হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনি: কারণ, স্ট্রোক নাকি নার্ভের সমস্যা? পরীক্ষা ও কোন ডাক্তার দেখাবেন

Doctors24 Editorial TeamAugust 18, 2026
bengali-numbness-and-stroke-awareness-infographic
Key Overview

"হাত-পা অবশ হওয়া, ঝিনঝিনি বা সুচ ফোটার মতো অনুভূতি (Pins and Needles) একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকার কারণে সাময়িকভাবে হ..."

হাত-পা অবশ হওয়া, ঝিনঝিনি বা সুচ ফোটার মতো অনুভূতি (Pins and Needles) একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় একই ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ বসে বা শুয়ে থাকার কারণে সাময়িকভাবে হাত-পা ঝিনঝিন করতে পারে। আবার বারবার বা দীর্ঘস্থায়ী ঝিনঝিনি ডায়াবেটিস, নার্ভের সমস্যা, ভিটামিনের ঘাটতি, ঘাড় বা কোমরের নার্ভ চেপে যাওয়াসহ বিভিন্ন রোগের লক্ষণ হতে পারে।

অন্যদিকে, হঠাৎ মুখ, হাত বা পায়ের এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে এর সঙ্গে কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া বা দৃষ্টির সমস্যা থাকলে এটি স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের অবস্থায় অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনি কেন হয়?

হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনির কারণ অনেক ধরনের হতে পারে। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে বা শুয়ে থাকা

  • কোনো নার্ভের ওপর চাপ পড়া

  • ঘাড় বা কোমরের নার্ভ চেপে যাওয়া

  • ডায়াবেটিসজনিত নার্ভের ক্ষতি

  • Vitamin B12-এর ঘাটতি

  • থাইরয়েডের সমস্যা

  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ

  • নার্ভে আঘাত

  • Carpal Tunnel Syndrome

  • Sciatica

  • কিছু অটোইমিউন বা স্নায়ুর রোগ

  • বিরল ক্ষেত্রে স্ট্রোক বা TIA

দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হওয়া ঝিনঝিনিকে শুধু “রক্ত চলাচল কম” বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

হাত-পা অবশ হওয়া কি স্ট্রোকের লক্ষণ?

হতে পারে। তবে সব ধরনের অবশভাব স্ট্রোকের কারণে হয় না।

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে অবশভাব বা দুর্বলতা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং শরীরের এক পাশকে বেশি আক্রান্ত করতে পারে। এর সঙ্গে মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, বুঝতে সমস্যা, দৃষ্টির পরিবর্তন, মাথা ঘোরা বা হাঁটতে সমস্যা থাকতে পারে।

স্ট্রোক বোঝার জন্য FAST মনে রাখুন

F — Face: মুখের এক পাশ বেঁকে গেছে বা হাসতে সমস্যা হচ্ছে?

A — Arms: একটি হাত দুর্বল বা অবশ? দুই হাত সমানভাবে তুলতে পারছেন না?

S — Speech: কথা জড়িয়ে যাচ্ছে বা কথা বলতে/বুঝতে সমস্যা হচ্ছে?

T — Time: এসবের কোনোটি হঠাৎ শুরু হলে সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

গুরুত্বপূর্ণ: লক্ষণ কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে চলে গেলেও সেটিকে অবহেলা করা যাবে না। এটি TIA বা “মিনি-স্ট্রোক” হতে পারে এবং পরবর্তী স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

স্ট্রোকের অবশভাব আর নার্ভের সমস্যার পার্থক্য কী?

