকিৎসা নির্ভর করে মূলত:

  • পাথরের আকার

  • পাথরের অবস্থান

  • urinary tract-এ blockage আছে কি না

  • উপসর্গের তীব্রতা

  • পাথরের ধরন

  • infection আছে কি না

  • রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য

এসব বিষয়ের ওপর।

ছোট পাথরের চিকিৎসা

ছোট পাথর অনেক সময় নিজে থেকেই urinary tract দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং follow-up-এর পরামর্শ দিতে পারেন।

তবে সব রোগীর জন্য জোর করে অতিরিক্ত পানি পান করা নিরাপদ নয়—বিশেষ করে urinary blockage, vomiting বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যা থাকলে কতটা তরল গ্রহণ করবেন তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

ব্যথা নিয়ন্ত্রণ

কিডনির পাথরের কারণে তীব্র ব্যথা হতে পারে। কোন pain medicine আপনার জন্য নিরাপদ তা আপনার kidney function, অন্যান্য রোগ ও ব্যবহৃত ওষুধের ওপর নির্ভর করে। তাই নিজের ইচ্ছায় দীর্ঘদিন painkiller ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

পাথর বের হতে সহায়ক ওষুধ

কিছু নির্দিষ্ট ureteral stone-এর ক্ষেত্রে চিকিৎসক এমন ওষুধ দিতে পারেন যা ureter-এর smooth muscle শিথিল করে পাথর বের হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। কোন রোগীর ক্ষেত্রে এটি উপযুক্ত হবে তা পাথরের আকার ও অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

কখন কিডনির পাথরের অপারেশন বা Procedure প্রয়োজন?

সব কিডনির পাথরের জন্য অপারেশন লাগে না। তবে পাথর বড় হলে, নিজে থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা কম হলে, urinary tract block করলে, তীব্র বা স্থায়ী ব্যথা হলে, kidney function-এর ওপর প্রভাব পড়লে বা অন্যান্য চিকিৎসায় উপকার না হলে পাথর ভাঙা বা অপসারণের procedure প্রয়োজন হতে পারে।

১. Shock Wave Lithotripsy (SWL/ESWL)

এই পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে থেকে shock wave ব্যবহার করে পাথরকে ছোট ছোট টুকরায় ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর ছোট টুকরাগুলো প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে।

২. Ureteroscopy ও Laser Lithotripsy

একটি সরু scope urinary tract দিয়ে প্রবেশ করিয়ে পাথর শনাক্ত করা হয়। এরপর বিশেষ যন্ত্র বা laser ব্যবহার করে পাথর ভেঙে ছোট করা বা বের করে দেওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে একই দিনে বাড়ি যাওয়া সম্ভব হলেও রোগীর পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা ভিন্ন হতে পারে।

৩. Percutaneous Nephrolithotomy (PCNL)

বড় বা জটিল kidney stone-এর ক্ষেত্রে PCNL ব্যবহার করা হতে পারে। পিঠে ছোট একটি opening তৈরি করে বিশেষ যন্ত্র কিডনির ভেতরে প্রবেশ করিয়ে পাথর অপসারণ বা ভেঙে বের করা হয়।

Ureteral Stent কী?

কিছু stone procedure-এর পরে urinary tract দিয়ে প্রস্রাবের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসক সাময়িকভাবে ureteral stent বসাতে পারেন। এটি কতদিন রাখা হবে তা রোগীর অবস্থা ও procedure-এর ওপর নির্ভর করে।

কিডনিতে পাথর হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?