শুধু লক্ষণ দেখে সব সময় নিশ্চিতভাবে পার্থক্য করা যায় না। তবে কিছু বৈশিষ্ট্য চিকিৎসককে কারণ বুঝতে সাহায্য করে।

বৈশিষ্ট্য

স্ট্রোক/TIA

নার্ভের সমস্যা

শুরু

সাধারণত হঠাৎ

ধীরে ধীরে বা বারবার হতে পারে

আক্রান্ত অংশ

প্রায়ই শরীরের এক পাশ

নির্দিষ্ট নার্ভ বা হাত-পায়ের নির্দিষ্ট অংশ

মুখ বেঁকে যাওয়া

হতে পারে

সাধারণত নয়

কথা জড়িয়ে যাওয়া

হতে পারে

সাধারণত নয়

দৃষ্টির সমস্যা

হতে পারে

সাধারণত নয়

দীর্ঘদিনের ঝিনঝিনি

সাধারণ বৈশিষ্ট্য নয়

বেশি দেখা যায়

ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্ক

ঝুঁকি বাড়ায়

খুব সাধারণ কারণ

এই পার্থক্যগুলো কেবল ধারণা দেওয়ার জন্য। হঠাৎ নতুন অবশভাব হলে নিজে থেকে কারণ নির্ধারণ করা উচিত নয়।

ডায়াবেটিসে হাত-পা ঝিনঝিনি কেন হয়?

দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করা বেশি থাকলে শরীরের বিভিন্ন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একে Diabetic Peripheral Neuropathy বলা হয়।

এতে বিশেষ করে পা ও পায়ের পাতায়—

  • ঝিনঝিনি

  • অবশভাব

  • জ্বালাপোড়া

  • সুচ ফোটার মতো অনুভূতি

  • ব্যথা

  • গরম-ঠান্ডা অনুভূতি কমে যাওয়া

ইত্যাদি হতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়ায় ছোট ক্ষতও রোগী টের নাও পেতে পারেন। তাই নিয়মিত পা পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ঘাড় বা কোমরের নার্ভ চেপে গেলে কি হাত-পা অবশ হতে পারে?

হ্যাঁ। ঘাড়ের নার্ভে চাপ পড়লে হাত বা আঙুলে ব্যথা, অবশভাব ও ঝিনঝিনি হতে পারে। একইভাবে কোমরের নার্ভে চাপ পড়লে কোমর থেকে পা বা পায়ের পাতার দিকে ব্যথা ও ঝিনঝিনি ছড়িয়ে যেতে পারে। Sciatica এর একটি উদাহরণ।

কিছু ক্ষেত্রে ঘাড় বা মেরুদণ্ডের সমস্যায় হাত-পায়ের দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ থাকলে নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

Vitamin B12-এর ঘাটতিতে কি হাত-পা ঝিনঝিনি হয়?

হ্যাঁ। Vitamin B12-এর ঘাটতি স্নায়ুর কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাবের মতো উপসর্গ তৈরি করতে পারে।

তবে শুধু ঝিনঝিনি থাকলেই B12-এর ঘাটতি হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে কারণ নিশ্চিত করা হয়।

হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনি হলে কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণ হঠাৎ শুরু হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন—

  • শরীরের এক পাশের হাত বা পা অবশ/দুর্বল হয়ে যাওয়া

  • মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া

  • কথা জড়িয়ে যাওয়া

  • কথা বুঝতে বা বলতে সমস্যা

  • হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা ঝাপসা দেখা

  • হঠাৎ মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো

  • হাঁটতে সমস্যা হওয়া

  • হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা

  • অজ্ঞান হওয়া বা চেতনার পরিবর্তন

এগুলো স্ট্রোক বা TIA-এর লক্ষণ হতে পারে। লক্ষণ নিজে থেকে কমে গেলেও জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন।

হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনি হলে কী কী পরীক্ষা করবেন?

সব রোগীর একই পরীক্ষা লাগে না। চিকিৎসক উপসর্গের ধরন, কখন শুরু হয়েছে, কোন অংশ আক্রান্ত এবং অন্যান্য রোগের ইতিহাস দেখে পরীক্ষা নির্বাচন করেন।

Neurological Examination

প্রথমে চিকিৎসক—

  • পেশির শক্তি

  • অনুভূতি

  • Reflex

  • ভারসাম্য

  • হাঁটার ধরন

  • সমন্বয়

পরীক্ষা করতে পারেন।

Blood Sugar ও HbA1c

ডায়াবেটিস বা দীর্ঘদিনের রক্তে শর্করার সমস্যা আছে কি না তা মূল্যায়নে Fasting Blood Sugar, Random Blood Sugar বা HbA1c করা হতে পারে।