কিডনিতে পাথরের চিকিৎসার জন্য প্রধান specialist হলেন Urologist (ইউরোলজিস্ট)

বিশেষ করে নিচের ক্ষেত্রে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ:

  • পরীক্ষায় কিডনিতে পাথর ধরা পড়লে

  • পাথরের আকার বড় হলে

  • পাথর ইউরেটারে আটকে থাকলে

  • তীব্র বা বারবার ব্যথা হলে

  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে

  • প্রস্রাবের প্রবাহে বাধা থাকলে

  • বারবার কিডনিতে পাথর হলে

  • পাথর অপসারণের procedure প্রয়োজন হলে।

কিছু ক্ষেত্রে Nephrologist-এর পরামর্শও প্রয়োজন হতে পারে—বিশেষ করে kidney function-এর সমস্যা বা বারবার পাথর হওয়ার metabolic কারণ মূল্যায়নের প্রয়োজন হলে। তবে পাথর অপসারণ ও urinary tract-এর surgical/procedural treatment-এর ক্ষেত্রে Urologist প্রধান specialist।

কখন কিডনিতে পাথরের জন্য ইউরোলজিস্ট দেখাবেন?

নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • কিডনিতে পাথর ধরা পড়েছে

  • বারবার কোমর বা পাশের ব্যথা হচ্ছে

  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাচ্ছে

  • প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হচ্ছে

  • পাথর নিজে থেকে বের হচ্ছে না

  • পাথরের কারণে urinary blockage রয়েছে

  • একই সমস্যা বারবার হচ্ছে

  • পাথরের আকার বা অবস্থান নিয়ে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত দরকার

  • ESWL, ureteroscopy বা PCNL-এর মতো procedure বিবেচনা করা হচ্ছে।

কখন জরুরি বিভাগে যাবেন?

কিডনির পাথরের সঙ্গে জ্বর/কাঁপুনি এবং প্রস্রাবের বাধা, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, অসহ্য ব্যথা বা বারবার বমি থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। Urinary obstruction-এর সঙ্গে infection থাকলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?

একবার পাথর হওয়ার পর ভবিষ্যতে আবার পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই পাথরের ধরন ও সম্ভাব্য কারণ অনুযায়ী prevention plan তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ প্রস্রাবকে dilute রাখতে সাহায্য করে এবং অধিকাংশ ধরনের kidney stone প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কতটা পানি প্রয়োজন তা আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম, kidney function ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে।

লবণ কমান

অতিরিক্ত sodium গ্রহণ kidney stone-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে packaged food, processed food এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কমানো উপকারী হতে পারে।

পাথরের ধরন অনুযায়ী খাবার পরিবর্তন করুন

সব kidney stone-এর জন্য একই diet প্রযোজ্য নয়। পাথরের ধরন অনুযায়ী sodium, animal protein, oxalate বা অন্যান্য খাদ্য উপাদানের পরিমাণ পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।

নিজে থেকে সব calcium-rich food বন্ধ করবেন না। Calcium stone হলেও খাদ্য থেকে calcium সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া সবসময় সঠিক নয়; ব্যক্তিভেদে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী diet পরিবর্তন করা উচিত।

বাংলাদেশে কিডনিতে পাথরের ইউরোলজিস্ট খুঁজুন

কিডনিতে পাথর, ureteral stone, urinary blockage বা stone removal-এর প্রয়োজন হলে একজন Urologist-এর পরামর্শ নিতে পারেন।

Find Urologist in Bangladesh

Related Health Topics

কিডনি ও urinary system সম্পর্কিত আরও স্বাস্থ্য বিষয়:

  • মূত্রনালির সংক্রমণ (UTI): লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও কখন ডাক্তার দেখাবেন

  • প্রস্টেট বড় হওয়া (BPH): লক্ষণ, চিকিৎসা ও কখন ইউরোলজিস্ট দেখাবেন

  • প্রস্রাবে রক্ত (Hematuria): কারণ, পরীক্ষা ও কখন চিকিৎসা জরুরি

  • কিডনি ইনফেকশন: লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও কখন জরুরি চিকিৎসা দরকার

  • কিডনি রোগ: প্রাথমিক লক্ষণ, পরীক্ষা ও কখন নেফ্রোলজিস্ট দেখাবেন

Frequently Asked Questions About Kidney Stones

কিডনিতে পাথর হলে কি সবসময় অপারেশন করতে হয়?

না। ছোট পাথর অনেক সময় নিজে থেকেই প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে পারে। পাথরের আকার, অবস্থান, উপসর্গ এবং urinary blockage আছে কি না—এসব বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন। বড় বা আটকে থাকা পাথরের ক্ষেত্রে procedure বা surgery প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনির পাথর হলে কতটা পানি পান করতে হবে?

পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবার জন্য একই পরিমাণ পানি প্রযোজ্য নয়। আপনার kidney function, পাথরের ধরন, আবহাওয়া ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর তরলের প্রয়োজন নির্ভর করে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি পান করাও উপযুক্ত নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করুন।

কিডনিতে পাথরের ব্যথা কোথায় হয়?

সাধারণত কোমর বা পিঠের একপাশে ব্যথা শুরু হয় এবং পাথর ইউরেটারের দিকে নামলে তলপেট বা কুঁচকিতে ছড়িয়ে যেতে পারে। ব্যথা তীব্র হতে পারে এবং ঢেউয়ের মতো আসা-যাওয়া করতে পারে।

কিডনিতে পাথর হলে কি প্রস্রাবে রক্ত পড়ে?

হ্যাঁ। কিডনির পাথর urinary tract-এর ভেতরের টিস্যুতে আঘাত করলে প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে। তবে প্রস্রাবে রক্তের আরও অনেক কারণ রয়েছে। তাই hematuria হলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কিডনির পাথর কি নিজে নিজে বের হয়ে যায়?

ছোট কিছু পাথর চিকিৎসা ছাড়াই urinary tract দিয়ে বের হয়ে যেতে পারে। তবে পাথরের আকার, অবস্থান এবং রোগীর উপসর্গের ওপর এটি নির্ভর করে। পাথর আটকে গেলে বা urinary blockage তৈরি করলে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনিতে পাথর হলে কোন ডাক্তার দেখাব?

কিডনিতে পাথরের জন্য সাধারণত Urologist দেখানো হয়। বিশেষ করে পাথর বড় হলে, urinary blockage থাকলে, বারবার পাথর হলে বা পাথর অপসারণের procedure দরকার হলে ইউরোলজিস্টের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।

কিডনিতে পাথর হলে কি দুধ বা calcium বন্ধ করতে হবে?

সবসময় নয়। Calcium stone হলেও খাদ্য থেকে calcium সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া সাধারণত নিজে থেকে করা উচিত নয়। আপনার পাথরের ধরন ও অন্যান্য ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসক বা dietitian খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন।

কিডনির পাথর আবার হতে পারে?

হ্যাঁ। একবার kidney stone হলে ভবিষ্যতে আবার পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাথরের ধরন শনাক্ত করা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও ওষুধ পরিবর্তন recurrence কমাতে সাহায্য করতে পারে।

কিডনির পাথরের সঙ্গে জ্বর হলে কী করবেন?

কিডনির পাথরের উপসর্গের সঙ্গে জ্বর বা কাঁপুনি থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। বিশেষ করে urinary blockage থাকলে infection গুরুতর হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনির পাথর কি কিডনি নষ্ট করতে পারে?

চিকিৎসা না করা বা জটিল কিডনি পাথর urinary blockage, infection এবং কিছু ক্ষেত্রে kidney function-এর ক্ষতি করতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ, urinary obstruction বা বারবার পাথর হলে চিকিৎসকের follow-up গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নোট

এই তথ্য সাধারণ স্বাস্থ্যশিক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। কিডনিতে পাথরের উপসর্গ অন্য urinary বা abdominal সমস্যার সঙ্গেও মিলতে পারে। তীব্র ব্যথা, জ্বর-কাঁপুনি, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত বমি বা প্রস্রাবে উল্লেখযোগ্য রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

Content prepared by: Doctors24 Editorial Team

Medical information is verified using registered doctor data and trusted healthcare sources

Information sources: Public records, hospital data, and provided credentials

Published At: August 16, 2026

Last updated: August 16, 2026 Read Editorial Policy →

Related Urologist Articles

View all →

Related Urologist Videos

View all →