Vitamin B12

অবশভাব বা ঝিনঝিনির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে Vitamin B12-এর ঘাটতি সন্দেহ হলে পরীক্ষা করা হতে পারে।

Thyroid Function Test

থাইরয়েডের সমস্যা সন্দেহ হলে TSH এবং প্রয়োজনে Free T4 পরীক্ষা করা হতে পারে।

CBC ও অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা

রোগীর ইতিহাস অনুযায়ী CBC, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা, ইলেক্ট্রোলাইট বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। Peripheral neuropathy-এর কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়।

Nerve Conduction Study ও EMG

নার্ভের কার্যকারিতা ও পেশির সঙ্গে নার্ভের সংযোগ মূল্যায়নে Nerve Conduction Study (NCS) এবং Electromyography (EMG) করা হতে পারে।

বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী বা কারণ পরিষ্কার না হওয়া অবশভাব ও ঝিনঝিনিতে এগুলো উপকারী হতে পারে।

MRI বা CT Scan

যদি স্ট্রোকের সন্দেহ থাকে, চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে CT বা MRI Brain করতে পারেন। স্ট্রোকের ধরন ও কারণ নির্ণয়ে brain imaging গুরুত্বপূর্ণ।

ঘাড় বা কোমরের নার্ভ চেপে যাওয়ার সন্দেহ থাকলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী MRI Spine বিবেচনা করা হতে পারে।

ECG ও অন্যান্য পরীক্ষা

স্ট্রোক বা TIA-এর ক্ষেত্রে কারণ অনুসন্ধানে ECG এবং অন্যান্য হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনির চিকিৎসা

চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে কারণের ওপর নির্ভর করে।

সাময়িক ঝিনঝিনি হলে

একই ভঙ্গিতে বসে বা শুয়ে থাকার কারণে হলে অবস্থান পরিবর্তন করলে সাধারণত ধীরে ধীরে অনুভূতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। বারবার হলে কারণ খুঁজে দেখা উচিত।

ডায়াবেটিসজনিত নার্ভের সমস্যা হলে

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, জীবনযাপন পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে নার্ভের ব্যথা কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

Vitamin B12-এর ঘাটতি হলে

ঘাটতির মাত্রা ও কারণ অনুযায়ী Vitamin B12 চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নার্ভ চেপে গেলে

কারণ অনুযায়ী বিশ্রাম, ফিজিওথেরাপি, ওষুধ বা অন্য চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে বিশেষায়িত চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারও লাগতে পারে।

স্ট্রোক হলে

স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। ইস্কেমিক ও হেমোরেজিক স্ট্রোকের চিকিৎসা এক নয়। তাই বাড়িতে নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।

হাত-পা ঝিনঝিনি হলে কী করবেন?

  • বারবার বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

  • পায়ের অনুভূতি কমে গেলে প্রতিদিন পা পরীক্ষা করুন।

  • পর্যাপ্ত ও সুষম খাবার গ্রহণ করুন।

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া Vitamin বা স্নায়ুর ওষুধ শুরু করবেন না।

  • দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে বসে বা শুয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।

  • হঠাৎ একপাশ অবশ হলে কোনোভাবেই অপেক্ষা করবেন না।

হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনি হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?

দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হাত-পা অবশ/ঝিনঝিনি হলে নিউরোলজিস্ট (Neurologist) দেখানো সবচেয়ে উপযুক্ত।

প্রয়োজনে—

  • নিউরোলজিস্ট: নার্ভ, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের রোগের মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য।

  • মেডিসিন বিশেষজ্ঞ: প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং ডায়াবেটিস, থাইরয়েডসহ অন্যান্য কারণ অনুসন্ধানে।

  • এন্ডোক্রিনোলজিস্ট: ডায়াবেটিস বা হরমোনজনিত কারণ থাকলে।

  • অর্থোপেডিক/স্পাইন বিশেষজ্ঞ: ঘাড় বা কোমরের গঠনগত সমস্যায় নার্ভ চেপে গেলে।

  • ফিজিওথেরাপিস্ট: চিকিৎসকের নির্ণয়ের পর প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বাসনে।

তবে হঠাৎ একপাশের হাত-পা অবশ বা দুর্বল হয়ে গেলে সরাসরি জরুরি বিভাগে যেতে হবে—সাধারণ চেম্বারে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।

প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

হাত-পা ঝিনঝিনি হলেই কি স্ট্রোক হয়েছে?

না। দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থায় থাকা, নার্ভ চেপে যাওয়া, ডায়াবেটিস, Vitamin B12-এর ঘাটতি ও অন্যান্য কারণেও ঝিনঝিনি হতে পারে। তবে হঠাৎ শরীরের এক পাশে অবশভাব বা দুর্বলতা হলে স্ট্রোক জরুরি ভাবে বিবেচনা করতে হবে।

স্ট্রোকের অবশভাব কেমন হয়?

স্ট্রোকে অবশভাব বা দুর্বলতা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং শরীরের এক পাশ—মুখ, হাত বা পা—আক্রান্ত হতে পারে। কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া বা দৃষ্টির সমস্যাও থাকতে পারে।

ডায়াবেটিসে হাত-পা ঝিনঝিনি হয় কেন?

দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে Peripheral Neuropathy হতে পারে। এতে বিশেষ করে পা ও পায়ের পাতায় ঝিনঝিনি, জ্বালাপোড়া বা অবশভাব দেখা দিতে পারে।

হাত-পা ঝিনঝিনি হলে কোন পরীক্ষা করবেন?

কারণ অনুযায়ী Blood Sugar/HbA1c, Vitamin B12, TSH, CBCসহ বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজনে NCS/EMG, MRI বা CT Scan করা হয়।

হাত-পা অবশ হলে MRI কি করতেই হবে?

না। সব রোগীর MRI প্রয়োজন হয় না। স্ট্রোক, মেরুদণ্ড বা নার্ভের নির্দিষ্ট সমস্যা সন্দেহ হলে চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী MRI বা CT Scan নির্ধারণ করেন।

হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনি হলে কোন ডাক্তার দেখাবেন?

দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হলে নিউরোলজিস্ট দেখানো সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে হঠাৎ একপাশ অবশ, মুখ বেঁকে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ হলে সরাসরি জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

হাত-পা অবশ বা ঝিনঝিনি হওয়ার কারণ সাধারণও হতে পারে, আবার কখনো এটি গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ একপাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া হলে সময় নষ্ট না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

আর যদি ঝিনঝিনি দীর্ঘদিন থাকে বা বারবার ফিরে আসে, তাহলে একজন নিউরোলজিস্ট দেখিয়ে কারণ নির্ণয় করা উচিত।

আপনার এলাকার অভিজ্ঞ নিউরোলজিস্ট (Neurologist) বা প্রয়োজনীয় অন্য বিশেষজ্ঞ খুঁজে পেতে Doctors24-এর ডাক্তার ডিরেক্টরি ব্যবহার করতে পারেন।

মেডিক্যাল ডিসক্লেইমার

এই নিবন্ধটি সাধারণ স্বাস্থ্য তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। হঠাৎ মুখ, হাত বা পায়ের এক পাশ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দৃষ্টির পরিবর্তন, ভারসাম্য হারানো বা হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন। লক্ষণ পরে কমে গেলেও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি, কারণ এটি TIA-এর লক্ষণ হতে পারে।

Content prepared by: Doctors24 Editorial Team

Medical information is verified using registered doctor data and trusted healthcare sources

Information sources: Public records, hospital data, and provided credentials

Published At: August 18, 2026

Last updated: August 18, 2026 Read Editorial Policy →

Related Neurologist Articles

View all →

Related Neurologist Videos

View all →